সহকারী শিক্ষক
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
গভীর রাতের নিস্তব্ধতা
অপরূপা,
গভীর রাত! নিস্তব্ধ শহর! চোখ দুটি ভিজে আছে! সাথে জ্বলছে ও। শহরে আজ আর মানুষ নেই।মানুষ সবাই যার যার বাসায় বা বাড়িতে চলে গেছে! সমস্ত শহর যেখানে ঘুমিয়ে গেছে সেখানে আমার দুচোখ ঘুম নেই। আছে শুধুই কান্না। আপনি রূপার কথা জানতে চেয়েছিলেন! হাজার বছর ধরে তার সম্পর্কে বললেও সামান্যই বলা হবে! সে আমার আঁধার জীবনের সোডিয়াম আলো! আমার নিভু নিভু জীবনের একমাত্র আশা। যদিও সে আমার জীবন থেকে অনেক অনেক দূরে! ইচ্ছে করলেই তাকে দেখা যাবেনা, কন্ঠ শোনা যাবে না! সে হাজার মাইল দূরে!
তবু জানেন, অপরূপা,
এই দূরত্বই বোধহয় তাকে আরও কাছের করে রেখেছে আমার ভেতরে।সে নেই বলেই প্রতিটি রাতে তার উপস্থিতি এত তীব্র লাগে।
নিস্তব্ধ শহরের প্রতিটি বাতি যেন তারই নাম উচ্চারণ করে,
আর প্রতিটি অন্ধকার গলি আমার বুকের ভেতরকার শূন্যতাকে চিনে ফেলে।
আমি জানি, এই অপেক্ষার কোনো নির্দিষ্ট শেষ নেই।
এই কান্নারও হয়তো নেই কোনো ঠিকানা।
তবু আমি অপেক্ষা করি—
কারণ রূপা অপেক্ষার মধ্যেই বেঁচে থাকে,
আর আমি বেঁচে থাকি তার স্মৃতির আলোয়।
হাজার মাইল দূরত্বও কখনো কখনো হার মানে,যখন স্মৃতি এসে চুপচাপ পাশে বসে।সে কথা বলে না,
শুধু চোখের জল মুছে দিয়ে আবার মনে করিয়ে দেয়!
আর আমি থেকে যাই।
রাত তখন আরও গভীর হয়,
শহর নয়—আমিই ঘুমিয়ে পড়তে ভুলে যাই।
চারপাশে দেয়াল আছে, ছাদ আছে,
কিন্তু কোথাও মানুষ নেই।
একটা নাম বুকের ভেতর ঘুরে ঘুরে মরছে,
ডাক দিচ্ছে—কেউ শোনে না।
আমি জানি, সে ফিরবে না,
জানি—এই একাকিত্বের কোনো সাক্ষী নেই।
তবু প্রতিটি রাত আমি নিজের সাথে কথা বলি,
কারণ এই পৃথিবীতে
আমার নিঃশ্বাস শোনার মতো
এখন আর কেউ নেই।
জীবনের এই অবেলায় ছটফট করতে করতে বেচে থাকার নাম যদি জীবনই হয়,তবে আমি এক অদ্ভুত জীবিত প্রাণ!
ভালো থাকবেন অপরূপা! আবার কোন এক গভীর রাতে,মন খারাপ হলে,কলম নিয়ে বসব,ঠিক আজকের মতো দু'কলম লেখার জন্য।
সমাপ্তির গল্প!
১৫
২৫ মন্তব্য