সহকারী শিক্ষক
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:৫৩ অপরাহ্ণ
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও কালজয়ী ঔপন্যাসিক, যিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত [১, ২]। তিনি গ্রামীণ জীবন, নারীর মর্মস্পর্শী অনুভূতি এবং সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন [৬, ১৩]। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে 'দেবদাস', 'চরিত্রহীন', 'শ্রীকান্ত', 'পথের দাবী', এবং 'গৃহদাহ' উল্লেখযোগ্য, যা আজও পাঠকপ্রিয় [১২]।
জন্ম ও শৈশব:
জন্ম: ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে [২]।
পিতা-মাতা: পিতা মতিলাল চট্টোপাধ্যায় এবং মাতা ভুবনমোহিনী দেবী [৩]।
শৈশব: দারিদ্র্যের মধ্যে কেটেছে এবং বেশিরভাগ সময় মাতুলালয়ে (ভাগলপুর) অতিবাহিত হয়েছে [৩, ১৩]।
শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন:
১৮৯৪ সালে এন্ট্রাস পাস করার পর এফ.এ. ক্লাসে ভর্তি হলেও দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় [১৩]।
১৯০৩ সালে তিনি বার্মায় (বর্তমান মিয়ানমার) যান এবং রেঙ্গুন পাবলিক ওয়ার্কস অ্যাকাউন্টস অফিসে দীর্ঘ ১৩ বছর চাকরি করেন [৪, ১৪]।
পরে তিনি লেখালেখিতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার জন্য কলকাতায় ফিরে আসেন [১৪]।
সাহিত্যকর্ম ও অবদান:
বাংলা সাহিত্যে তিনি গ্রামীণ মানুষের সহজ-সরল জীবনের পাশাপাশি সমাজের শোষিত-বঞ্চিত শ্রেণি ও নারীর অবস্থান তুলে ধরেন [৬]।
উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: বড়দিদি, বিরাজ বৌ, পল্লীসমাজ, দেবদাস, চরিত্রহীন, শ্রীকান্ত (চার খণ্ডে), পথের দাবী, শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি [১১, ১২]।
পুরস্কার: ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী পদক' এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন [৭, ১৩]।
ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু:
তিনি হিরন্ময়ী দেবীকে বিয়ে করেন [৫, ১৫]।
সাহিত্যকৃতির পাশাপাশি তিনি গান-বাজনা ও অভিনয়ে দক্ষ ছিলেন [৭]।
১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ৬১ বছর বয়সে এই মহান সাহিত্যিক শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন [২]।
তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো—যেমন দেবদাস, পারু, রাজলক্ষ্মী—বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে।
৪
৪ মন্তব্য