সহকারী শিক্ষক
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ণ
জিরা ভিজিয়ে পানি পান করার উপকারিতা
জিরার ভিজিয়ে পান করার উপকারিতা!
রাতটা বেশ নিরব।
ঘড়ির কাঁটা বারো ছুঁই ছুঁই। ঘুম আসছে না। কাশি যেন ঘড়ির কাঁটার মতো—নিয়ম মেনে ফিরে ফিরে আসে।
দিন যায়, রাত যায়—কাশি যায় না।
চা, আদা, লেবু—সব চেষ্টা ব্যর্থ।
এমন সময় ছোট ভাই আবু রায়হান পাশে এসে বসল।
নরম গলায় বলল, “ভাই, রাতে একটু জিরা ভিজিয়ে রাখেন। সকালে সেই পানি খান।”
আমি হেসে ফেলেছিলাম।
এ যুগে আবার জিরা?
কিন্তু যখন কিছুই কাজ করে না, তখন মানুষ বিশ্বাস করতে শেখে।
সেই রাতেই এক গ্লাস পানিতে এক চামচ জিরা ভিজিয়ে রাখলাম।
জিরাগুলো পানির তলায় নিশ্চুপ পড়ে রইল—যেন কোনো পুরোনো ঘরোয়া চিকিৎসা কথা বলার অপেক্ষায়।
সকালে উঠে ছেঁকে সেই পানি খেলাম।
স্বাদে তেমন কিছু নেই, তবু মনে হলো গলার ভেতর কোথাও একটা শান্তি নামছে।
সারাদিন কাশি হলো, কিন্তু আগের মতো নয়।
রাতটা একটু কম কষ্টের।
পরের দিন আবার একই কাজ।
সকালবেলার জিরা ভেজানো পানি।
দুপুর গড়াতেই বুঝলাম—কাশির দাপট কমছে।
গলা আর আগের মতো জ্বলছে না।
দুই দিন পর
কাশি যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
দিন-রাতের সেই অবিরাম শব্দ থেমে গেছে।
আমি তখন বুঝলাম,
জিরা শুধু রান্নার মসলা নয়।
এর ভেতরে লুকিয়ে আছে প্রদাহ কমানোর শক্তি,
গলা শান্ত করার ক্ষমতা,
আর শরীরকে ভেতর থেকে ঠিক করে দেওয়ার এক নীরব গুণ।
আবু রায়হানের দিকে তাকিয়ে বললাম,
“এই জিরার কথা বইয়ে নেই, কিন্তু জীবনে আছে।”
সে হেসে বলল,
“কিছু ওষুধ ফার্মেসিতে মেলে,
আর কিছু ওষুধ ঘরের কোণেই পড়ে থাকে।”
সেই দিন থেকে জিরাকে আর ছোট করে দেখি না।
কারণ কখনো কখনো
সাধারণ এক গ্লাস পানিই
সবচেয়ে বড় আরাম হয়ে ওঠে।
১
১ মন্তব্য