Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ

১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদানের লক্ষ্যে বাঙালি জাতির একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তান সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রচেষ্টা চালালে এ আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৮) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছল করলে পুলিশের গুলিতে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। 

ভাষা আন্দোলনের মূল বিস্তারিত বিবরণ:

প্রেক্ষাপট (১৯৪৭-১৯৫১): ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি (প্রায় ৫৪%) তাদের মাতৃভাষার দাবিতে সোচ্চার হয়, যা শুরু হয় তমুদ্দুন মজলিশ গঠনের মাধ্যমে। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করলে আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়।

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন পুনরায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা ঘোষণা করলে ছাত্রসমাজ গর্জে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

রক্তস্নাত ২১শে ফেব্রুয়ারি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে ছাত্রদের একটি বিশাল মিছিল বের হলে পুলিশ গুলি চালায়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে রফিক, বরকত, জব্বার, সালাম, শফিউরসহ অনেকে শহীদ হন।

আন্দোলনের ফলাফল: ২১শে ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে পাকিস্তান সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়, যা ১৯৫৬ সালের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

স্মরণীয়: এই আন্দোলনের স্মরণে ২১শে ফেব্রুয়ারি 'শহীদ দিবস' হিসেবে পালিত হয় এবং পরবর্তীতে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। 

এই আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার জন্ম দেয়, যা পরবর্তীকালে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ