সহকারী শিক্ষক
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:০৭ অপরাহ্ণ
আব্দুল মান্নান ও জলবায়ুর পরিবর্তন
আব্দুল মান্নান ও জলবায়ু পরিবর্তন!
পাইকগাছা জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছি। ইজি বাইক কিংবা ভ্যানের অপেক্ষা। সময়টা দুপুর গড়িয়ে বিকেল। রোদের তেজ কমলেও বাতাসে একটা অস্বস্তি আছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। হঠাৎ একটা ভ্যান এসে থামল।
কতদূর যাবেন?
ভ্যানচালক জিজ্ঞেস করলেন।
আমি বললাম,
আমি মাহমুদকাটি যাব। ভাড়া একটু বেশি নিয়েন, সমস্যা নেই।
তিনি মৃদু হাসলেন। বললেন,
ভাই, আমার গাড়িতে যতদূর চার্জ থাকবে, ততদূরই যেতে পারব।
ঠিক আছে, আমি বললাম।
ভ্যান চলতে শুরু করল। পিচের রাস্তা দিয়ে আমরা এগোচ্ছি। চারপাশে ধানক্ষেত, জলাশয়, দূরে কয়েকটা গাছ—সব মিলিয়ে চেনা গ্রামবাংলা। কিন্তু হঠাৎ ভ্যানচালক নিজে থেকেই কথা শুরু করলেন। তাঁর নাম আব্দুল মান্নান।
তিনি বললেন,
আমরা সমতল ভূমির মানুষ। ইচ্ছেমতো যেকোনো ফসল উৎপাদন করতে পারি। এক সময় বছরে তিন ফসল হতো। কিন্তু আমাদের কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন হয়েছে।
আমি চুপচাপ শুনছি।
তিনি আবার বললেন,
আমরা গাছ কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করেছি। নদী ভরাট করেছি, খাল-বিল দখল করেছি। তাই আমাদের ছয় ঋতু আর আগের মতো নেই। বর্ষা আসে ঠিকই, কিন্তু ঠিক সময়ে আসে না। শীতও আর আগের মতো শীত থাকে না।
ভ্যানের শব্দের ফাঁকে ফাঁকে তাঁর কণ্ঠে একটা দীর্ঘশ্বাস মিশে থাকে।
আর সাগর? তিনি বললেন,
সাগরের গভীরতা কমে যাচ্ছে না,আসলে আমরা ভাবছি কমছে। লবণাক্ততা বাড়ছে, জোয়ার-ভাটার রূপ বদলে যাচ্ছে। উপকূলের মানুষ দিন দিন অসহায় হয়ে পড়ছে।
আমি দূরে তাকালাম। মনে হলো প্রকৃতি যেন নীরবে সব শুনছে। আমাদের ভুল, আমাদের লোভ, আমাদের উদাসীনতা।
আব্দুল মান্নান কথা শেষ করলেন এই বলে
ভাই, প্রকৃতি কাউকে ক্ষমা করে না। আমরা যতটা নষ্ট করেছি, তার হিসাব একদিন ঠিকই দিতে হবে।
ভ্যান থামল মাহমুদকাটিতে। আমি নেমে পড়লাম। ভাড়া দিলাম। কিন্তু মনে হলো, আমি শুধু ভাড়া নয়,একটা গভীর উপলব্ধিও নিয়ে নামলাম।
সাধারণ এক ভ্যানচালক, কিন্তু তাঁর কথায় ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম সত্য।
আব্দুল মান্নানের মতো মানুষরাই আসলে আমাদের নীরব সতর্কবার্তা।
১৫
২৫ মন্তব্য