সহকারী শিক্ষক
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
তুহিন আর কর্টিসলের কাজ
তুহিন আর কর্টিসলের কাজ!
শিক্ষক হিসেবে কখনোই ভালো না। তেমন বিশেষ গুণ ও আমার নেই। সম্ভবত শিক্ষাকতা আমার অর্থ উপার্জন এর একটা উপায়। মাস গেলেই একাউন্টে টাকা চলে আসে! কিন্তু আমার দায়িত্ব? হা হা হা! আসলেই দায়িত্ব এড়িয়ে যায়! কিন্তু আমার যে থাকা দরকার, শিশুদের জন্য হাজারো দায়িত্ব! চোখ দুটি ভিজে যায়! শুধু কি নিজের সন্তানকে বুঝেছি? অন্যের সন্তান? এমন হাজারো প্রশ্ন! এই সমাজে,শিক্ষকতা পেশাটাই সবচেয়ে কঠিন ও জটিল বিষয়!
তুহিন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। খুব ভালো ছেলে, কিন্তু একটু ভয় পায়।
শিক্ষক প্রশ্ন করলে মাথা নিচু করে থাকে।
ভাবতে থাকে“ভুল হলে সবাই হাসবে না তো?”
একদিন স্যার বললেন,
“তুহিন, আজ তুমি বোর্ডে অঙ্কটা করবে।”
তুহিনের বুক ধকধক করতে লাগল।
ঠিক তখনই তার শরীরের ভেতর থেকে এক পরিচিত বন্ধু জেগে উঠল।
তার নাম কর্টিসল।
কর্টিসল ফিসফিস করে বলল,
“ভয় পাস না। এটা ছোট চ্যালেঞ্জ। আমি তোমাকে সাহায্য করব।”
সে তুহিনের মস্তিষ্ককে একটু বেশি সতর্ক করল,
হাত-পা শক্ত করল,
মনোযোগ বাড়িয়ে দিল।
তুহিন বোর্ডে উঠে অঙ্কটা করল।
একটু ভুল হলো।
কিন্তু স্যার হাসিমুখে বললেন,
“ভালো চেষ্টা! এবার ঠিক হয়ে গেছে।”
এই কথাটা শুনে কর্টিসল হালকা হয়ে গেল।
সে বলল,“দেখলে! চাপটা ছিল ভালো চাপ।”
পরদিন স্যার তুহিনকে বললেন,
“আজ তুমি গল্প পড়বে।”
তুহিন ভাবল,
“গতকাল পেরেছি, আজও পারব।”
প্রতিদিন একটু একটু করে তুহিন চ্যালেঞ্জ নিতে লাগল,
গল্প পড়া,
দলনেতা হওয়া,
খেলায় অংশ নেওয়া।
কর্টিসল তখন ঠিক মাত্রায় কাজ করল।
ভয় বাড়াল না,
বরং সাহস আর আত্মবিশ্বাস বানাল।
কিন্তু একদিন এক বড় ভাই খুব বকাঝকা করল।
ভুল হলেই চিৎকার।
তখন কর্টিসল কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“এটা বেশি চাপ। এতে আমি ক্ষতি করি।”
তুহিন মন খারাপ করে ফেলল।
সেদিন স্যার বুঝলেন।
তিনি বললেন,
“শিশুদের ভয় নয়, সাহস দরকার।”
এরপর থেকে স্যার দিলেন,
ছোট কাজ
বেশি প্রশংসা
খেলাধুলার সুযোগ
তুহিন আবার হাসল।
কর্টিসল শান্ত হয়ে বলল,
“এই পরিবেশেই আমি ঠিকভাবে কাজ করি।”
১৫
২৫ মন্তব্য