Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

গ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট

বাংলাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট হলো একটি বিশেষ সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি, যার মাধ্যমে অপরাধের ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার সম্পন্ন করা হয় । মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর অধীনে এই আদালত পরিচালিত হয়। 

প্রধান বৈশিষ্ট্য ও ক্ষমতা

বিচারক: সাধারণত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ এই আদালত পরিচালনা করেন।

শাস্তির সীমা: ভ্রাম্যমাণ আদালত সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করতে পারে। জরিমানার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী যেকোনো পরিমাণ অর্থদণ্ড আরোপ করা সময়।

তাৎক্ষণিক বিচার: অপরাধীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বা ক্ষেত্রবিশেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই দণ্ড প্রদান ও তা কার্যকর করা হয়।

পরিধি: এই আদালত মূলত খাদ্যে ভেজাল, ইভটিজিং, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ভোক্তা অধিকার রক্ষা, পরিবেশ দূষণ এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ অপরাধগুলো নিয়ে কাজ করে। 

বিচার পদ্ধতি ও প্রতিকার

স্বীকারোক্তি: সাধারণত অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করলে ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ড দেন। যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার না করেন, তবে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে মুক্তি দিতে পারেন অথবা নিয়মিত আদালতে মামলা স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।

আপিল: ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে কেউ সন্তুষ্ট না হলে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপিল করতে পারেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে রিট করার সুযোগ রয়েছে। 

সাম্প্রতিক আপডেট (২০২৫-২৬)

সংস্কার প্রস্তাব: বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদানের ক্ষমতা বাতিলের সুপারিশ করেছে। কমিশনের মতে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জেল দেওয়ার ক্ষমতা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

আইন প্রয়োগ: বর্তমানে পলিথিন বর্জন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাল মোবাইল ফোন বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 


মন্তব্য করুন