প্রভাষক
৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
গ্রাম আদালত আইন ২০০৬
গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ (২০০৬ সালের ১৯ নং আইন) অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয় ছোটখাটো ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ দ্রুত ও সুলভে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই আদালত গঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উভয় পক্ষের মনোনীত ২ জন করে মোট ৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই আদালত সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বা বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে।
গ্রাম আদালতের মূল বৈশিষ্ট্য ও গঠন: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বিবাদী ও অভিযোগকারী পক্ষের মনোনীত ২ জন করে মোট ৪ জন প্রতিনিধি (সদস্য) এবং চেয়ারম্যান নিয়ে ৫ সদস্যের এই আদালত গঠিত হয়।
বিচারযোগ্য বিষয় (তফসিল):
ফৌজদারি: সাধারণ মারামারি (ধারা ৩২৩), বে-আইনি সমাবেশ, অনধিকার প্রবেশ, চুরি, ক্ষতি সাধন, এবং ভয় দেখানোসহ ছোটখাটো ফৌজদারি অপরাধ।
দেওয়ানি: চুক্তি বা দলিল অনুযায়ী পাওনা টাকা আদায়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার, গবাদি পশু আটক (Cattle-trespass) ও কৃষি শ্রমিকের মজুরি সংক্রান্ত বিরোধ।
মামলা দায়ের ও খরচ: থানায় না গিয়ে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে হয়। সাধারণ মামলার জন্য ১০ টাকা এবং দেওয়ানি মামলার জন্য ২০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনজীবী: গ্রাম আদালতে আইনজীবী নিয়োগ বা আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ নেই।
ক্ষমতা ও শাস্তি: সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারে। মিথ্যা মামলা করলে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
আপিল: গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্তে কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ হলে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত আদালতে (ফৌজদারি হলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দেওয়ানি হলে সহকারী জজ আদালত) আপিল করা যাবে।
উপকারিতা: গ্রামের মানুষের মামলার খরচ কমানো, দ্রুত নিষ্পত্তি, এবং স্থানীয়ভাবে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা।
গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ এর অধীনে মামলাগুলো সাধারণত স্থানীয়ভাবেই নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হয়, যা দীর্ঘসূত্রতা কমায়।
১৫
২৫ মন্তব্য