প্রভাষক
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০)
হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০) ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, একজন মহান সমাজ সংস্কারক এবং
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি মূলত বাংলার অবহেলিত মুসলিম সমাজকে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার থেকে মুক্ত করতে এবং নীলকর ও জমিদারদের শোষণ থেকে কৃষকদের বাঁচাতে আজীবন লড়াই করেছেন।
প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা
জন্ম: তিনি ১৭৮১ সালে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার (বর্তমান মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা) শামাইল গ্রামে এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা: গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতা ও পরে ১৮ বছর বয়সে মক্কায় যান। সেখানে তিনি প্রায় ২০ বছর (১৭৯৯-১৮১৮) অবস্থান করে ইসলামি দর্শন, আরবি ও ফারসি ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
ফরায়েজি আন্দোলন ও অবদান
১৮১৮ সালে মক্কা থেকে ফিরে তিনি লক্ষ্য করেন যে, তৎকালীন বাংলার মুসলমানরা প্রকৃত ইসলামি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে নানা কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি 'ফরায়েজি আন্দোলন' শুরু করেন।
ধর্মীয় সংস্কার: তিনি মুসলমানদের ইসলামের বাধ্যতামূলক কাজ বা 'ফরজ' পালনের ওপর গুরুত্ব দেন, যেখান থেকে এই আন্দোলনের নাম হয় 'ফরায়েজি'। তিনি শিরক ও বিদআত বর্জনের ডাক দেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রাম: তিনি ঘোষণা করেন যে ব্রিটিশ শাসিত ভারত মুসলমানদের জন্য 'দার-উল-হারব' বা শত্রু রাষ্ট্র, তাই সেখানে জুমার নামাজ ও ঈদের নামাজ পড়া জায়েজ নয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বীজ বপন করেন।
কৃষক অধিকার: তিনি নীলকর এবং হিন্দু ও মুসলিম জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে "জমি আল্লাহর দান," তাই জমিদারদের অতিরিক্ত খাজনা দেওয়ার বিরোধিতা করেন।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৮৪০ সালে বাহাদুরপুর গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে তার জন্মস্থান চর শামাইলে সমাহিত করা হয়। তার মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য পুত্র মুহম্মদ মহসীন উদ্দিন (দুদু মিয়া) এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং এটিকে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত রূপ দান করেন।
তার সম্মানে বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলা-র নামকরণ করা হয়েছে। তাকে বর্তমানে বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে গণ্য করা হয়।
১
২ মন্তব্য