Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ণ

হযরত আইয়ুব (আঃ)-এর শোকের সময়

হযরত আইয়ুব (আঃ)-এর শোকের সময়


হযরত আইয়ুব (আঃ) ছিলেন ধৈর্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবন একসময় ছিল প্রাচুর্যে ভরা। সন্তান, সম্পদ, সুস্বাস্থ্য, সম্মান সবকিছুই ছিল আল্লাহর নেয়ামত। ফসলভরা জমি, হাজারো পশুপাখি, বিশ্বস্ত চাকরবাকর এবং চৌদ্দটি সন্তান; পার্থিব দিক দিয়ে তাঁর কিছুই অভাব ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই একের পর এক পরীক্ষা নেমে এলো।  সংবাদ আসে—


সব গবাদিপশু মারা গেছে, খামার পুড়ে ছাই, চাষাবাদের জমিগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে আগুনে, এরপর একের পর এক চাকর ও সহচর নিহত হওয়ার সংবাদ আসতে লাগল। এখানেই শেষ নয়; একদিন এক ঝড়ের কবলে তাঁর ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে যেখানে তাঁর চৌদ্দজন সন্তানই একসাথে ছিলেন। সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে মুহূর্তে নিঃশেষ হয়ে গেল তাঁর সন্তানেরা।


এমন হৃদয়বিদারক শোকের সময়েও তিনি অভিযোগ করেননি। মানুষের মতো তাঁর হৃদয়েও কষ্ট ছিল, কিন্তু তাঁর জিহ্বায় ছিল না কোন হতাশার কথা, না কোন অভিশাপ। তিনি জানতেন, যিনি দিয়েছেন; তিনিই পরীক্ষা নিচ্ছেন। তাই তাঁর শোক ছিল নীরব, কিন্তু তাঁর বিশ্বাস ছিল দৃঢ়। তিনি শুধু কণ্ঠে বললেন:

إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّـا إِلَيْهِ رَاجِعونَ


“নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য, এবং আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব।”

— সূরা বাকারা: ১৫৬


এরপর এক সময় হযরত আইয়ুব (আঃ)-এর শরীরে শুরু হয় এক দুরারোগ্য চর্মরোগ। তাঁর সারা দেহে পচন ধরা শুরু করে, রক্ত ও মাংস ঝরে পড়তে থাকে। কিন্তু কি অবাক ব্যাপার, তিনি এমন অবস্থাতেও বললেন, “আমি আশি বছর সুস্থ জীবন কাটিয়েছি। এখন মাত্র সাত বছর কষ্ট পাচ্ছি। আমি কীভাবে অভিযোগ করব, কিভাবে অস্থির হয়ে দোয়া করব!” আর আমরা কত অল্পতেই অভিযোগ করা শুরু করি তাই না?! 


তবে একদিন একাকী হয়ে তিনি আল্লাহর কাছে ফিরে গেলেন। কোনো দাবি নয়, কোনো অভিযোগ নয়; শুধু বিনয়ের সাথে বললেন:


“হে আমার রব, আমাকে কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনি তো সর্বাধিক দয়ালু।”

(সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:৮৩)


এই দোয়াতেই লুকিয়ে ছিল তাঁর পুরো হৃদয়ের কথা। তিনি নিজের দুর্বলতা স্বীকার করলেন, আর আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখলেন। আল্লাহ তাঁর ধৈর্যকে অপমান করলেন না। সময় এলো, যখন সেই শোকের রাতগুলো শেষ হলো। আল্লাহ তাঁর কষ্ট দূর করে দিলেন, সুস্থতা দিলেন, আর হারানো নেয়ামতের চেয়েও বেশি ফিরিয়ে দিলেন। আল্লাহ তাঁকে তাঁর হারানো সব ধনসম্পদ, গবাদিপশু, জমিজমা ফিরিয়ে দিলেন আরও দ্বিগুণ করে। যেসব সন্তান এক ঝড়ে হারিয়ে গিয়েছিল, তাদের বদলে নতুন সন্তান দিলেন,তবে কিছু বর্ণনামতে, আল্লাহ হারানো সন্তানদেরই জীবিত করে ফিরিয়ে দেন। 


হযরত আইয়ুব (আঃ)-এর শোকের সময় আমাদের শেখায়—

শোক মানেই অভিযোগ নয়,

কষ্ট মানেই আল্লাহ থেকে দূরে যাওয়া নয়।


বরং সবচেয়ে ভারী দুঃখের মাঝেও,

যে হৃদয় আল্লাহর দিকে ফিরে যায়,

সেই হৃদয়ই সবচেয়ে শক্ত হয়।


সংগৃহীত 

মন্তব্য করুন

ব্লগ