প্রভাষক
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ও সংস্কার - নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা
বাংলাদেশে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করতে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন মৌলিক অধিকার (জীবন, বাক-স্বাধীনতা) ও নতুন নতুন অধিকার (অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম) সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক, আইনত বলবৎযোগ্য সনদ তৈরির প্রস্তাব করেছে, যা ২য় ও ৩য় ভাগের তারতম্য দূর করবে।
অধিকার ও সংস্কারের বিস্তারিত দিকসমূহ:
মৌলিক অধিকারের সংস্কার:
একীভূত সনদ: সংবিধানের দ্বিতীয় (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি) ও তৃতীয় ভাগের (মৌলিক অধিকার) সমন্বয় করে একটিমাত্র অধ্যায়ে 'মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা' অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব।
নতুন অধিকার: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, এবং ভবিষ্যতের প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন ধারা সংযুক্তির সুপারিশ।
জরুরি অবস্থা: জরুরি অবস্থাতেও জীবনের অধিকার (Right to life) এবং অনুচ্ছেদ ৩৫-এ বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না, এমন বিধান।
সংস্কারের মূলনীতি ও কাঠামো:
নতুন মূলনীতি: সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তাব।
আইনের শাসন: আইন ও বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বৈষম্য বিলোপ এবং তথ্য অধিকার আইন সংশোধন করে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি।
নারী-পুরুষের সমতা: সংবিধানে নারী-পুরুষের সম অধিকার সুদৃঢ়করণ।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের কাজের ফোকাস:
অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ও পুরনো আইনের সংস্কার করে ২১ শতকের উপযোগী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে এই সুপারিশসমূহ দাখিল করেছে।
প্রস্তাবিত অন্যান্য সংস্কার:
তথ্য কমিশন: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্য কমিশন ও তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার।
মানবাধিকার: মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনের আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ।
এই সংস্কারগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো, নাগরিকদের অধিকারসমূহ কেবল কাগজে-কলমে না রেখে, তা বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য (Enforceable) করা।
১
২ মন্তব্য