সহকারী শিক্ষক
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৬:৩৫ অপরাহ্ণ
শবে বরাত আর একটা আপ্যায়ন
শবে বরাত আর একটা আপ্যায়ন!
বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। সম্ভবত ২০১০ সাল হবে।আমাদের বাসার পাশে একজন বৃদ্ধা মহিলা থাকতেন। বয়স প্রায় সত্তর ছুঁইছুঁই। উল্লেখযোগ্য কোনো পেশা ছিল না।মানুষের কাছে হাত পাততেই হতো। পৃথিবীর বুকে তাঁর একমাত্র মেয়ের বাবার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। ফলে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোটানোই ছিল তাঁর নিত্যদিনের যুদ্ধ। সেই সংগ্রাম লুকোনো ছিল না, চোখে পড়ার মতোই ছিল।
সেবার শবে বরাতের সকালে তিনি আমাকে নিমন্ত্রণ করলেন।
আমি সাধারণত নিয়ন্ত্রণ মিস করি না। যথারীতি মাগরিবের পর গেলাম।
একটা মাদুর। বিদ্যুৎ নেই। হারিকেনের মৃদু আলোয় ঘরটা কাঁপা কাঁপা করে জ্বলছে।
আমি মাদুরের ওপর বসলাম।
তারপর যা দেখলাম—
পিঠা, পায়েস, রুটি, আর হাঁসের গোশত!
এক মুহূর্তে আমি বাকরুদ্ধ।
এত কিছু?
অবিশ্বাস্য লাগছিল। কারণ এই মানুষটার নিজের মাথা রাখার মতো ভালো একটা বালিশও নেই। শীতের রাতে গা ঢাকার মতো মোটা কাঁথাও না। অথচ আজ তিনি অতিথির জন্য রাজকীয় আয়োজন করেছেন।
তিনি নিজে বসেননি। দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
বারবার বলছিলেন—
“আর নেন বাবা, কম হইছে বুঝি?”
আমি থালার দিকে তাকাতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল, প্রতিটা লোকমা যেন তাঁর না-খাওয়া দিনের হিসাব।
আমি বললাম,
“আপনি খাবেন না?”
খুব সাধারণ স্বরে উত্তর এল,
“আমি পরে খাবো। আজ শবে বরাত। আল্লাহ দিলে ঠিকই হবে।”
সেই রাতে বুঝেছিলাম—
দান সবসময় টাকার হয় না,
কিছু দান মানুষ নিজের অভাব ভেঙে দেয়।
আজও শবে বরাত এ পিঠা-পায়েসের গন্ধ পেলেই মনে পড়ে যায় সেই হারিকেনের আলো, সেই মাদুর, আর একজন নিঃস্ব মানুষের অঢেল হৃদয়।
কিছু আপ্যায়ন পেট ভরায়,
আর কিছু আপ্যায়ন মানুষ বানিয়ে দেয়।
১
১ মন্তব্য