Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ

ব্ল্যাকহোলের মুখে নক্ষত্রের 'মৃত্যু-নাচ': আলোর বেগের প্রায় সাত শতাংশ গতিতে ছুটছে S62 নক্ষত্র !


আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে, যেখানে নক্ষত্রদের ভিড় আর মহাকর্ষের আদিম উল্লাস চলে সেখানে লক্ষ্য করা যায় এক মহাজাগতিক বিস্ময়! আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে স্যাজিটারিয়াস এ স্টার (Sgr A)* নামক দানবীয় ব্ল্যাকহোলটিকে কেন্দ্র করে ঘুরছে অসংখ্য নক্ষত্র। কিন্তু তাদের সবার ভিড়ে S62 এর গল্পটা ভয়ানক রোমাঞ্চকর। এই নক্ষত্রটি যেন এক মহাজাগতিক দৌড়বিদ, যে মৃত্যুর খুব কাছ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২০,০০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলেছে। 


আলোর গতির প্রায় ৬.৭ শতাংশ বেগে ধাবমান এই নক্ষত্রটি যখন ব্ল্যাকহোলের সবচেয়ে কাছে পৌঁছায়, তখন আমাদের পরিচিত পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মগুলো সামঞ্জস্যতা হারিয়ে ফেলে। মহাকাশের এই উত্তেজনাময় পরিবেশে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ অনুযায়ী সময় আর স্থির থাকে না, এই গতিতে সময় পৃথিবীর তুলনায় ধীরে চলে। সময়ের এই ধীর গতি ব্ল্যাকহোলের প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় টানে তা বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


জার্মানির কোলোন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফ্লোরিয়ান পাইসকার এবং তার দল দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর এই অসাধ্য সাধন করেছেন। তারা যখন এই নক্ষত্রটির কক্ষপথ বিশ্লেষণ করছিলেন, তখন দেখলেন এটি প্রতি ৯.৯ বছর অন্তর ব্ল্যাকহোলটিকে একবার প্রদক্ষিণ করে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একটি নক্ষত্রের কক্ষপথ একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার পথে স্থির থাকার কথা থাকলেও S62 এর ক্ষেত্রে তা ঘটে না। ব্ল্যাকহোলের প্রচণ্ড টানে এর কক্ষপথ প্রতিবার ঘোরার সময় প্রায় ১০ ডিগ্রি করে সরে যায়, যাকে বিজ্ঞানীরা সোয়ার্জশিল্ড প্রিসেশন (Schwarzschild precession) বলে অভিহিত করেন। এটি ঠিক যেন সেই বুধ গ্রহের কক্ষপথের বিচ্যুতির এক বিশাল সংস্করণ, যা একসময় আলবার্ট আইনস্টাইনকে তার সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব প্রমাণ করতে সাহায্য করেছিল।


আজ সেই একই তত্ত্বের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছে S62। এর আগে S2 নামক একটি নক্ষত্রকে ঘিরে বিজ্ঞানীদের সব কৌতূহল আবর্তিত হতো, কিন্তু S62 এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে। এটি ব্ল্যাকহোলের এতটাই কাছে চলে যায় (প্রায় ১৬ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট) যা অন্য যেকোনো নক্ষত্রের তুলনায় অভাবনীয়। এই চরম সীমারেখা ছুঁয়ে বারবার ফিরে আসা S62 এর নিরন্তর ছুটে চলা আমাদের শেখায় যে, মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্যগুলো এখনো উন্মোচিত হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।


মন্তব্য করুন

ব্লগ