সহকারী অধ্যাপক
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:১১ পূর্বাহ্ণ
ফির‘আউনের জুলুম ও সমুদ্র-বিভাজন মোঃ মুজিবুর রহমান
ফির‘আউনের জুলুম ও সমুদ্র-বিভাজন
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
স্মরণ করো সেই দিন, দাসত্বের শিকল ভারী,
ফির‘আউনের ছায়ায় কাঁপত নিঃশ্বাসকারী।
কঠিন আযাবের আগুনে পুড়ত জনপদ,
অন্যায়ের রাজদণ্ডে ন্যায় ছিল নিঃস্বদ।
পুত্রসন্তান কেড়ে নিত, রক্তে ভিজত ধূলি,
মায়ের বুকের আর্তনাদে কাঁদত নীলিমা-গুলি।
নারীদের রাখত বাঁচিয়ে, লাঞ্ছনার বন্ধনে,
জীবন তখন বন্দি শুধু জালিমের শাসনে।
তবু এ ছিল রবের পক্ষ থেকে পরীক্ষা মহা,
অন্ধকারে লুকানো ছিল মুক্তিরই দোহা।
ধৈর্যের চোখে যে দেখেছে, সে পেয়েছে আলো,
আর্তনাদের মাঝেই গড়ে উঠেছে বিশ্বাস ভালো।
আর স্মরণ করো—সমুদ্র দাঁড়াল দু’ভাগ হয়ে,
আল্লাহর হুকুমে ঢেউ থমকাল ভয়ে।
শুকনো পথে হেঁটেছিলে, আশ্চর্য দৃশ্য দেখে,
পিছনে তাড়া জালিম বাহিনী, অহংকারে একে।
নাজাত পেল মজলুমেরা, বিশ্বাসেরই বলে,
আর ফির‘আউনের দল ডুবে গেল অতলে।
নিজ চোখে দেখেছিলে সত্যের বিজয়,
জুলুমের শেষ যে ধ্বংস—এই ছিল নির্ণয়।
হে বংশধর, ইতিহাস শুধু গল্প নয়,
এটি ঈমানের আয়না, হিদায়াতের ধ্বনি-ভয়।
যে রব তখন রক্ষা করেছেন দাসত্বের শ্বাস,
তিনি আজও আছেন—ক্ষমতা তাঁরই আকাশ।
***
স্মরণ করো, হে বংশধর, নীল নদের তীর,
যেখানে রাতও কাঁপত, দিন ছিল শির।
ফির‘আউনের তখতে বসে অহংকার-রাজ,
মানুষকে বানায় খেলনা, আল্লাহর সাথে সাজ।
লোহার শাসনে চাপা ছিল নিঃশ্বাসের গান,
ন্যায় তখন নির্বাসিত, জুলুমই সিংহাসন-জ্ঞান।
ঘরে ঘরে কান্না, পথে পথে রক্তচিহ্ন,
মায়ের কোলে শিশুর লাশ—নিষ্ঠুরতার চিহ্ন।
পুত্রসন্তান যবেহ হতো ভোরের আগেই,
শিশুর কণ্ঠ রুদ্ধ হতো তরবারির ছায়ায়।
কোলের মানিক কেড়ে নিত নিষ্ঠুর প্রহরী,
আকাশে উঠত আর্তনাদ—পৃথিবী হতো ভারী।
নারীদের বাঁচিয়ে রাখত লাঞ্ছনার জন্য,
জীবন তখন ছিল বোঝা, ভবিষ্যৎ শূন্য।
তবু এ ছিল পরীক্ষা—রবের লিখনখানা,
অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল ভোরেরই সানা।
হে মূসার কওম, বোঝোনি তখন,
কেন এ কষ্ট, কেন এ বন্ধন?
রব যখন পরীক্ষা দেন রক্ত-অশ্রুতে,
তখনই গড়ে ওঠে ঈমান পাথর-মূর্তিতে।
ধৈর্যের বুকেই জন্ম নেয় মুক্তির সকাল,
বিশ্বাসের আগুনে গলে শিকলের জাল।
যে মাথা নত রাখে শুধু আল্লাহর কাছে,
সে-ই ইতিহাস লেখে জুলুমের লাশে।
আর স্মরণ করো সেই দিন—ভয় আর আশা,
পিছনে শত্রুর ঘোড়ার শব্দ, সামনে নীলের ত্রাসা।
সমুদ্র তখন প্রাচীর, পালাবার পথ নেই,
মানুষ বলে—আজ বুঝি বাঁচার আর রেই!
তখন মূসার লাঠিতে নামল ঐশী হুকুম,
ঢেউ থমকাল মুহূর্তে, কাঁপল নীলের বুকুম।
সমুদ্র হলো দ্বিখণ্ড, দাঁড়াল দু’দেয়াল,
মাঝখানে খুলে গেল মুক্তির মহাসড়ক-কাল।
শুকনো পথে হেঁটেছিলে বিশ্বাসের বলে,
ঢেউ দু’পাশে পাহারা দেয় আল্লাহর কলে।
আর ফির‘আউন ছুটে এলো অহংকারে অন্ধ,
ক্ষমতাকে দেবতা ভেবে করল শেষ গন্ধ।
হঠাৎ সমুদ্র জেগে উঠল গর্জন-ঝড়ে,
জুলুমের বাহিনী ডুবল নীলেরই গহ্বরে।
তোমরা দেখেছিলে চোখে সত্যের বিচার,
মজলুমের নাজাত, জালিমের সমাধি-দ্বার।
হে উত্তরসূরি, এ কাহিনি কেবল অতীত নয়,
এ আজও বাঁচে প্রতিটি জুলুমের স্রোত-ময়।
যেখানে ফির‘আউন জন্মায় ক্ষমতার ঘরে,
সেখানে মূসাও আসেন রবেরই ভরে।
আল্লাহ যিনি সমুদ্র ফাটান এক আদেশে,
তিনি আজও যথেষ্ট—বিশ্বাস রাখো শেষে।
জুলুম যত উঁচু হোক, শেষ হয় ধ্বংসে,
আর ঈমানের পথ শেষ হয় জান্নাতের আলো-রঙ্গে।
১
১ মন্তব্য