সহকারী শিক্ষক
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:২২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু রাত এমন আছে, যেগুলো আত্মশুদ্ধি, তওবা ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসে। শাবান মাসের মধ্যভাগের রাত, যা আমাদের সমাজে শবেবরাত নামে পরিচিত, তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ রাতকে কেন্দ্র করে আবেগ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে কিছু বিভ্রান্তি ও অতিরঞ্জনও। তাই এ রাতের আমল কী হবে এবং কী হবে না—সে বিষয়ে কোরআন-হাদিস ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের বক্তব্যের আলোকে বিষয়টি বোঝা জরুরি। আলা ইবনুল হারিস (রহ.) থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে, আমার ধারণা হলো, তিনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন, আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে আয়েশা’ অথবা বলেছেন, ‘হে হুমাইরা, তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছিল যে, আল্লাহর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন?’ আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসুলাল্লাহ।
আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো, এটা কোন্ রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করলেন―
এটা হলো অর্ধ-শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিনগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষপোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই। (শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৮৬)
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীর্ঘ নফল নামাজ এবং দীর্ঘ সিজদার বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। এটি প্রমাণ করে যে, ফজিলতপূর্ণ রাতে নফল ইবাদতে মনোনিবেশ করা শরিয়তসম্মত ও প্রশংসনীয় আমল। সুতরাং শবে বরাতের রাতেও নফল নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগির প্রতি যত্নবান হওয়া কাম্য।
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীর্ঘ নফল নামাজ এবং দীর্ঘ সিজদার বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। এটি প্রমাণ করে যে, ফজিলতপূর্ণ রাতে নফল ইবাদতে মনোনিবেশ করা শরিয়তসম্মত ও প্রশংসনীয় আমল। সুতরাং শবে বরাতের রাতেও নফল নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগির প্রতি যত্নবান হওয়া কাম্য।
১
২ মন্তব্য