সহকারী শিক্ষক
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০২:৩৬ অপরাহ্ণ
রূপা ও ভারত ভায়ানার আক্ষেপ
রূপা ও ভারত ভায়ানার আক্ষেপ!
সেদিন!এই তো সেদিন!
সেদিন বলতে—এইমাত্র কয়েক হাজার মিনিট, কয়েক ঘন্টা আগে। দিনের হিসাবে নতুন, বছরের হিসাবে তেমন কিছুই নয়। অথচ অনুভূতিতে কত পুরোনো!
রূপা তো চলে গেছে অনেক দিন আগে—প্রায় বিশ বছর। তবু কিছু মানুষ থাকে, যারা দূরে গেলেও স্মৃতিতে খুব কাছেই থাকে। রূপা তেমনই। বেড়াতে ভীষণ ভালোবাসত ও। নতুন জায়গা, অচেনা পথ—ওর চোখে সেসব মানেই আনন্দ।
সেদিন এসেছিল। খুব অল্প সময়ের জন্য।
ভারত ভায়ানায় ওর কখনো যাওয়া হয়নি। আমি নিয়ে গিয়েছিলাম। ভাবছিলাম—এইবার অন্তত দেখা হবে, চোখভরে দেখা হবে ইতিহাসের সেই নীরব সৌন্দর্য।
কিন্তু…
কিন্তু এক বিকেলের আক্ষেপ!
বন্ধ। ছুটি।
দরজা বন্ধ, পথ বন্ধ, দেখা বন্ধ।
ভারত ভায়ানা দেখা হলো না।
কিছু আক্ষেপ এমনই—কোনো বড় ঘটনার নয়, কোনো বিরাট ক্ষতির নয়; তবু বুকের ভেতর হালকা কিন্তু স্থায়ী একটা খচখচানি হয়ে থেকে যায়।
আর কি আসবে ও?
সেই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই।
আজ ওর সংসার হয়েছে, চাকরি হয়েছে, জীবন অন্য গতিতে চলছে। হয়তো একদিন আসবে। হয়তো আবার সেই পথে হাঁটবে। তবু তবু—এই “হয়তো”-র মাঝখানেই আক্ষেপ বাসা বাঁধে।
কিছু জায়গা দেখা না হওয়ায় যতটা কষ্ট হয়,
তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয়,
একসাথে থাকা সময়টুকু অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায়।
ভারত ভায়ানা আজও দাঁড়িয়ে আছে।
আর রূপা?
সে আছে স্মৃতির ভেতর,এক বিকেলের আক্ষেপ হয়ে।
১
১ মন্তব্য