সহকারী শিক্ষক
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ভারতের সেরা ব্যাটিং বনাম পাকিস্তানের সেরা বোলিং
ভারতের ব্যাটিং বনাম পাকিস্তানের বোলিং একাদশ!
ভারতের ব্যাটিং যেন জগৎ বিখ্যাত! কি দারুণ কাভার ড্রাইভে সাজানো কোহলি- সচীনের উইলো! পক্ষান্তরে পাকিস্তানের বোলিং যেন ছেড়ে দে মা কেদে বাচিঁ! সুইং,গতিতে ঠাসা ইতিহাসের সেরা বোলিং ডিপার্টমেন্ট! দুদলের এমন একটা মুখোমুখি লড়াই হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু কল্পনা করতে তো দোষ নেই
।
ভারতের সেরা ব্যাটিং একাদশ
সুনীল গাভাস্কার
নতুন বলের বিরুদ্ধে ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ঢাল। ওয়াসিম-ওয়াকারদের সুইং সামলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকার মানসিক শক্তি ছিল অতুলনীয়।
রোহিত শর্মা
টাইমিংয়ের রাজা। একটু জায়গা পেলেই পাকিস্তানের পেস আক্রমণকে গ্যালারিতে পাঠাতে পারেন। শর্ট বলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বড় অস্ত্র।
রাহুল দ্রাবিড়
পাকিস্তানি বোলিংয়ের বিরুদ্ধে নিখুঁত টেকনিকের প্রতীক। সুইং, সিম—সব সামলে ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে পারতেন বোলারদের।
শচীন তেণ্ডুলকর
গতির বিরুদ্ধে সাহস, সুইংয়ের বিরুদ্ধে কবজি,সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ ব্যাটার। ওয়াসিম, ওয়াকার, শোয়েব,সবার বিরুদ্ধেই আইকন।
বিরাট কোহলি
চাপের মুহূর্তে সেরা। রিভার্স সুইং হোক বা আগ্রাসী স্পেল—চোখ আর মানসিক দৃঢ়তায় পাকিস্তানের বোলিংকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করেন।
ভি. ভি. এস. লক্ষ্মণ
স্পিন আর পেস—দুটোর বিরুদ্ধেই কবির মতো ব্যাটিং। কাদির বা সাকলায়েনের স্পিনে তার রিস্টওয়ার্ক ছিল মারাত্মক।
যুবরাজ সিং
পাকিস্তানের স্পিনারদের দুঃস্বপ্ন। এক ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা। সাহস আর আগ্রাসনের প্রতীক।
এম. এস. ধোনি
গতির বিরুদ্ধে অদ্ভুত শান্ত মাথা। ইয়র্কার, স্লোয়ার—সবই যেন আগে থেকে পড়ে ফেলতেন। ফিনিশিংয়ে ভয়ংকর।
সৌরভ গাঙ্গুলি
অফসাইডে রাজত্ব। স্পিনে দুর্বলতা থাকলেও পেসের বিরুদ্ধে তার আত্মবিশ্বাস পাকিস্তানি বোলারদের বারবার ভাবনায় ফেলেছে।
বিশ্বনাথ
চাপের ম্যাচে নীরব ঘাতক। সুইং সামলে ফাঁক বের করে রান তোলার শিল্পী।
সুরেশ রায়না
মাঝের ওভারে গতি বাড়ানোর মাস্টার। স্পিনে আগ্রাসী ব্যাটিং পাকিস্তানের পরিকল্পনা ভাঙতে পারত।
পাকিস্তানের সেরা বোলিং একাদশ
ইমরান খান
নেতৃত্ব, লাইন-লেন্থ আর বুদ্ধির সমন্বয়। বড় ম্যাচে ব্যাটারদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা।
ওয়াসিম আকরাম
সুইংয়ের জাদুকর। ডানহাতি-বাঁহাতি নির্বিশেষে ভয়। রিভার্স সুইংয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ওয়াকার ইউনিস
ইয়র্কারের রাজা। নতুন আর পুরনো—দুই বলেই বিধ্বংসী। ধোনি-কোহলিদের পায়ের দিকে তার বল মারাত্মক।
শোয়েব আখতার
খাঁটি আতঙ্ক। শুধু গতি নয়, মানসিক চাপ। একটা স্পেলেই ম্যাচের রং বদলে দিতে সক্ষম।
সরফরাজ নওয়াজ
রিভার্স সুইংয়ের জনক। পুরনো বলে ভারতীয় ব্যাটারদের ধৈর্যের শেষ পরীক্ষা নিতেন।
সাকলায়েন মুশতাক
দুসরার জাদু। লক্ষ্মণ-যুবরাজদের মতো ব্যাটারদেরও বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা ছিল।
আবদুল কাদির
লেগ স্পিনের কবি। ফ্লাইট আর টার্নে ব্যাটারদের অহংকার ভাঙতেন।
মোহাম্মদ আসিফ
লাইন-লেন্থের নিখুঁত শিল্পী। সামান্য নড়াচড়াতেই ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করতেন।
সাঈদ আজমল
অ্যাকশনের রহস্যে ভরা স্পিন। মাঝের ওভারে রানের গতি আটকে দেওয়ার মাস্টার।
মোহাম্মদ আমির
নতুন বলে বাঁহাতি সুইংয়ের ভয়। ইনসুইং-আউটসুইংয়ে শচীন-কোহলির মতো ব্যাটারদেরও সতর্ক হতে বাধ্য করতেন।
শাহীন শাহ আফ্রিদি
উচ্চতা আর লেট সুইংয়ের মিশেল। নতুন যুগের আতঙ্ক, পুরনো ঐতিহ্যের উত্তরসূরি।
এখন কল্পনা করুন,
নতুন বল হাতে আমির–ওয়াসিম, সামনে গাভাস্কার–শচীন।
মাঝে শোয়েবের গতির ঝড়, আর শেষে কাদির–সাকলায়েনের জাদু।
অন্যদিকে ব্যাট হাতে কোহলির চোখে আগুন, ধোনির নীরব হিসাব।
এটা শুধু ম্যাচ নয়,
এটা ভারতের ব্যাট বনাম পাকিস্তানের বল,ক্রিকেটের চিরন্তন মহাকাব্য।
৪
৪ মন্তব্য