Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

মহাকাশের নির্জনে অন্য এক বসতি

রাতের আকাশ এক বিশাল রহস্যের সিন্দুক। কালপুরুষের তরবারি কিংবা সপ্তর্ষিমণ্ডলীর জ্যামিতিক নকশার আড়ালে কত শত ‘পৃথিবী’ লুকিয়ে আছে, তার ইয়ত্তা নেই। জীবনানন্দের সেই ‘অদ্ভুত আঁধার’ যেন আজ নতুন আলোর খবর নিয়ে এলো। আমাদের চিরচেনা সূর্য থেকে ১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে এক নিঃসঙ্গ গ্রহের হদিস পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কেতাবি নাম ‘এইচডি ১৩৭১০বি’।

আকার-প্রকারে গ্রহটি আমাদের এই নীল গ্রহের প্রায় সমান। কিন্তু বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত বলছে, এর স্বভাব অনেকটা মঙ্গলের মতো। দূরত্বের মহাজাগতিক মাপকাঠিতে একে ‘প্রতিবেশী’ বলা চলে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গ্রহে প্রাণের অনুকূল পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে সেই ‘বসতি’ হয়তো আমাদের মতো তপ্ত নয়, বরং জীবনানন্দের কুয়াশার মতোই শীতল। সেখানে তাপমাত্রা নামতে পারে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।

এই আবিষ্কারের গল্পটি কোনো সায়েন্স ফিকশন উপন্যাসের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়। ২০১৭ সালে নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের (কে২ মিশন) পাঠানো পুরনো তথ্য খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে এই গ্রহের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।

বিজ্ঞানীরা দেখেন, একটি সূর্যসদৃশ নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যখন গ্রহটি হেঁটে যায়, তখন নক্ষত্রটির আলো সামান্য মøান হয়ে পড়ে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় যেন, ‘ছায়া-সুনিবিড় শান্তির নীড়’। এই অতিসামান্য আলোর হ্রাসবৃদ্ধিই বিজ্ঞানীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এক নতুন পৃথিবীর বার্তা।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ড. চেলসি হুয়াং দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, গ্রহটি তার সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৫৫ দিন। মানে এর এক বছর আর আমাদের এক বছর প্রায় সমান। আমাদের পৃথিবীর চেয়ে এটি আকারে মাত্র ৬ শতাংশ বড়।

বিজ্ঞানীরা দেখেন, একটি সূর্যসদৃশ নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যখন গ্রহটি হেঁটে যায়, তখন নক্ষত্রটির আলো সামান্য মøান হয়ে পড়ে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় যেন, ‘ছায়া-সুনিবিড় শান্তির নীড়’। এই অতিসামান্য আলোর হ্রাসবৃদ্ধিই বিজ্ঞানীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এক নতুন পৃথিবীর বার্তা।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ড. চেলসি হুয়াং দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, গ্রহটি তার সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৫৫ দিন। মানে এর এক বছর আর আমাদের এক বছর প্রায় সমান। আমাদের পৃথিবীর চেয়ে এটি আকারে মাত্র ৬ শতাংশ বড়।

এই আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে এক বিস্ময়কর মানবিক গল্প। গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক ড. আলেকজান্ডার ভেনার যখন স্কুলের ছাত্র ছিলেন, তখন তিনি ‘প্ল্যানেট হান্টার্স’ নামক একটি নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। তখনই প্রথম এই অস্পষ্ট সংকেতটি তার চোখে পড়েছিল। সেই কিশোরবেলার কৌতূহল আজ এক পূর্ণাঙ্গ গবেষণায় রূপ নিয়েছে। ভেনার এখন পিএইচডি শেষ করে একজন প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানী। নিজের পুরনো আবিষ্কারকে নতুন করে খুঁড়ে বের করাকে তিনি ‘অপূর্ব অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নতুন এই পৃথিবী কি সত্যিই মানুষের থাকার যোগ্য? ড. হুয়াংয়ের মতে, এর সূর্যটি আমাদের সূর্যের চেয়ে কিছুটা শীতল ও অনুজ্জ্বল। ফলে গ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ড. সারা ওয়েব একে বলছেন ‘সুপার স্নোবল’ তথা এক বিশাল বরফ-রাজ্য। সেখানে হয়তো প্রচুর পানি আছে, কিন্তু তার সবটুকুই জমে পাথর হয়ে আছে।

বাংলা সাহিত্যের বিরহী যক্ষ যেমন মেঘের আড়ালে প্রিয়ার খোঁজ করত, বিজ্ঞানীরাও তেমনি মহাকাশের ধূলিকণার আড়ালে খুঁজছেন এক চিলতে প্রাণ। তবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দূরত্ব। ১৪৬ আলোকবর্ষ পথ পাড়ি দেওয়া বর্তমান প্রযুক্তিতে প্রায় অসম্ভব। বর্তমান গতির কোনো মহাকাশযানে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগবে হাজার হাজার বছর।

এইচডি ১৩৭১০বি এখন পরবর্তী প্রজন্মের শক্তিশালী টেলিস্কোপগুলোর প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে যাচ্ছে। জেমস ওয়েবের উত্তরসূরিরা হয়তো একদিন বলে দেবে, ওই হিমশীতল প্রান্তরে কোনো প্রাণের স্পন্দন আছে কিনা।



মন্তব্য করুন

ব্লগ