প্রধান শিক্ষক
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৬:২৯ অপরাহ্ণ
যে কষ্টকে সিঁড়ি বানিয়েছিল
মিশুর ছোটবেলাটা সহজ ছিল না।
যে বয়সে অন্য শিশুরা নিশ্চিন্তে খেলাধুলা করে, সেই বয়সেই মিশু বুঝে গিয়েছিল—জীবন মানে শুধু হাসি না, জীবন মানে লড়াই।
তার পরিবারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। স্কুলে যাওয়ার আগে অনেক সময় ভাবতে হতো—আজ খাতা থাকবে তো? বইটা শেষ হয়ে গেলে নতুনটা পাওয়া যাবে তো? নতুন জামা, নতুন ব্যাগ—এসব চাওয়ার তালিকায় কখনোই ছিল না। মিশুর চাওয়া ছিল খুব ছোট—পড়াশোনা করার সুযোগটা যেন না থামে।
সে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে।
কখনো আলো কম ঘরে বসে পড়েছে, কখনো ক্লান্ত শরীর নিয়ে। এমন দিনও গেছে, যখন ক্ষুধা আর
পড়া—দুটোর মাঝেই লড়াই চলেছে। কিন্তু মিশু
পড়া ছেড়ে ওঠেনি। কারণ সে জানত, আজ যদি হাল ছেড়ে দেয়, কাল তাকে আর কেউ চিনবে না।
জীবন তাকে বারবার পরীক্ষা নিয়েছে।
অনেক স্বপ্ন মাঝপথে ভেঙে গেছে।
অনেক সময় মনে হয়েছে—সব চেষ্টা বুঝি বৃথা।
মানুষের কথাও কম শোনেনি সে।
“এত কষ্ট করে কী হবে?”
“তোর দ্বারা কিছু হবে না।”
এই কথাগুলো মিশুর কানে শুধু ঢোকেনি, হৃদয়ে আঘাত করেছে।
কিন্তু
মিশু একরকম মানুষ ছিল না যে কষ্টে থেমে যায়।
সে কাঁদত, কিন্তু হাল ছাড়ত না।
ভেঙে পড়ত, কিন্তু আবার দাঁড়িয়ে যেত।
তার জীবনের স্ট্রাগল শুধু অর্থের ছিল না—ছিল মানসিক লড়াইও। একাকীত্ব, অবহেলা, নিজের ওপর সন্দেহ—সবকিছুর সঙ্গে সে একা একা যুদ্ধ করেছে। কাউকে বোঝানোর মতো সময় বা শক্তি তার ছিল না। সে শুধু এগিয়ে গেছে।
সময়
ধীরে ধীরে তাকে বদলে দিয়েছে।
কষ্ট তাকে দুর্বল করেনি, বরং শক্ত করেছে।
আজ মিশু জানে—যে
মানুষ ছোটবেলায় এতটা লড়াই করে এসেছে, তার আর ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
আজও
তার পথ পুরো সহজ নয়।
কিন্তু তার চোখে এখন একটা দৃঢ়তা আছে।
কারণ সে জানে—এই
জায়গায় পৌঁছাতে তাকে কেউ এনে দেয়নি, সে নিজেই নিজেকে গড়ে তুলেছে।
মিশুর
গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
সবাই সমান জায়গা থেকে শুরু করে না।
কিন্তু যারা কষ্টকে সিঁড়ি বানিয়ে সামনে এগোয়, তারাই একদিন নিজের পরিচয় নিজেই তৈরি
করে।
এই
গল্প শুধু মিশুর নয়।
এই গল্প প্রতিটি সেই মানুষের—
যে নীরবে কষ্ট সহ্য করে,
আর তবুও স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে না।
কারণ কষ্ট বড় হতে পারে,
কিন্তু মানুষের ইচ্ছাশক্তি তার থেকেও
বড়।
৪
৬ মন্তব্য