সহকারী শিক্ষক
০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:১১ পূর্বাহ্ণ
মহাবিশ্বের নীরব ক্ষয়: স্পেস-টাইম কি আসলে স্থায়ী?
আমরা সাধারণত মহাবিশ্বকে একটি সুনির্দিষ্ট এবং স্থায়ী কাঠামো হিসেবে কল্পনা করি। আমাদের ধারণা অনুযায়ী, স্পেস-টাইম হলো সেই কাঠামো যার ওপর নক্ষত্র থেকে শুরু করে গ্যালাক্সি পর্যন্ত সবকিছু অবস্থান করে। কিন্তু তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের আধুনিক কিছু গাণিতিক মডেল আমাদের এই চিরচেনা ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। একদল গবেষকদের মতে, স্পেস-টাইম হয়তো কোনো পরম বা অপরিবর্তনীয় কাঠামো নয় বরং এটি একটি অতি দীর্ঘ সময়ের বিবর্তন বা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতে পারে।
এই প্রক্রিয়াটি কোনো আকস্মিক মহাজাগতিক পরিবর্তনের চেয়ে বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী মহাজাগতিক স্থিতিশীলতার রূপান্তর হতে পারে। ডারহাম ইউনিভার্সিটির তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ডক্টর রুথ গ্রেগরি এবং তার সহকর্মীরা তাদের গবেষণায় ভ্যাকুয়াম স্ট্যাবিলিটি বা শূন্যতার স্থায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। তাদের তত্ত্বে ফলস ভ্যাকুয়াম ডিকে বা শূন্যতার রূপান্তরের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও এই রূপান্তরটি তাত্ত্বিকভাবে তাৎক্ষনিক শুরু হতে পারে তবে কোয়ান্টাম টানেলিংয়ের মতো জটিল বাধার কারণে এটি ঘটার সম্ভাবনা গাণিতিকভাবে অত্যন্ত কম। ফলে মহাবিশ্ব এক অকল্পনীয় দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে যা আমাদের কাছে চিরস্থায়ী বলে মনে হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা ক্যালটেকের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী শন ক্যারল এই ধরনের মহাজাগতিক বিবর্তন ও এন্ট্রপি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাধর্মী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার গবেষণার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে স্পেসটাইমের উদ্ভব বা ইমারজেন্স। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, স্পেসটাইম কোনো মৌলিক কাঠামো নয় বরং এটি কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্টের মাধ্যমে তৈরি একটি দশা। যদি মহাবিশ্বের এই সূক্ষ্ম কোয়ান্টাম সংযোগগুলো সময়ের সাথে সাথে এন্ট্রপির প্রভাবে পরিবর্তিত হয় তবে স্পেসটাইমের জ্যামিতিক রূপও বদলে যেতে পারে। এই পরিবর্তন মহাজাগতিক সময়ের স্কেলে এতটাই ধীর হতে পারে যে নক্ষত্ররা তাদের বিলিয়ন বছরের জীবনেও কোনো অস্বাভাবিকতা টের পায় না।
আমরা আমাদের মানব সভ্যতার অতি ক্ষুদ্র সময়ে মহাবিশ্বকে একদম স্থির এবং অপরিবর্তনীয় বলে মনে করি কারণ এই মহাজাগতিক বিবর্তনের ব্যপ্তি আমাদের সভ্যতার বয়সের তুলনায় অকল্পনীয়ভাবে বিশাল।
মানসিকভাবে মহাবিশ্বের বিবর্তনের বিষয়টি আমাদের কিছুটা বিচলিত করতে পারে কারণ আমরা সবকিছুর ভেতর স্থায়িত্ব খুঁজি। কিন্তু অন্যভাবে ভাবলে এটি আমাদের মাঝে এক গভীর বিনয়বোধ জাগ্রত করে। আমরা মহাজাগতিক এক দীর্ঘ শান্ত সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি যেখানে সবকিছুর একটি ভারসাম্য বজায় আছে। বিজ্ঞান আমাদের এটাই শেখায় যে দৃশ্যমান স্থিরতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক ধীর বিবর্তন আর সেই রহস্যকে জানার কৌতূহলই আমাদের অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।
৪
৪ মন্তব্য