সহকারী অধ্যাপক
০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
ওয়ারিশের হক নির্ধারিত - মোঃ মুজিবুর রহমান সহকারী অধ্যাপক,
ওয়ারিশের হক নির্ধারিত
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নিশ্চয়—ন্যায়ের কিতাবে লেখা এক অটল বিধান,
ওয়ারিশের হক নির্ধারিত, কম–বেশি নয়—সমান সম্মান।
পুরুষেরও আছে অংশ, নারীরও আছে ভাগ,
মাতা–পিতা, নিকটাত্মীয়—কারো হক পড়ে না ফাঁক।
অল্প হোক বা বেশি হোক—নির্ধারিত সেই হার,
আল্লাহর বিধান অটল, বদলায় না কাল–পার।
সন্তানদের বিষয়ে আদেশ—শোনো হৃদয় খুলে,
এক পুত্র পায় দুই কন্যার সমান অংশ মিলে।
দুইয়ের অধিক কন্যা হলে—তিনভাগের দুই,
একটি কন্যা হলে অর্ধেক—ন্যায়ের এটাই রূপরেখা নিঃসংশয়ী।
সন্তান থাকলে পিতা-মাতা—প্রত্যেকে ছয় ভাগের এক,
সন্তান না থাকলে মাতা পায়—তিন ভাগের এক, বিধান সঠিক।
ভাই-বোন থাকলে মায়ের ভাগ—নেমে আসে এক ষষ্ঠে,
জ্ঞানী রবের হিসাব এ—ভুলের কোনো আশঙ্কা নেই এতে।
অসিয়ত পূর্ণ, ঋণ শোধ আগে—তারপর বণ্টন হয়,
কারো ক্ষতি নয়—এই শর্তে ন্যায় নিজে দাঁড়ায়।
স্ত্রীর রেখে যাওয়া সম্পদে—স্বামীর অর্ধেক ভাগ,
সন্তান থাকলে চার ভাগের এক—এও আল্লাহর নির্দেশনাগ।
স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদে—স্ত্রীর এক চতুর্থাংশ,
সন্তান থাকলে এক অষ্টমাংশ—ন্যায়ের এই গাঁথা রংশ।
মা–বাবা, সন্তানহীন কেউ—ভাই বা বোন এক থাকলে,
প্রত্যেকে পায় এক ষষ্ঠাংশ—বিধান নেমে আসে কলে।
একাধিক হলে সবাই মিলে—তিন ভাগের একে সমান,
অসিয়ত–ঋণ পরিশোধ শেষে—বণ্টন হবে সাবধান।
তোমরা জান না—কে তোমাদের উপকারে বেশি নিকট,
রবই জানেন—সর্বজ্ঞ তিনি, প্রজ্ঞায় অদ্বিতীয় অটুট।
এ বিধান তাঁর পক্ষ থেকে—অটল, পবিত্র, মহান,
মানলে পথ আলোকিত হয়—হয় জীবন ধন্যবান।
যে আল্লাহ ও রাসূল মানে—জান্নাত তার ঠিকানা,
নদী বহে তলদেশে—স্থায়ী সুখের সীমানা।
আর যে সীমা লঙ্ঘন করে—অবাধ্যতার পথে যায়,
আগুন তার আবাস হবে—লাঞ্ছনার শাস্তি পায়।
***
নিশ্চয়—ন্যায়ের বিধান এ, কালের ঊর্ধ্বে লেখা,
রবের হিসাব সূক্ষ্মতম, ভুলের কোনো রেখা।
সন্তান থাকলে পিতা-মাতা—প্রত্যেকে এক ষষ্ঠ পায়,
রক্তের বন্ধন মর্যাদা পায়—আল্লাহ নিজে বণ্টন দাঁড়ায়।
সন্তান না থাকলে, ওয়ারিশ কেবল মা–বাবা হলে,
মায়ের ভাগ তিন ভাগের এক—এই বিধান নেমে চলে।
আর যদি ভাই-বোন থাকে—মায়ের অংশ কমে যায়,
ছয় ভাগের একে নেমে এসে ন্যায়ের ভারসাম্য পায়।
অসিয়ত আগে, ঋণ শোধ আগে—এই শর্ত অটল নিয়ম,
কারো ক্ষতি নয়—এই পথে চলে রবের হিকমত-শাসন।
তোমরা জান না—কে বেশি নিকট উপকারে তোমার,
মাতা না সন্তান—এই জ্ঞান কেবল রবের অধিকার।
তাই তাঁরই পক্ষ থেকে এ বিধান নির্ধারিত,
তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়—রহস্যে পূর্ণ, মহিমাময় স্থিরচিত্ত।
স্ত্রী যদি রেখে যায় সম্পদ—সন্তানহীন হলে,
স্বামীর জন্য অর্ধেক ভাগ—ন্যায়ের পাল্লা চলে।
আর যদি সন্তান থাকে—চার ভাগের এক নির্দিষ্ট,
অসিয়ত–ঋণ শেষে বণ্টন—এই পথই সঠিক।
স্বামী রেখে গেলে সম্পদ—সন্তান না থাকলে,
স্ত্রীর জন্য চার ভাগের এক—রবের বিধানে চলে।
আর সন্তান থাকলে তখন—এক অষ্টমাংশ নির্ধারিত,
ন্যায়ের সীমানা অটল—কারো প্রতি নয় অবিচারিত।
মা–বাবা, সন্তানহীন কেউ—ভাই বা বোন এক থাকলে,
প্রত্যেকে পায় এক ষষ্ঠাংশ—বিধান নেমে আসে কলে।
একাধিক হলে সবাই মিলে—তিন ভাগের একে সমান,
অসিয়ত ও ঋণ পরিশোধে—সম্পূর্ণ হয় এই বিধান।
এ সবই আল্লাহর অসিয়ত—সহনশীল, করুণাময়,
হিসাবের দিন তিনি ন্যায়পরায়ণ, দয়ার মহাসয়।
যে মানে আল্লাহ–রাসূলকে—আনুগত্যে থাকে স্থির,
জান্নাত তার ঠিকানা হবে—নদী বহে তলদেশে নীর।
সেখানে তারা স্থায়ী হবে—এটাই মহা সফলতা,
চূড়ান্ত বিজয়, চিরসুখ—নির্মল অনন্ততা।
আর যে নাফরমানী করে, সীমারেখা ভাঙে,
আগুনে তার আবাস হবে—অপমান তার সঙ্গে জাগে।
এ তাই সতর্ক বাণী—ভয় আর আশার মাঝখানে,
ন্যায়ের কবিতা লেখা রইল—আল্লাহর বিধানের তানে।
১
২ মন্তব্য