সহকারী অধ্যাপক
০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৭:১০ অপরাহ্ণ
মনুষ্যত্ব - মোঃ মুজিবুর রহমান
মনুষ্যত্ব
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নিশ্চয়—মনুষ্যত্ব বাড়ে, যদি বাড়াই চর্চা,
সব স্তরে ছড়াই আলো, ভাঙি অন্ধকারের গর্ভা।
শব্দ-ছন্দে বলি কথা, সুস্পষ্ট, দৃঢ় সুরে—
এই পথেই মানবিকতা ওঠে শতকরা উপরে।
শুনতে শিখি আগে—কথার আগেই কান,
অন্যের ব্যথা বুঝলে নরম হয় প্রাণ।
হিংসা নয়, সহমর্ম—হোক প্রথম পাঠ,
মনুষ্যত্বের মানচিত্রে এটাই মূল ঘাট।
ন্যায়কে রাখি মাঝখানে, সুবিধা নয় ধর্ম,
দুর্বল পাশে দাঁড়ানোই শক্তির আসল কর্ম।
আইন নয় কেবল কাগজ, হৃদয়ে হোক নীতি,
সমতায় ভিজে উঠুক সমাজের প্রতিটি রীতি।
শিক্ষা দিই এমন করে—মানুষ গড়ার শিক্ষা,
নম্বর ছাড়াও শেখাই লজ্জা, দায় আর দীক্ষা।
ইতিহাসে দয়া লিখি, বিজ্ঞানে নীতি,
জ্ঞান হলে মানবিক—তবেই তার কৃতি।
কথায় কম, কাজে বেশি—এই হোক অভ্যাস,
প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবেই মানবিক প্রকাশ।
ক্ষুধার পাশে রুটি, শীতে উষ্ণ হাত,
ছোট কাজের ঢেউতেই বদলায় বড় ঘাট।
ভিন্নতা মানি—রং, মত, ভাষা, বিশ্বাস,
সম্মান দিলে তবেই গড়ে সহাবস্থানের আকাশ।
আমি নই কেন্দ্র—আমরাই কেন্দ্রবিন্দু,
এই বোধ জাগলেই কমে অহংকারের সিন্ধু।
জবাবদিহি রাখি খোলা—ক্ষমা চাইতে শিখি,
ভুল হলে সংশোধন—অটল এই দীক্ষি।
ক্ষমতা মানে দায়িত্ব, প্রভুত্ব নয় কখনো,
নম্রতায় শীর্ষে ওঠে মানুষই সর্বোত্তম।
সংস্কৃতি হোক সেতু—গান, কবিতা, শিল্প,
হৃদয় ছুঁলে বদলায় মন, কমে যায় নিষ্ঠুর শিল।
ভাষার কোমল ছোঁয়ায় জাগে মানববোধ,
সৌন্দর্য শেখায় কীভাবে জিততে হয় ক্ষোধ।
প্রযুক্তি রাখি লাগামে—মানুষ হোক লক্ষ্য,
লাভ নয়, কল্যাণে গড়ে নৈতিক নকশা-ব্যবস্থা।
ডিজিটাল হাতেও থাকুক মানবিক স্পর্শ,
তবেই আগামীর পথে হবে আলোর বর্ষ।
শতকরা বাড়াতে চাই? শুরু হোক আজ, এখানেই—
আমি বদলাই, তুমি বদলাও—সমাজ বদলাবেই।
মনুষ্যত্ব কোনো স্লোগান নয়, নিত্য চর্চার ফল,
এই পথেই মানুষ হয় মানুষ—এই সত্য অটল।
***
নিশ্চয়—মনুষ্যত্ব বাড়ে, যদি বাড়াই চর্চা,
সব স্তরে ছড়াই আলো, ভাঙি অন্ধতার গর্ভা।
শব্দ-ছন্দে বলি কথা, সুস্পষ্ট দৃঢ় সুরে—
এই পথেই মানবিকতা ওঠে শতকরা উপরে।
কথার আগে শুনতে শিখি—খুলি হৃদয়-কান,
অন্যের ব্যথা বুঝলে নরম হয় মানব-প্রাণ।
হিংসা নয়, সহমর্ম হোক প্রথম শিক্ষা-পাঠ,
মনুষ্যত্বের মানচিত্রে এটাই মূল ঘাট।
ন্যায় থাকুক কেন্দ্রে—সুবিধা নয় ধর্ম,
দুর্বলের পাশে দাঁড়ানোই শক্তির শ্রেষ্ঠ কর্ম।
আইন শুধু কাগজ নয়, নীতিতে হোক প্রাণ,
সমতায় ভিজে উঠুক সমাজের প্রতিটি খান।
শিক্ষা হোক মানুষ গড়া—এ কেবল নম্বর নয়,
লজ্জা, দায়, দায়িত্ব শেখাক প্রতিটি হৃদয়।
ইতিহাসে লিখি দয়া, বিজ্ঞানে রাখি নীতি,
জ্ঞান মানবিক না হলে, সে জ্ঞান কেবল ক্ষতি।
কথায় কম, কাজে বেশি—এই হোক জীবন-পথ,
প্রতিশ্রুতি নয়, কাজে ফুটুক মানবিক সত্য।
ক্ষুধার পাশে রুটি, শীতে উষ্ণ হাত,
ক্ষুদ্র কাজের ঢেউতেই বদলায় বৃহৎ ঘাট।
ভিন্নতা মানি—রং, মত, ভাষা, বিশ্বাস,
সম্মানেই গড়ে ওঠে সহাবস্থানের আকাশ।
আমি নই কেন্দ্র—আমরাই কেন্দ্রবিন্দু,
এই বোধ জাগলেই ভাঙে অহংকারের সিন্ধু।
জবাবদিহি থাকুক খোলা—ক্ষমা চাইতে জানি,
ভুল হলে সংশোধনই নৈতিকতার মানি।
ক্ষমতা মানে দায়িত্ব, দম্ভ নয় কখনো,
নম্রতার শিখরে ওঠে মানুষই শ্রেষ্ঠতম।
সংস্কৃতি হোক সেতু—গান, কবিতা, শিল্প,
হৃদয় ছুঁলেই গলে যায় নিষ্ঠুরতার শিল।
ভাষার কোমল স্পর্শে জাগে মানববোধ,
সৌন্দর্যই শেখায় কীভাবে জিততে হয় ক্রোধ।
প্রযুক্তি থাকুক লাগামে—মানুষ হোক লক্ষ্য,
লাভ নয়, কল্যাণ গড়ুক নৈতিক নকশা-পথ্য।
ডিজিটাল হাতেও থাকুক মানবিক স্পর্শ,
তবেই আগামীর পথে নামবে আলোর বর্ষ।
শতকরা বাড়াতে চাই? শুরু হোক আজ, এখানেই—
আমি বদলাই, তুমি বদলাও—সমাজ বদলাবেই।
মনুষ্যত্ব কোনো স্লোগান নয়, নিত্য চর্চার ফল,
এই পথেই মানুষ হয় মানুষ—এই সত্য অটল।
** **
নিশ্চয়ই বাড়ে মনুষ্যত্ব, চর্চা যদি থাকে,
সব স্তরে আলো ছড়ালে অন্ধকার ফাঁকে ফাঁকে।
শব্দে শব্দে সত্য বলি, ছন্দে বাঁধি সুর,
এই পথ ধরেই মানবতা বাড়ে বহুগুণ দূর।
কথার আগে শোনা শিখি—এই হোক প্রথম কাজ,
অন্যের ব্যথা বুঝতে পারা মানবতার লাজ।
হিংসা ত্যাগে সহমর্মে হৃদয় করি ভর,
এই ঘাট দিয়েই মানবতার যাত্রা হয় শুরু।
ন্যায় রাখি মাঝখানে—সুবিধা নয় নীতি,
দুর্বলের পাশে দাঁড়ানোই শক্তির প্রকৃত কৃতি।
আইন শুধু কাগজ নয়, হৃদয়ে রাখি মান,
সমতার ছোঁয়ায় জাগুক সমাজের প্রাণ।
শিক্ষা মানে মানুষ গড়া—নম্বর নয় সব,
দায়িত্ব, লজ্জা, বিবেক গড়ে প্রকৃত গুণধর।
ইতিহাসে দয়া লেখি, বিজ্ঞানে সংযম,
মানবিকতা ছাড়া জ্ঞান নিছকই বিভ্রম।
কথা কম, কাজ বেশি—এই হোক আচরণ,
প্রতিশ্রুতি নয়, কর্মেই মানবিক প্রমাণ।
ক্ষুধার পাশে রুটি দিই, শীতে উষ্ণ হাত,
ক্ষুদ্র সেবার ঢেউ বদলায় সমাজের ঘাট।
ভিন্নতা মানি সব—রং, মত, বিশ্বাস,
সম্মানেই নির্মিত হয় সহাবস্থানের আকাশ।
আমি নয় কেন্দ্র—আমরাই মূলবিন্দু,
এই বোধ জাগলে ভাঙে অহংকারের সিন্ধু।
জবাবদিহি খোলা রাখি—ভুল মানি সাহসে,
ক্ষমা চাইতে শেখাই নিজে নৈতিকতার পাশে।
ক্ষমতা মানে দায়িত্ব—দম্ভের নয় স্থান,
নম্রতাতেই উচ্চে ওঠে মানুষেরই মান।
সংস্কৃতি হোক সেতুবন্ধ—গান, কবিতা, শিল্প,
হৃদয় ছুঁলেই গলে যায় নিষ্ঠুরতার শিল।
ভাষার কোমল স্পর্শে জাগে মানববোধ,
সৌন্দর্যই শেখায় শান্ত জয়ের রোধ।
প্রযুক্তি রাখি শাসনে—মানুষ হোক লক্ষ্য,
লাভ নয়, কল্যাণ গড়ুক নৈতিক নকশা-পথ্য।
ডিজিটাল হাতেও থাক মানবিক ছোঁয়া,
তবেই ভবিষ্যৎ পথে নামবে আলোর ধারা।
শতকরা বাড়াতে চাই? শুরু হোক আজ, এখন,
আমি বদলাই, তুমি বদলাও—বদলাবে সমাজ-মন।
মনুষ্যত্ব কোনো স্লোগান নয়, নিত্য সাধনার ফল,
এই পথেই মানুষ হয় মানুষ—এই সত্য চিরঅটল।
**মনুষ্যত্বের শতকরা বৃদ্ধি***
মনুষ্যত্ব কোনো জন্মগত অলংকার নয়,
এ এক অর্জিত গুণ—চর্চায় যার হয় নির্ণয়।
যেখানে সহমর্ম আছে, ন্যায় আছে বল,
সেখানেই মানুষ হয় মানুষ—এই সত্য অটল।
সভ্যতার উচ্চতা মাপা যায় না শুধু গগনে,
মাপা যায় মানুষের আচরণ, মননে।
এই অধ্যায়ে আলোচিত হবে সেইসব পথ,
যে পথে চললে বাড়ে মানবিক শতকরা সত্য।
শ্রবণ ও সহমর্মিতা : মনুষ্যত্বের প্রথম পাঠ
কথার আগে শোনা শিখি—এই হোক নিয়ম,
অন্যের ব্যথা বুঝতে পারাই মানবিক ধর্ম।
যে শোনে মন দিয়ে, সে বোঝে গভীর,
অহংকার সেখানে হয় ক্ষুদ্র ও নীর।
হিংসা নয়, সহমর্ম হোক চিন্তার কেন্দ্র,
এতেই নরম হয় সমাজের কঠিন অন্তর।
শোনার অভ্যাস গড়ে সহানুভূতির ঘাট,
এই ঘাট দিয়েই শুরু হয় মনুষ্যত্বের যাত্রাপথ।
***
দুর্বলের পাশে দাঁড়ানোই শক্তির প্রমাণ,
ক্ষমতা নয়, ন্যায়ই গড়ে মানুষের মান।
আইন যদি কেবল থাকে কাগজের পাতায়,
হৃদয়ে নীতি না থাকলে সে আইন ভাঙে গায়।
সমতার আলোয় ভিজুক সমাজের রীতি,
ন্যায়বোধ ছাড়া সভ্যতা হয় কেবলই ভ্রান্ত কৃতি।
শিক্ষা মানে মুখস্থ নয়, নম্বরের খেলা,
শিক্ষা মানে বিবেক গড়া—এই হোক মেলা।
লজ্জা, দায়, দায়িত্ব শেখাক পাঠ্যজ্ঞান,
তবেই শিক্ষিত মানুষ হয় মানবিক প্রাণ।
ইতিহাসে লিখি দয়ার সাহসী অধ্যায়,
বিজ্ঞানে রাখি নীতি—সংযমের ছায়া।
মানবিকতা ছাড়া জ্ঞান হয় শীতল ধার,
সে জ্ঞান সভ্যতা নয়, বরং ধ্বংসের দ্বার।
কথা কম, কাজ বেশি—এই হোক নীতি,
কর্মেই প্রকাশ পাক মানবিক কৃতি।
প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবেই হোক প্রমাণ,
মানুষ চেনে মানুষকে কর্মেরই মান।
ক্ষুধার পাশে রুটি, শীতে উষ্ণ হাত,
এই ছোট কাজেই বদলায় সমাজের ঘাট।
বড় পরিবর্তন আসে ক্ষুদ্র সেবায়,
মানবিকতা জন্ম নেয় দৈনন্দিন দায়ে।
ভিন্নতা মানি—রং, ভাষা, মত, বিশ্বাস,
সম্মান ছাড়া গড়ে না সহাবস্থানের আকাশ।
একত্ব মানে একরূপ নয়—এই বোধ জাগে,
যখন সম্মান থাকে প্রতিটি মানবিক ভাগে।
আমি নই কেন্দ্র—আমরাই কেন্দ্রবিন্দু,
এই ভাব ভাঙলে কমে অহংকারের সিন্ধু।
ভিন্নতাকে মানা মানেই মানুষ হওয়া,
এটাই সভ্য সমাজের প্রথম চাওয়া।
ভুল স্বীকারে সাহস লাগে—এই শিক্ষা জরুরি,
ক্ষমা চাইতে জানা মানেই চরিত্রের কড়ি।
জবাবদিহি ছাড়া ক্ষমতা হয় অন্ধ,
নম্রতা ছাড়া নেতৃত্ব হয় দুর্বল ও দ্বন্দ্ব।
ক্ষমতা মানে দায়িত্ব—দম্ভ নয় কখনো,
নম্রতায় উচ্চে ওঠে মানুষই শ্রেষ্ঠতম।
যে নিজেকে শোধরাতে পারে নির্ভয়ে,
সেই মানুষই সমাজকে রাখে স্থির পথে।
সংস্কৃতি হোক সেতু—গান, কবিতা, শিল্প,
হৃদয় ছুঁলেই গলে যায় নিষ্ঠুরতার শিল।
সৌন্দর্য শেখায় সহনশীলতা ও শান্তি,
মানুষকে মানুষ করে শিল্পেরই কান্তি।
ভাষার কোমল স্পর্শে জাগে মানববোধ,
শিল্প শেখায় কীভাবে দমন করতে হয় ক্রোধ।
সংস্কৃতি যেখানে জীবিত ও সচল,
সেই সমাজেই মনুষ্যত্ব থাকে প্রজ্বল।
প্রযুক্তি হোক উপকরণ—মানুষ হোক লক্ষ্য,
লাভ নয়, কল্যাণ গড়ুক নৈতিক নকশা-পথ্য।
মানবিক স্পর্শ থাকুক ডিজিটাল হাতে,
নইলে যন্ত্রই শাসন করবে মানুষের পথে।
যেখানে প্রযুক্তি নীতির সঙ্গে চলে,
সেখানে ভবিষ্যৎ আলোর পথে দোলে।
মানুষ যদি নিয়ন্ত্রণ হারায় প্রযুক্তির কাছে,
মনুষ্যত্ব হারায় সে অজান্তেই তার পাছে।
শতকরা বাড়াতে চাই? শুরু হোক নিজে,
আমি বদলাই—তবেই বদলাবে সমাজ সিঁড়ে।
মনুষ্যত্ব কোনো স্লোগান নয়, বক্তৃতার ফল নয়,
এ নিত্য চর্চার সাধনা—অবিরাম প্রয়াসময়।
যে সমাজে মানুষ মানুষকে মানুষ ভাবে,
সেই সমাজই টিকে থাকে ইতিহাসের খাতে।
এই অধ্যায়ের শিক্ষা এক বাক্যে অটল—
মনুষ্যত্বই মানবতার সর্বোচ্চ ফল।
১৫
২৫ মন্তব্য