সহকারী শিক্ষক
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:২৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বিদায় ( শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের কবিতা)
লেখকঃ মোঃ টিপু সুলতান
বিদায়ের সুরে মৌন চিত্ত অশ্রুসিক্ত আঁখি।
বিরহের আলাপ শোকাহত প্রলাপ কেমনে ধরে রাখি?
আজও মনে ভাসে ফিরে ফিরে আসে হারানো স্মৃতির জ্বালা।
এই প্রভাতে ছিন্ন হলো প্রীতির বন্ধন মালা।
এইতো সেদিন, প্রথম যেদিন এসেছিলাম সেই ভোরে।
কত শত চোঁখ বিদ্যান লোক নিয়েছিলো আপন করে।
বড় ভাইবোন শিক্ষক জন দিয়েছিলো বরণ ডালা।
চোখের নিমিষে ফুরিয়ে গেলো এসে গেলো বিদায় পালা।
আর পাবনা এমনি করে শিক্ষকের স্নেহধারা।
শোনাবেনা কেউ চিত্রার ঢেউ কেমন বাঁধন হারা।
ফোটাবেনা কেউ কথার গোলাপ জ্ঞানের প্রদীপ শিখা।
আমাদের এই হৃদয়ের বন্ধন ললাটে ছিলো লিখা।
পাঁচটি বছর, পাঁচটি সোপান কাটিয়েছি কত ধীরে।
জীবন যেন হোঁচট খেল বিষাদ সিন্ধুর তীরে।
কত কিছু পাবো কিযে হারাবো জীবন নদীর বাঁকে।
আজ হারালাম স্মৃতির রুমাল ফিরে পাবনা তাকে।
গ্রীষ্ম বর্ষা শরত হেমন্ত কত করেছি পার।
বসন্তের এই মাতাল হাওয়ার সৌরভ পাব না আর।
ইতিহাসের মালা গণিতের জ্বালা ইংরেজি বাংলার রসে।
স্যারের জাদুকরি শিখন ছোঁয়ায় চিত্ত এনেছি বসে।
শ্রেণিকক্ষ মুখরিত কানন,, স্যারের অমীয় বাণী।
অবাধ্য জনেরে বিকশিত করতো চুম্বকের মতো টানি।
কত স্নেহভরা মুখ পাঠের সুখ শ্রেণিতে প্রতিদিন।
এই জনমে শোধ হবে না শিক্ষা গুরুর ঋণ।
কায়িক শ্রম শোধ হতে পারে নিত্য দিনের কাজে।
শিক্ষকের দেয়া মেধাশ্রম মর্মে মর্মে বাজে।
শ্রেণি কক্ষ আনন্দ ভূবন শিক্ষা গুরুর গুনে।
সময় যেন সংকুচিত হয়েছে তাদের মধুবাণী শুনে।
আচার আচরণ নিয়ম কানুন শিখেছি হৃদয় ভরে।
পিথাগোরাস আর সক্রেটিসের বাণী করকমলে করে।
নিয়তির লেখা ললাটের রেখা অমোঘ নিয়ম ভাই।
সেই সত্য পাঠে জীবন কাটে জীবন স্রোত তাই।
নিয়তির চক্রে, বৃত্তের বক্রে পালাক্রমে আসা যাওয়া।
ক্ষূদ্র জীবনের অমূল্য স্মৃতি আজকের এই পাওয়া।
অনাগত দিনে আসবে কত আমাদের মত জন।
সময়ের গর্ভে মিলবে কি কখনও মনের সাথে মন?
এই অঙ্গনে ফুঁটবে কত গোলাপ বকুল বেলি।
কৃষ্ণচূড়া আর জারুলের শাখায় হবে কত কলকাকলি।
ফিরে পাব না সেই শৈশব লাজুক দিনের স্মৃতি ।
যুগের ধর্ম সময়ের কর্ম এটাই বিধির রীতি।
দিকে দিকে আজ বাজিছে সানাই বেহালার করুন সুর।
এই ক্ষনে শুধু বিদায়ের বার্তা যেতে হবে বহুদুর।
দুরে গেলেও ভুলে যাবনা এই হৃদয়ের টান।
পরবাসে গেলেও স্মৃতি চর্বন মন হবে উচাটন।
বিদায় চাইছি প্রিয় বন্ধু, শিক্ষক, গুরুজন।
মানুষের মতো যেন মানুষ হতে পারি এটাই আরাধ্য ধন।
১
২ মন্তব্য