সহকারী শিক্ষক
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৩৭ অপরাহ্ণ
মুরগী মা হওয়ার পর কেন রেগে যায়—প্রকৃতির সুরক্ষা প্রবৃত্তি
ভূমিকা
প্রাণীদের মধ্যে সন্তান জন্ম বা ডিম ফোটার পর আচরণগত পরিবর্তন দেখা যায়। মুরগী মা হওয়ার পর অনেক সময় আক্রমণাত্মক বা রাগী হয়ে ওঠে। এটি আসলে তাদের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রবৃত্তি এবং শরীরের হরমোন পরিবর্তনের ফলাফল।
মূল হরমোনের ভূমিকা
1. অক্সিটোসিন (Oxytocin)
• সন্তান জন্ম বা ডিম ফোটার পর মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন বাড়ে।
• এটি মা মুরগীর মধ্যে সন্তান রক্ষার প্রবৃত্তি ও আক্রমণাত্মক আচরণ সক্রিয় করে।
2. প্রোল্যাকটিন (Prolactin)
• ডিম ফোটানো ও বাচ্চা লালন-পালনের সময় প্রোল্যাকটিন হরমোন বৃদ্ধি পায়।
• এটি মা মুরগীর মাতৃত্ববোধ ও প্রতিরক্ষা আচরণ বাড়ায়।
3. টেস্টোস্টেরন (Testosterone)
• কিছু ক্ষেত্রে মুরগীর শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়তে পারে।
• এটি তাদের আক্রমণাত্মক প্রবণতা বাড়ায়।
কেন রেগে যায়?
• সন্তান রক্ষার প্রবৃত্তি: বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
• হরমোন পরিবর্তন: অক্সিটোসিন ও প্রোল্যাকটিন মায়ের প্রতিরক্ষা আচরণ বাড়ায়।
• পরিবেশগত চাপ: অপরিচিত মানুষ, প্রাণী বা শব্দকে হুমকি মনে করে।
শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় দিক
• প্রাণীর আচরণে হরমোনের প্রভাব বোঝা যায়।
• মা হওয়ার পর প্রাণীরা সন্তান রক্ষায় স্বাভাবিকভাবেই আক্রমণাত্মক হয়।
• এটি জীববিজ্ঞানের একটি বাস্তব উদাহরণ, যা প্রাণীর আচরণ ও হরমোন পরিবর্তন শেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
মুরগী মা হওয়ার পর রেগে যায় কারণ এটি তাদের অক্সিটোসিন, প্রোল্যাকটিন ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রবৃত্তির ফলাফল। প্রকৃতি এভাবেই সন্তানকে রক্ষা করার জন্য মায়ের আচরণকে শক্তিশালী করে।
১
২ মন্তব্য