Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সন্তান প্রতিপালন ইসলামী রূপরেখা
ইসলামে সন্তান প্রতিপালন কেবল একটি পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি মহান ইবাদত এবং পরকালীন জবাবদিহিতার বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের প্রত্যেকেই একজন অভিভাবক এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে" । 
সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ইসলামী রূপরেখা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. জন্মের পর প্রাথমিক করণীয়
  • আযান ও ইকামত: জন্মের পর কানে আযান ও ইকামত দেওয়া।
  • তাহনীক ও নামকরণ: কোনো নেককার লোক দ্বারা খেজুর চিবিয়ে বা মিষ্টি জাতীয় কিছু দিয়ে বাচ্চার মুখে দেওয়া এবং একটি অর্থবহ ইসলামী নাম রাখা ।
  • আকিকা: সপ্তম দিনে বা সামর্থ্য অনুযায়ী সন্তানের পক্ষ থেকে পশু কোরবানি করা। 
২. তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়
নবীজি (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী সন্তান লালন-পালনকে তিনটি প্রধান ধাপে ভাগ করা যায়  
  • প্রথম ৭ বছর (খেলাধুলা ও স্নেহ): এই বয়সে সন্তানের সাথে বন্ধুর মতো মিশতে হবে, তাদের ওপর কঠোরতা না করে স্নেহ-মমতা ও খেলার মাধ্যমে ভালোবাসা দিতে হবে ।
  • পরবর্তী ৭ বছর (শিক্ষা ও শৃঙ্খলা): ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সে নৈতিকতা, শিষ্টাচার এবং ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে। যেমন: ৭ বছর বয়স থেকে নামাজের নির্দেশ দেওয়া ।
  • তৃতীয় ৭ বছর (পরামর্শ ও বন্ধুত্ব): ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সে তাকে বড়দের মতো সম্মান দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার পরামর্শ নেওয়া ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা । 
৩. শিক্ষার মৌলিক দিকসমূহ
  • তাওহীদ ও ঈমান: সন্তানকে সবার আগে আল্লাহর একত্ববাদ এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস সম্পর্কে জ্ঞান দিতে হবে ।
  • নৈতিক চরিত্র (আদব): সততা, বিনয়, আমানতদারি এবং বড়দের শ্রদ্ধা করার মতো গুণাবলী শেখানো ।
  • প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতা: সন্তানদের সাঁতার কাটা, তীর নিক্ষেপ বা আত্মরক্ষামূলক এবং শরীরচর্চামূলক কাজে উৎসাহিত করা । 
৪. অভিভাবকের আচরণগত মূলনীতি
  • আদর্শ হওয়া: সন্তান কথা শোনার চেয়ে বাবা-মায়ের কাজ দেখে বেশি শেখে। তাই নিজেকে আগে আদর্শ মুমিন হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে ।
  • মমতা ও শাসন: শাসন করতে হবে মমতা দিয়ে, কঠোরতা বা নিষ্ঠুরতা দিয়ে নয়। শারীরিক প্রহার বা মানসিক নির্যাতন ইসলাম সমর্থন করে না ।
  • দুআ করা: সন্তানের জন্য নিয়মিত আল্লাহর কাছে দুআ করা। পিতামাতার দুআ সন্তানের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী । 
মন্তব্য করুন

ব্লগ