সহকারী অধ্যাপক
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
المهرجان الرياضي والثقافي السنوي
আলহামদুলিল্লাহ সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ-
গত ১, ২ ও ৩ জানুয়ারি এ তিনদিন ব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ও প্রাণবন্ত ভাবে শেষ হলো আজ ৯ জানুয়ারি। এতে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেছেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আব্দুল্লাহ স্যার, সভাপতি: পাতাড়ী ফাযিল মাদ্রাসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বডির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরম শ্রদ্ধাভাজন অধ্যক্ষ জনাব মোঃ সানাউল্লাহ স্যার। সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম আমি অধম।
ইনডোর ও আউটডোর মিলে ছোট বড় ২৫০টির মতো পুরস্কার বিতরণ করা হয় কৃতিত্ব প্রদর্শনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে। এতে প্রথম শ্রেণি থেকে ফাযিল তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণ করে আনন্দে মুখরিত করে তুলেছিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ! যা স্বরণীয় হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন সৈয়দ শামসুল হক–এর বিখ্যাত কবিতার বেশ কয়েকটি চরণ।
সকল শিশু ঘুমিয়ে আছে
সকল শিশু ঘুমিয়ে আছে, শান্ত নদীটি একা জেগে,
সকল শিশু ঘুমিয়ে আছে, আকাশ এখন তারার ভিড়ে।
পাখিরা সব ডানায় মুখে, ঘুমিয়ে আছে নীড়ের কোণে,
ফুলেরাও সব চোখ বুজেছে শিশির-ভেজা মধুর গন্ধে।
সকল শিশু ঘুমিয়ে আছে, দুধ-ভরা মায়ের বুকে,
চাঁদটা শুধু পাহারা দেয় নীল আকাশের ফাঁকা সুখে।
নদী শুধু জেগে আছে, বয়ে চলে আপন মনে,
সবাই ঘুমায়, শুধু নদী জাগে আপন আপন সনে।
ঘুমিয়ে আছে রাজপুত্রও, ঘুমিয়ে আছে রাজার মেয়ে,
ঘুমিয়ে আছে রাখাল ছেলে মাঠের ধারে গরু বেঁধে।
সকল শিশু ঘুমিয়ে আছে স্বপ্নলোকে ডুবে ডুবে,
নদী শুধু গল্প বলে জোছনারই রূপের তূরে।
তিনি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলা-ধুলা, নীতি- নৈতিকতা, উত্তম আদর্শ, নিষ্ঠা, সৎ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে তাগিদ দেন। ২৪ এর জুলাই বিপ্লবে দেশের বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থী, কিশোর ও যুবক যেভাবে দেশমাতৃকা রক্ষার জন্য নিজেদের সম্পৃক্ত করেছিল ঠিক সেভাবেই দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের সম্পৃক্ত করবে হবে মর্মে বক্তব্য পেশ করেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের আর পিছিয়ে পড়ার সুযোগ নেই এ বিষয়েও আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠান সভাপতি তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন: একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলা-ধুলা জরুরী। শরীর ও মন ভালো থাকলে লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়া যায়। আর এ জন্যই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সারা বছর লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলা-ধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের মেধা ও মননশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে। আমার প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি, শিক্ষক মন্ডলী ও অভিভাবকগণ সব সময় তোমাদের পাশে আছেন। আমরা উপজেলা, জেলা, বিভাগ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। তোমাদের জনাব আব্দুল আলীম স্যার তা করে দেখিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। আমার প্রত্যাশা তোমরাও শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং মাদ্রাসার সুনাম ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে দিবে। তিনি সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গভর্নিং বডি, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
১
১ মন্তব্য