Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৮:২২ পূর্বাহ্ণ

প্রভূর সাক্ষাৎ -মোঃ মুজিবুর রহমান

  সূরাঃ ৮৪/ আল-ইনশিকাক  আয়াতঃ ৬-১৩  মাক্কী

প্রভূর সাক্ষাৎ

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

হে মানুষ, শোনো—জীবন এক দীর্ঘ যাত্রাপথ,

রবের দিকে চলছ তুমি, কদমে কদমে শ্রমরত।

ঘামে ভেজা দিন-রাত, অন্তর জাগে প্রশ্নবাণী—

শেষে গিয়ে কার সামনে খুলবে আমলের কাহিনী?

কেউ পাবে ডান হাতে তার লিখিত কর্মফল,

হালকা হবে হিসাব তার, প্রশান্ত হবে মন-অচল।

হাসি মুখে ফিরবে সে আপন ঘরের ছায়ায়,

সফলতার নূর ঝরবে তার চোখের গভীরতায়।

আর কেউ পাবে পিঠের পেছন, লজ্জার ভারে নত,

নিজেই ডাকবে ধ্বংসকে, বুঝে যাবে পরিণত।

আগুনের পথে পা বাড়াবে—ভুলেরই ফল পেয়ে,

যে আনন্দে ছিল দুনিয়ায়, রবকে ভুলে গেয়ে।

আহা! দুনিয়ার হাসি ক্ষণিক, ভুলায় শেষ বিচার,

নিরবধি যে সাক্ষাৎ আসবে—রবের সম্মুখে দাঁড়াবার।

তাই আজই গড়ো আমল, আজই হও সাবধান,

যেন ডান হাতে লেখা হয় তোমার জীবনের দান।

হে মানুষ, শ্রম বৃথা নয়—এই আশ্বাস সত্য,

রবের কাছে পৌঁছাবেই তুমি, এটাই চিরন্তন নিত্য।

পথ কঠিন, শেষ সুমধুর—যদি থাকো তাঁর পথে,

সাক্ষাতে মিলবে শান্তি, অনন্ত আলো সাথে। ✨

 ***

হে মানুষ, শোনো—পথটি কঠিন,

রবের দিকে চলা শ্রমে অধীন।

কদহে কদহে ক্ষয় হয় প্রাণ,

শেষে মিলিবে রবের সম্মান।

দিন-রাত মিলে গড়ছ তুমি,

আমলের ভার বহন ভূমি।

একদিন খুলবে গোপন খাতা,

মুছবে না কেউ লেখা পাতা।

ডান হাতে পেলে কর্মলেখ,

সহজ হবে হিসাব-দেখ।

শান্ত মুখে ফিরবে ঘরে,

আনন্দ ঝরবে অন্তরভরে।

পরিজনের মাঝে হাসি-ধ্বনি,

নূরে ভাসবে জীবন-ক্ষরণি।

সফলতার সেই শুভ সংবাদ,

রবের দানে মহা-প্রসাদ।

আর যে পাবে পিঠের পেছন,

ভেঙে পড়বে অহং-আসন।

ধ্বংস ডাকবে কণ্ঠ ছিঁড়ে,

আফসোসে প্রাণ যাবে পুড়ে।

আগুনের পথে হবে গমন,

ভুলে গিয়েছিল রবের শাসন।

দুনিয়ার হাসি ছিল যার ধ্যান,

ভুলে ছিল বিচার-সন্ধ্যান।

হে মানুষ, ভুলো না আজ,

এই পথের শেষ আছে সাজ।

শ্রম বৃথা নয়—এ সত্য বাণী,

রবের কাছে মিলবে জানি।

আজই গড়ো আমলের ভার,

আজই হও সৎ, দৃঢ়, সাবধান আর।

যেন ডান হাতে ওঠে নাম,

সাক্ষাতে মেলে চির-সালাম।

 ***

হে মানুষ—শোনো মহাকালের ডাক,

তুমি পথিক, নও স্থির কোন ধাক্কা-মাক।

জন্মের লগ্নে বেঁধে দেওয়া হয়েছে ভার,

শ্রমের পথে চলাই তোমার একমাত্র অধিকার।

শ্বাসে শ্বাসে বহন করো অদৃশ্য বোঝা,

দিনে দিনে গড়ে ওঠে আমলের খোঁজা।

ঘাম ঝরে পড়ে নিয়তির পাতায়,

প্রতিটি পা লেখা হয় আসমানি খাতায়।

তুমি চাও বা না চাও—চলছই রবের দিকে,

কদহে কদহে ক্ষয় হও, ক্ষণে ক্ষণে ঝিকে।

নিদ্রা, হাসি, অশ্রু, সাধনা—সবই সাক্ষী,

এই পথের শেষ প্রান্তে নেই কোনো ফাঁকি।

একদিন থামবে সময়, থামবে এই ধারা,

নীরব হবে আকাশ, স্তব্ধ হবে তারা।

খুলে যাবে গ্রন্থ, গোপন সব কথা,

প্রকাশ পাবে সেদিন অন্তরের ব্যথা।

না থাকবে ভাষণ, না থাকবে অজুহাত,

কর্মই হবে কণ্ঠ, কর্মই হবে হাত।

যা বুনেছ গোপনে, ফল দেবে প্রকাশে,

রবের দরবারে কিছুই নয় আড়ালে।

যে পাবে ডান হাতে কর্মের লিখন,

তার জন্য খুলে যাবে রহমতের দিগন্ত।

হালকা হবে হিসাব, সহজ হবে পথ,

মুছে যাবে ভয়ের ধুলো, ঝরে যাবে ক্লান্তি-শোথ।

তার মুখে ফুটবে প্রশান্তির আলো,

চোখে থাকবে তৃপ্তির নির্ভার ভালো।

সে ফিরবে ঘরে—আনন্দে ভরা,

পরিজনের মাঝে হবে সম্মানিত ধারা।

বলবে সে—“নাও, দেখো আমার গ্রন্থ!”

গর্ব নয়—এ কৃতজ্ঞতারই অন্তঃস্থ।

রবের দানে পেয়েছে সে চির-নির্ভয়,

এই তো সফলতা, এই তো মহা-সুখময়।

আর যে পাবে গ্রন্থ পিঠের পেছনে,

ভেঙে পড়বে সে মুহূর্তেই নিজের চেনে।

ধ্বংস, ধ্বংস—ডাকবে সে বারবার,

জেনে যাবে ফিরবার নেই আর।

দুনিয়ায় যে ছিল হাসি-গানে মত্ত,

আজ সে বুঝবে সেই আনন্দ ছিল ভ্রান্ত।

আগুনের পথে এগোবে অনিচ্ছায়,

নিজ কর্মই টেনে নেবে সে দহনে দায়।

সে বলত—“আমার ঘর, আমার দল,

আমার হাসি, আমারই ফল।”

ভুলে গিয়েছিল বিচার, ভুলে গিয়েছিল রব,

অহংকারে ঢেকেছিল অন্তরের সব।

আজ সেই হাসি আগুনে রূপ নেয়,

সেই নিশ্চিন্ততা আর রক্ষা দেয় না হে।

পরিবার, সম্পদ—কেউ পাশে নেই,

কেবল কর্মফল—অটল, নিষ্ঠুর, নির্দ্বিধায়।

হে মানুষ—এখনও সময় আছে হাতে,

লেখা চলছে এখনো জীবনের পাতায়।

কদহের পথ কঠিন, তবু আলোকময়,

শেষে আছে সাক্ষাৎ—ভয় নয়, যদি হও নির্ভয়।

আজই গড়ো আমল, আজই হও সজাগ,

যেন ডান হাতে ওঠে তোমার নাম-নিশান।

শ্রম বৃথা নয়—রব নিজেই সাক্ষী,

যে তাঁর পথে চলে, সে কখনো নিঃস্ব নাকি?

শেষে যখন মিলবে সেই মহাসাক্ষাৎ,

(তখন যেন বলতে পারো—“রব, আমি এসেছি নত মাথায়, সৎ প্রার্থনায়।”)

 

মন্তব্য করুন