Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ

নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন (সূরা আল-মুলক : ৬–১০-এর আলোকে) - মোঃ মুজিবুর রহমান


নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন

(সূরা আল-মুলক : ৬–১০-এর আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

যারা রবকে অস্বীকার করে, অন্ধ অহংকারে,

তাদেরই জন্য অপেক্ষায়—জাহান্নামের দ্বার-পারে।

কী নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তন, কী ভয়ংকর পরিণাম,

সত্যের পথ ত্যাগ করে যারা, হারাল হিদায়াতের নাম।

নিক্ষিপ্ত হলে আগুনে তারা—শুনবে বিকট ধ্বনি,

ক্রোধে উথলে উঠবে তা, কাঁপবে আত্মার ধ্বনি।

আগুন যেন ক্ষোভে ফেটে যায়, সীমা ভাঙার তরে,

অন্যায়ের ভার বহন করে আর পারছে না সহে।

দলেদলে যখন নিক্ষেপ করা হবে অন্ধ জন,

প্রহরীরা জিজ্ঞেস করবে—“আসেনি কি সতর্ক বাণী-কণ্ঠন?”

তখন লজ্জায় নুয়ে পড়বে অবাধ্য অন্তর সব,

বলবে তারা—“হ্যাঁ, এসেছিল আমাদের নিকট রবের দূত-দল।”

কিন্তু আমরা তাকে অস্বীকার করেছি দম্ভে,

বলেছিলাম—“নাযিল হয়নি কিছুই, সবই বিভ্রান্তির গম্ভে।”

শুনিনি আমরা সত্যের ডাক, বুঝিনি বাণীর মানে,

আজ সে অবহেলার ফলেই দাঁড়ালাম আগুন-স্থানে।

হায় আফসোস! তারা বলবে, ভারাক্রান্ত কণ্ঠে—

“যদি শুনতাম, যদি বুঝতাম, হেদায়াতের পন্থে,

তবে আজ আমরা জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা হতাম না,

সত্যের আহ্বান অবহেলায় ফিরিয়ে দিতাম না।”

এ আয়াত কেবল ইতিহাস নয়—এ জীবন্ত সতর্কতা,

আজও ডাকে বিবেককে, ভাঙে ঘুমন্ত অচেতনতা।

শোনো, বোঝো, গ্রহণ করো—যতক্ষণ আছে সময়,

ফিরে এসো রবের পথে—এতেই মুক্তি, এটাই নির্ভয়।

 ***

যারা রবের সত্য অস্বীকারে গড়ল অহংকার,

তাদেরই জন্য প্রস্তুত আছে জাহান্নাম-আগ্নেয় দ্বার।

নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তন, ভয়ংকর সে ঠিকানা,

হিদায়াতের আলো ছেড়ে বেছে নিল অন্ধ মানা।

নিক্ষিপ্ত হলে আগুনে তারা—শুনবে বিকট রোল,

ক্রোধে ফুঁসে উঠবে দাহ, কাঁপবে আত্মার মূল।

উথলে উঠবে শিখা-ঢেউ, সীমা ভাঙার তরে,

পাপের ভারে জ্বলছে আগুন, ধৈর্য হারিয়ে মরে।

দলেদলে যখন নিক্ষেপ হবে অবাধ্য মানবগণ,

প্রহরীরা প্রশ্ন করবে—“এলো না কি সতর্ক বাণী-ধ্বন?”

লজ্জাভারে স্বীকার করবে কঠিন সেই কথা,

“এসেছিল সতর্ককারী—ছিল তার সত্যতা।”

“কিন্তু আমরা মিথ্যা বলেছি, করেছি অস্বীকার,

বলেছি—‘নাযিল হয়নি কিছু, সবই বিভ্রান্তির ভার।’

শুনিনি আমরা সত্যের ডাক, বুঝিনি তার মানে,

আজ তাই জ্বলছি আগুনে—নিজ কর্মের টানে।”

 

আফসোসে তারা বলবে—ভাঙা কণ্ঠের সুরে,

“শুনলে যদি, বুঝলে যদি, থাকতাম না এই আগুনে।

জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা হতাম না আজ,

অবহেলায় হারালাম আমরা হেদায়াতের রাজ।”

এ আয়াত কেবল কাহিনি নয়—জাগ্রত সতর্ক ধ্বনি,

আজও ডাকে জীবিত বিবেক, ভাঙে ঘুমন্ত ধরণী।

শোনো, বোঝো, গ্রহণ করো—থাকতেই যে সময়,

ফিরে এসো রবের পথে—এটাই মুক্তি, এটাই ভয়-নির্ভয়।

 ***

যারা রবের নাম অস্বীকারে বাঁধল অহংকার,

তাদেরই জন্য নির্ধারিত জাহান্নাম-অগ্নিদ্বার।

সত্যের আহ্বান শুনেও যারা ফিরাল মুখপান,

তাদের পথের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে দহনস্থান।

নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তন—ভয়ংকর সে ঠিকানা,

হিদায়াতের আলো ছেড়ে বেছে নিল অন্ধ মানা।

রহমতের দ্বার খোলা ছিল, ডাকছিল করুণ স্বর,

কিন্তু তারা দম্ভে বলল—“আমরা নিজেরই প্রভুর।”

যখনই নিক্ষেপ হবে তারা অগ্নিকুণ্ডের মাঝে,

শুনবে বিকট গর্জন-ধ্বনি—কাঁপবে অন্তর-সাজে।

উথলে উঠবে আগুন তখন ক্ষোভের সীমা ভেঙে,

অন্যায়ের ভারে জ্বলছে সে, ধৈর্য হারিয়ে রেঙে।

শিখা-ঢেউয়ের গর্জনে মিশে যাবে আত্মার আর্তি,

নীরবতা ভাঙবে সেখানে ন্যায়বিচারের শক্তি।

এ আগুন কাহিনি নয়—এ কর্মেরই প্রতিধ্বনি,

যা বপন করেছিল মানুষ, তাই কাটে চিরদিনি।

দলেদলে যখন নিক্ষেপ হবে অবাধ্য মানবগণ,

প্রহরীরা জিজ্ঞেস করবে কঠোর সত্য-প্রশ্নণ—

“এলো না কি তোমাদের কাছে সতর্ক বাণী-ধ্বনি?

পৌঁছায়নি কি দূতদের ডাক, আলোর পথের রশ্মি?”

লজ্জায় নুয়ে পড়বে তারা, নীরব হবে ভাষা,

অবশেষে স্বীকার করবে ভাঙা আত্মার আশা—

“হ্যাঁ, এসেছিল সতর্ককারী, ছিল তার সত্যতা,

কিন্তু আমরা তাকে অস্বীকার করেছি দম্ভতা।”

“বলেছিলাম—‘নাযিল হয়নি কিছু, সবই বিভ্রান্তি,’

সত্যের আহ্বান শুনেও করেছি অবমানতি।

শুনিনি আমরা বাণীর গভীর, বুঝিনি তার মানে,

আজ তাই দণ্ডিত আমরা আগুনেরই টানে।”

এ স্বীকারোক্তি দেরিতে আসে, ফলের পরে ফল,

সময় থাকতে মানলে সত্য, ভিন্ন হতো পথচল।

কিন্তু অবহেলার শিকলে বাঁধা ছিল বিবেক,

আজ সে শেকল ভাঙে শুধু অনুতাপের ক্ষণে এক।

আফসোসে তারা বলবে ভাঙা কণ্ঠের সুরে—

“শুনলে যদি, বুঝলে যদি, থাকতাম না এই আগুনে।

জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা হতাম না আজ,

হেদায়াতের পথে হাঁটলে পেতাম মুক্তির রাজ।”

কিন্তু আফসোসে ফেরে না সময়, ফেরে না সে দ্বার,

যা খোলা ছিল দুনিয়াতে—আজ তা অদৃশ্য-কারাগার।

এখানে কেবল ন্যায় কথা বলে কর্মের হিসাব,

প্রতিটি অস্বীকার লেখে অনিবার্য জবাব।

হে জীবিত মানব! এ আয়াত ইতিহাস নয় শুধু,

এ জীবন্ত সতর্কবার্তা—আজকের জন্যও ততটাই নতুন।

শোনো, বোঝো, গ্রহণ করো—যতক্ষণ আছে শ্বাস,

ফিরে এসো রবের পথে—এতেই শান্তি, এটাই আশ্বাস।

হেদায়াতের আলো এখনও জ্বলে অন্তর-পথে,

রহমতের দ্বার এখনও খোলা প্রত্যাবর্তন-রত্থে।

অহংকার ভেঙে ফেলো, সত্যকে করো গ্রহণ,

যেন নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন না হয় তোমার গন্তব্যস্থান।

মন্তব্য করুন

ব্লগ