Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

শিশুকে চিৎকার করে বকাবকি করলে কী হয়? জানলে অবাক হবেন

কাঁদছে, জেদ করছে, কথা শুনছে না দুই থেকে চার বছরের শিশুকে সামলানো যে কতটা কঠিন, তা বাবা-মা ও অভিভাবকরা ভালোই জানেন। ক্লান্তি ও চাপের মুহূর্তে অনেক সময় বড়দের মুখ থেকে চিৎকার বেরিয়ে আসে। আমাদের সমাজে বিষয়টিকে প্রায়ই হালকাভাবে দেখা হয় ‘বাচ্চা তো, কিছু মনে রাখবে না’। কিন্তু আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, বাস্তবতা মোটেও এতটা সহজ নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টডলার বা এক থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের মস্তিষ্ক এই ধরনের অভিজ্ঞতার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

চিৎকারকে শাসন নয়, বিপদের সংকেত ভাবে শিশুর মস্তিষ্ক হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড জানায়, জীবনের প্রথম কয়েক বছর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই পর্যায়েই আবেগ নিয়ন্ত্রণ, স্মৃতি ও স্ট্রেস মোকাবিলার সঙ্গে যুক্ত স্নায়ুপথগুলো তৈরি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট শিশুরা উচ্চস্বরে রাগী কণ্ঠকে ‘শাসন’ হিসেবে নয়, বরং ‘বিপদের সংকেত’ হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে চিৎকার শুনলেই তাদের শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এক-দুবার এমন হলে মস্তিষ্ক তা সামাল দিতে পারে, তবে নিয়মিত হলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

গবেষণায় মিলেছে মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত

ব্রেইন ইমেজিং ভিত্তিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শৈশবে বারবার কড়া বা রূঢ় ভাষার মুখোমুখি হয়েছে, তাদের মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট অংশে গঠনগত পরিবর্তনের ঝুঁকি বেশি। এসব অংশ স্মৃতি, শেখা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

আমেরিকান জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি-তে প্রকাশিত গবেষণাগুলোও বলছে, দীর্ঘদিনের উচ্চ স্ট্রেস শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

দোষারোপ নয়, সচেতনতার বার্তা

তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলছেন, এটি ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ বাবা-মা হওয়ার প্রশ্ন নয়। প্যারেন্টিং মানেই চাপ, ক্লান্তি ও ভুল। বিজ্ঞান শুধু এটুকুই জানাচ্ছে মস্তিষ্ক অভ্যাস থেকে শেখে। চিৎকার শিশুকে সতর্ক থাকতে শেখায়, শেখার পরিবেশ তৈরি করে না। অন্যদিকে শান্ত, পূর্বানুমেয় ও স্থির আচরণ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রকে নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়।

আশার কথা: শিশুর মস্তিষ্ক অত্যন্ত নমনীয় ভালো খবর হলো, শিশুর মস্তিষ্ক অত্যন্ত নমনীয়। একবার বা কয়েকবার চিৎকার হয়ে গেলেই সব শেষ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, চিৎকারের পর যদি বাবা-মা শান্তভাবে কথা বলেন, শিশুকে আশ্বস্ত করেন এবং আবেগগত সংযোগ তৈরি করেন, তাহলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র আবার স্থিতিশীল হতে পারে।

এতে শিশুর মস্তিষ্ক শেখে ভুল হলেও সম্পর্কটি নিরাপদ। আর সেই নিরাপত্তাবোধই সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি।

জে আই

মন্তব্য করুন

ব্লগ