Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০১:৫১ অপরাহ্ণ

বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব মোঃ মুজিবুর রহমান

  


বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

নিশ্চয়—বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব গড়ে হৃদয়ের আলোয়,

পারস্পরিক সহযোগে, সত্য ও সদ্ভাবনায়।

সহমর্মিতার ছায়ায় ব্যথা পায় উপশম,

শ্রদ্ধা-সম্মানের সেতু গড়ে মানুষের মন।

আন্তরিকতার স্পর্শে ভাঙে দূরত্বের দেয়াল,

মায়া-মমতা, স্নেহে নরম হয় কঠিন কাল।

ভাল কাজে প্রতিযোগিতা—হিংসা নয়, প্রেরণা,

কে বেশি উপকারে আসে—এই হোক কামনা।

ব্যক্তি থেকে পরিবারে ছড়াক এই শুদ্ধ গান,

সমাজে হোক সৌহার্দ্য, রাষ্ট্রে ন্যায়-সম্মান।

লোভ নয়—দান হোক শক্তি, ক্রোধ নয়—ক্ষমা,

বৈরিতা নয়—সংলাপে খুলুক আশার দিগন্ত-দ্বার।

হাত বাড়ালে হাত পায় হাত, চোখে চোখে বিশ্বাস,

ভিন্নতার মাঝেও মিল—এই তো মানবিক আশ্বাস।

এক পৃথিবী, এক পরিবার—ভাষা, বর্ণ, দেশ ছাড়িয়ে,

মানুষ মানুষকে বাঁচাক—মানুষত্বকে আঁকড়ে ধরে।

এই গুণে গড়া পথেই হোক আগামীর নির্মাণ,

বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব—হৃদয়ের সর্বোচ্চ অভিজ্ঞান

 ***

নিশ্চয়—বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব জন্ম নেয় হৃদয়ের ঘরে,

পারস্পরিক সহযোগে জীবন পায় নূতন ভোরে।

সহমর্মিতার আলোয় অশ্রু পায় আশ্বাস,

শ্রদ্ধা-সম্মানের বন্ধনে দৃঢ় হয় বিশ্বাস।

আন্তরিকতার স্রোতে ভাসে মানবিক গান,

মায়া-মমতা, স্নেহে নরম হয় পাথুরে প্রাণ।

ভাল ও মহৎ কাজে প্রতিযোগিতার ঢেউ—

কে বেশি উপকার করে, কে হয় মানবিক সেরা কেও।

ব্যক্তি গড়ে চরিত্রে এই গুণের দীপশিখা,

পরিবারে তা জ্বালে শান্তির উষ্ণ প্রদীপ-আলো।

সমাজে ছড়ায় সৌহার্দ্য, রাষ্ট্রে ন্যায়-নীতি,

আইন পায় মানবিক মুখ, ক্ষমতা পায় সংযম-প্রতীতি।

ভিন্ন মত, ভিন্ন পথ—তবু একই মানব-ছায়া,

বৈরিতা নয়, সংলাপ হোক সমাধানের মায়া।

হাত বাড়ালে হাত মেলে, দেয়াল হয় সেতুবন্ধ,

অহংকার ঝরে পড়ে, জাগে হৃদয়ের বন্ধন।

দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বময় এক পরিবার গড়া,

ঘৃণা নয়—ভালবাসায় পৃথিবী হোক ভরা।

এই গুণে গড়া পৃথিবী—এই আমাদের ব্রত,

বিশ্ব ভ্রাতৃত্বই হোক মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়, চিরন্তন সত্য।

 ***

নিশ্চয়—বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব কোনো স্লোগান নয়,

এটি হৃদয়ের সাধনা, মানবতার জয়।

পারস্পরিক সহযোগে পথ হয় আলোকিত,

একাকিত্ব ভাঙে তখন, জীবন হয় বিস্তৃত।

সহমর্মিতার বৃষ্টিতে শুকায় দুঃখ-ধুলো,

অন্যের ব্যথা বোঝা মানে—নিজেকেই জানা হলো।

শ্রদ্ধা আর সম্মানে গড়ে বিশ্বাসের সিঁড়ি,

ছোট-বড় ভেদ মুছে যায়, সমতা হয় দৃঢ়-নির্মিতি।

আন্তরিকতার উষ্ণতায় সম্পর্ক পায় প্রাণ,

কৃত্রিম হাসি ঝরে পড়ে, জাগে সত্যবান।

মায়া-মমতা, স্নেহে ভরে মনের শূন্য ঘর,

হৃদয় তখন শিখে নেয়—মানুষ হওয়াই বড়।

ভাল ও মহৎ কাজে হোক প্রতিযোগিতার রীতি,

কে বেশি দান করল আজ—এই হোক উন্নতির নীতি।

ঈর্ষা নয়, অনুপ্রেরণা জাগুক কর্মের ঢেউ,

নিজের জয় মানে তখন—সবার কল্যাণে ঢেউ।

ব্যক্তির চরিত্রে গড়া হোক এই গুণের ভিত্তি,

পরিবারে তা ফল দিক শান্তির অমৃতবৃষ্টি।

পিতা-মাতার সম্মান, সন্তানের স্নেহ-শাসন,

ভ্রাতৃত্বের প্রথম পাঠ—এই ঘরই প্রশিক্ষণ।

সমাজে ছড়াক সৌহার্দ্য, সহিষ্ণু সংলাপ,

ভিন্নমত মানেই শক্তি—ভাঙুক বিভেদের ফাঁপ।

ন্যায়ের পাশে মানবতা দাঁড়াক দৃঢ় পায়ে,

ক্ষমা হোক সাহস তখন, দুর্বলতা নয়—মনে রাখে।

রাষ্ট্রে নীতির মুকুটে মানবিকতার জ্যোতি,

ক্ষমতা নয়—সেবা হোক শাসনের পরিচিতি।

আইনের কঠোরতাও নিক করুণার স্পর্শ,

শাসন তখন পায় সম্মান, প্রজার মনে আস্থার বর্শ।

দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেখ—পৃথিবী এক নীড়,

ভাষা-বর্ণ-ধর্ম আলাদা, তবু মানুষ একই বীজ।

ঘৃণা নয়, সহাবস্থান হোক বৈশ্বিক চর্চা,

সংঘাত নয়—সংলাপে খুলুক আশার দরজা।

হাত বাড়ালে হাত পায় হাত, দেয়াল হয় সেতু,

অহংকার ঝরে গেলে জাগে মানবিক কেতু।

শোষণ নয়—সহভাগিতা গড়ুক নতুন কাল,

শান্তি তখন স্বপ্ন নয়, বাস্তবতার ফল।

এই গুণে গড়া পৃথিবী—এই আমাদের লক্ষ্য,

বিশ্ব ভ্রাতৃত্বে মিলুক ধর্ম, জাতি, পক্ষ।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ