প্রধান শিক্ষক
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ
সততার পুরস্কারের গল্প কথা.......
১. চরম শত্রুর প্রতিও ক্ষমা ও করুণা (মক্কা বিজয়): ২১ বছরের নির্যাতনের পর যেদিন মক্কা বিজিত হলো, সেদিন রাসূল (সা.) ঘোষণা করলেন, “আজকের দিনটি রহমতের দিন।” যারা তাকে পাথর ছুঁড়েছে, দেশছাড়া করেছে, প্রিয়জন হত্যা করেছে—সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তিনি সূরা ইউসুফের সেই ঐতিহাসিক বাণী শোনান: “আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন” ।
২. অপমানের জবাবে বদদোয়া নয়, হেদায়েতের প্রার্থনা (তায়েফ): তায়েফের শিশু-উচ্ছৃঙ্খল জনতা তাকে রক্তাক্ত করলেও ফেরেশতা জিবরাইল এসে বললেন, “আপনি অনুমতি দিন, এই দুই পর্বতের ফাঁকে সবাইকে চাপা দিই।” রাসূল (সা.) কেঁদে ফেললেন, কিন্তু বললেন, “তুমি নীরব থাকো। আমি আশা করি, তাদের ঔরস থেকেই আল্লাহ এমন এক বংশধর বের করবেন যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে” । এটি শুধু ক্ষমা নয়, চরম লাঞ্ছনার মধ্যেও শত্রুর হেদায়েতের জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা।
৩. আট দিরহামের গল্প: প্রয়োজনকে অতিক্রম করা দান: তিনি বাজারে গেলেন জামা কিনতে। পথে কাঁদতে দেখা এক মেয়েকে দু’দিরহাম দিলেন। চার দিরহামে একটি জামা কিনে ফেরার পথে এক বার্ধক্যের কাছে শুনলেন, “যে আমাকে বস্ত্র দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের বস্ত্র দান করুন।” সদ্য কেনা জামাটি খুলে তাকে দিয়ে দিলেন। অবশিষ্ট দুই দিরহামে আরেকটি জামা কিনে ফিরে দেখলেন এক দাসী কাঁদছে—প্রভুর কাছে দেরির শাস্তির ভয়ে। তিনি নিজে তার মনিবের বাড়ি গিয়ে সুপারিশ করলেন; মনিব শুধু ক্ষমাই করলেন না, তাকে মুক্তও করে দিলেন । এই একটি ঘটনায় দান, ত্যাগ ও দাসের মর্যাদা—তিনটি আদর্শ একসঙ্গে।
৪. রাজা-বাদশাহদের পত্রে আন্তঃধর্মীয় সম্মান: মিসরের রাজা মুকাউকিসকে লেখা পত্রে তিনি লিখেন: “হে কিতাবিগণ! এমন এক কথায় এসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান: আমরা আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করব না” । শুধু ডাক নয়, তাঁর দূত হাতিব ইবনে আবি বালতাআ মুকাউকিসকে বলেছিলেন, “আমরা তোমাদেরকে ঈসা (আ.)-এর দ্বিত্যাগ করতে বলছি না, বরং সেই দীনেরই পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করতে বলছি” ।
৫. পার্থিব রাজত্ব প্রত্যাখ্যান ও চরম সাদাসিধে জীবন: কুরাইশ নেতারা বলেছিল, “আমরা তোমাকে রাজা বানাব, ধন-ভাণ্ডার দেব—শুধু এ দাওয়াত বন্ধ করো।” জবাব ছিল, “আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্রও দিতে চাইলে আমি থামব না” । উমর (রা.) একদিন তাঁর ঘরে গিয়ে কাঁদলেন—তিনি শক্ত খেজুরের ডালের বিছানায় শুয়েছিলেন, যার ছাপ গায়ে লেগেছিল। রাসূল (সা.) বললেন, “তাদের দুনিয়া, আমাদের আখিরাত” ।
৬. স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও হাস্যরস: আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি ঘরে থাকলে পরিবারের কাজ করতেন, কাপড় নিজে সেলাই করতেন, জুতা নিজে মেরামত করতেন। একবার তিনি আয়েশাকে দৌড় প্রতিযোগিতায় হারালেন, হেসে বললেন, “এই দেখো, এবার তোমার জয়ের বদলা নিলাম” ।
৭. চরম শত্রুর প্রতিও ন্যায়বিচার: আবু জাহেল এক ব্যক্তির পাওনা টাকা দিতে অস্বীকার করলে সেই ব্যক্তি রাসূল (সা.)-এর কাছে আসে। রাসূল (সা.) নিজে আবু জাহেলের বাড়ি গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লেন। আবু জাহেল ভয়ে কেঁপে উঠে সঙ্গে সঙ্গে টাকা পরিশোধ করল ।
৮. অমুসলিমের ভালো কাজের স্বীকৃতি: হাতিম তাইয়ের কন্যা বন্দি হয়ে এলে তিনি রাসূল (সা.)-এর কাছে আবেদন জানায়, “আমি বন্দি হয়েও লজ্জা পাই না, লজ্জা পাই আমার বাবার—তিনি ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ দানশীল, অথচ ইসলাম গ্রহণ করেননি।” রাসূল (সা.) বললেন, “হে মেয়ে! তুমি যা বলেছ তা সত্য মুমিনের গুণ। তোমার বাবা যদি মুসলিম হতেন, আমরা তার জন্য রহমত কামনা করতাম।” সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্তি দিয়ে বললেন, “আল্লাহ ভালো কাজকে ভালোবাসেন, তা যে-ই করুক না কেন” ।
৪
৬ মন্তব্য