Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৩:০৯ অপরাহ্ণ

দাম্পত্যের দীপশিখা মোঃ মুজিবুর রহমান


  দাম্পত্যের দীপশিখা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

দ্বন্দ্ব নয়—দয়া হোক দাম্পত্যের দীপশিখা

কিছু স্বামী কষ্ট দেয় স্ত্রীকে অকারণে কথার ঘায়ে,

কিছু স্ত্রীও জ্বালায় স্বামীকে অবহেলার ব্যথার ছায়ে।

এমন কত ঘর যে আজ নীরব কান্নায় ভাসে,

ভালোবাসা হারায় পথে, অহংকারের ফাঁসে।

কেন এ তিক্ততা, কেন এ বিভেদ?

একই ছাদের তলে কেন হৃদয় হয় নির্জন-নিষ্প্রভ বেদ?

যেখানে ছিল শান্তি, সেখানে আজ ঝড়ের ঢেউ,

অভিমান জমে থাকে—কথা হয় না কেউ।

তাই বদলাতে হবে ভাষা, বদলাতে হবে ভঙ্গি,

কঠোর বাক্য থামাও আগে—হোক মধুর সঙ্গী।

চোখে চোখে সম্মান দাও, হৃদয়ে দাও স্থান,

ভুল হলে নত হও আগে—এতেই জিতে প্রাণ।

রূঢ়তা নয়, রাহমাহ হোক আচরণের মূল,

মানবিকতায় গড়া হোক সংসারের ফুল।

নবীর শিক্ষা স্মরণে রাখো—স্নেহ, ধৈর্য, ক্ষমা,

সদাচরণে গড়ে ওঠে দাম্পত্যের মহিমা।

কিছু নিয়ম হোক ঘরে—

রাগে কথা নয়, নীরবতা ধরা এক নিমিষ তরে।

সপ্তাহে একদিন বসে—খুলে বলো মনের কথা,

দোষারোপ নয়, সমাধান হোক পথের ব্যাখ্যা।

অন্যের দোষ খুঁজে নয়, আগে দেখো নিজ ভুল,

ক্ষমার দরজা খোলা রাখো—এটাই উত্তম কূল।

পরামর্শে থাকুক শুরা—দু’জন মিলে সিদ্ধান্ত,

একতাই আনে বরকত, দূর করে বিভ্রান্ত।

ঘরে ঘরে স্থির হোক এ অঙ্গীকার—

অপমান নয়, ভালোবাসাই হবে অস্ত্রধার।

রাত্রে ঘুমোবার আগে মিলাও সব মান-অভিমান,

হৃদয়ের মসজিদে জ্বালো করুণার আজান।

ইসলামী মূল্যবোধ হোক সংসারের ভিত্তি,

তাকওয়া, আমানত, সততায় গড়ুক শান্তির সৃষ্টি।

স্বামী হবে আশ্রয়, স্ত্রী হবে প্রশান্তির ছায়া,

পরস্পরে হবে তারা আলোর পথের মায়া।

তবে দেখো—

ঝগড়া মুছে যাবে, ফুটবে স্নিগ্ধ হাসি,

বাড়ি হবে জান্নাতের মতো, শান্তিময় বাসি।

দু’জন দু’জনার জন্য রহমতের দান,

ভালোবাসায় ভরুক জীবন—হোক সুখের গান।

 ***

কোথাও স্বামী কঠোর বাক্যে ভাঙে স্ত্রীর হৃদয়,

কোথাও স্ত্রীর তির্যক ভাষায় স্বামী হয় নির্ভয়হীন ক্ষয়।

একই ছাদের নিচে তবু দূরত্ব হাজার মাইল,

হাসির আড়ালে জমে থাকে অশ্রুর দীর্ঘ ফাইল।

অভিমান পাহাড়সম, রাগ অগ্নিস্রোত,

ভালোবাসার নদী শুকায়—থাকে শুধু ক্ষোভের ক্ষত।

স্মৃতি ছিল স্নিগ্ধ বসন্ত, আজ তা ঝড়ের রাত,

মানবিকতা হারালে ঘরে নামে অশান্তির প্রভাত।

হে দম্পতি! আগে দেখো নিজের অন্তর আয়না,

অন্যের দোষ গুনলে বাড়ে কেবলই হাহাকার-গায়না।

ভাষা যদি হয় শীতল, বাক্য যদি হয় মধু,

ক্ষত সারে আপনিই—ফিরে আসে প্রেমের রঙিন রধু।

রাগের ক্ষণে নীরব হও, নাও গভীর শ্বাস,

ক্ষণিক ক্রোধে জীবন জ্বালাও—এ কেমন সর্বনাশ!

ক্ষমা হোক প্রথম অঙ্গীকার, ধৈর্য হোক ঢাল,

সুন্দর আচরণেই খুলে সুখের দ্বার।

ঘরে হোক কিছু নীতি—

অপমান নয়, সম্মান হবে চিরদিনের রীতি।

দোষারোপ নয়, সমাধান হবে কথার মূল,

উচ্চস্বরে নয়—নরম স্বরে বলাই হোক কূল।

সপ্তাহে একদিন “পরামর্শ সভা”,

খুলে বলো মনের কথা—ভাঙুক ভুলের কভা।

আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা থাক, সিদ্ধান্ত হোক শুরা,

পারস্পরিক বিশ্বাসেই দূর হবে সব দূরভ্রান্ত ধোঁয়া।

রাত্রি নামার আগে মিটাও যত মান,

রাগ নিয়ে ঘুমোলে বাড়ে অন্তর-বিস্মান।

প্রশংসা করো ছোট কাজেও, দাও কৃতজ্ঞতা,

ভালোবাসা বাড়ে তাতে—কমে কঠোরতা।

তাকওয়া হোক দাম্পত্যের মূলভিত্তি দৃঢ়,

আমানতদার হোক দু’জন—বিশ্বাসে থাক অটল স্থির।

সদাচরণ, নম্রতা, সহানুভূতির বাণী,

নবীসুলভ মাধুর্যে ভরুক সংসারখানি।

স্বামী হোক নিরাপদ ছায়া, স্ত্রী হোক শান্তি-ধারা,

পরস্পর হবে পোশাক সম—রক্ষা করবে সারা।

দুঃখে হবে সঙ্গী, সুখে হবে ভাগ,

একজনের সাফল্যে অন্যজনের উল্লাস লাগ।

সন্তানের সামনে হোক নম্রতার পাঠ,

কর্কশতা নয়—দাও আদর্শের হাত।

পরিবার হোক রহমতের বাগান,

যেখানে ফোটে মমতার ফুল, শুকায় না প্রাণ।

হিংসা নয়, সহমর্মিতা; বিদ্বেষ নয়, দয়া,

ভুল করলে হাত ধরো—ভাঙো না হৃদয়ের মায়া।

অহংকার আগুনসম—পুড়িয়ে দেয় ঘর,

নম্রতা নদীর মত—শীতল করে পর।

প্রতিদিন তিনটি কাজ স্থির হোক মনে—

একটি কৃতজ্ঞতা, একটি প্রশংসা, একটি দোয়া গোপনে।

মাসে একদিন দু’জন একান্ত সময়,

ভালোবাসার চর্চাতেই দাম্পত্যের জয়।

তবে দেখো—

অশান্তি পালাবে দূরে, মিলবে হৃদয়-সুর,

ঘর হবে প্রশান্তির নীড়, দূর হবে সব ভ্রুকুটির ঘুর।

যেখানে রাগ ছিল, সেখানে ফুটবে হাসি,

যেখানে দ্বন্দ্ব ছিল, সেখানে শান্তির বাতাসি।

দাম্পত্য হোক ইবাদতের এক সুমহান পথ,

পরস্পরে সম্মানেই মিলুক সুখের রথ।

স্বামী-স্ত্রী নয় শুধু—হোক বন্ধুর মত প্রাণ,

ভালোবাসায় লিখুক তারা জীবনের মহাগান।

দ্বন্দ্ব নয়—দয়া হোক সংসারের পরিচয়,

মানবিকতা ও ঈমানেই দাম্পত্যের চিরজয়।

 ***

কোথাও স্বামীর বাক্য-বাণে স্ত্রীর হৃদয় ক্ষত,

কোথাও স্ত্রীর কঠিন সুরে স্বামী নীরব রত।

একই ঘরে পাশাপাশি—তবু দূরত্ব কত,

চোখে চোখে দেয়াল উঠে, জমে অভিমান শত।

হাসির আড়াল ভেঙে পড়ে নীরব দীর্ঘশ্বাস,

ভালোবাসার বাগান জুড়ে শুকায় ফুলের বাস।

অহংকারের আগুন জ্বলে অকারণে ঘরে,

মমতার জল না ঢাললে শান্তি কী করে ধরে?

হে দম্পতি! আগে দেখো নিজের অন্তর-দ্বার,

অন্যের দোষ খুঁজলে কেবল বাড়ে অশান্তির ভার।

ভাষা যদি হয় কোমল, আচরণ হয় নম্র,

ক্ষত সারে আপন মনে—শান্তি আসে অন্তর।

রাগের ক্ষণে থামো আগে, নাও গভীর নিশ্বাস,

ক্ষণিক তাপে জীবন জ্বালা—এ কেমন সর্বনাশ!

ক্ষমাই হোক প্রথম শপথ, ধৈর্য হোক ঢাল,

ভালোবাসার শক্তিতেই মেলে সুখের জাল।

ঘরে হোক কিছু নীতি—

অপমান নয়, সম্মান হবে স্থায়ী গীতি।

উচ্চস্বরে তর্ক নয়, নরম ভাষায় বল,

সমাধানের পথে চলো, বন্ধ হোক সব ছল।

প্রতিদিন অন্তত একবার কৃতজ্ঞতার বাক্য,

ছোট কাজেও প্রশংসা—ভালোবাসার লক্ষ।

সপ্তাহে একদিন “মনের সভা”, খোলামেলা আলাপ,

দোষারোপ নয়—সমাধানে হোক সম্পর্কের চাপ।

রাত্রি নামার আগে মিটাও যত মান,

রাগ নিয়ে ঘুমোলে বাড়ে অন্তর-অভিমান।

মাসে একদিন একান্ত সময়—শুধু দু’জনার,

বন্ধুর মতো শুনবে কথা—খুলবে হৃদয়দ্বার।

আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা থাক, দায়িত্ব হোক ভাগ,

সিদ্ধান্ত হবে পরামর্শে—ভাঙবে ভুলের ফাঁদ।

অন্যের পরিবারে সম্মান দাও যথা,

শ্বশুর-শাশুড়ি, মা-বাবা—সবাই ভালোবাসার ব্যাখ্যা।

হিংসা নয়, সহমর্মিতা; বিদ্বেষ নয় দয়া,

ভুল করলে হাত ধরো—ভাঙো না হৃদয়ের মায়া।

অহংকার আগুনসম—পুড়িয়ে দেয় ঘর,

নম্রতা নদীর মতো—শীতল করে পর।

তিনটি কাজ রাখো প্রতিদিন মনে—

একটি ধন্যবাদ, একটি হাসি, একটি দোয়া গোপনে।

কঠিন দিনে পাশে থেকো শক্তির মতো ঢাল,

সুখের দিনে ভাগ করো আনন্দেরই জাল।

তাকওয়া হোক দাম্পত্যের মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর,

আমানতদার দুই প্রাণ—বিশ্বাসে অটল ঘর।

সদাচরণ, নম্রতা, ক্ষমা ও করুণা,

এগুলোতেই লুকায় আছে শান্তির সুরভি-গুণ।

পরস্পর হোক পোশাকসম—ঢাকে দোষ-ত্রুটি,

রক্ষা করে সম্মান-আবরণে, মুছে দেয় ক্ষতি।

সন্তানের সামনে হোক উত্তম আচরণ,

তাদের শিখাও ভালোবাসা—এটাই সেরা ধন।

দাম্পত্য হোক ইবাদত, হোক নৈতিক পথ,

পরস্পরে সম্মানেই সফল জীবনের রথ।

তবে দেখো—

দ্বন্দ্ব মুছে যাবে ধীরে, মিলবে হৃদয়-সুর,

অশান্তি হারাবে পথ, শান্তি আসবে ঘুর।

যেখানে ছিল কান্না, সেখানে ফুটবে হাসি,

যেখানে ছিল ক্ষোভ, সেখানে প্রশান্তি ভাসি।

স্বামী হবে ছায়াতরু, স্ত্রী হবে শীতল ছায়া,

দু’জন মিলে গড়বে তারা প্রেমের মহিমাময় মায়া।

ঘর হবে জান্নাতের নীড়, রহমতের বাগান,

ভালোবাসায় রচিত হবে জীবনের মহাগান।

দ্বন্দ্ব নয়—দয়া হোক পরিচয় প্রতিক্ষণ,

মানবিকতা ও ঈমানেই দাম্পত্যের জয়ধ্বনন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ