Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:১২ অপরাহ্ণ

রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২–১৮৩৩)

রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২–১৮৩৩) ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ভারতীয় সমাজ সংস্কারক, শিক্ষাবিদ এবং 'আধুনিক ভারতের জনক' বা 'নবজাগরণের অগ্রদূত'। তিনি ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসভা (পরে ব্রাহ্মসমাজ) প্রতিষ্ঠা করেন এবং সতীদাহ প্রথা বিলোপ (১৮২৯) সহ বহু কুসংস্কার দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তিনি বহু ভাষাবিদ, একেশ্বরবাদী এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে সক্রিয় ছিলেন। 

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন:

জন্ম: ২২ মে ১৭৭২, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে।

পিতা-মাতা: রামকান্ত রায় এবং তারিণী দেবী।

শিক্ষাজীবন: রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম হলেও, তিনি বাল্যকালেই বাংলা, ফারসি, আরবি ও সংস্কৃত ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন। পরবর্তী জীবনে ইংরেজি, গ্রিক, হিব্রু ও ল্যাটিন ভাষাও শিখেছিলেন। 

সমাজ ও ধর্ম সংস্কার:

সতীদাহ প্রথা বিলোপ: রামমোহন রায়ের প্রবল জনমত ও আইনি প্রচেষ্টার ফলে ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা আইনত নিষিদ্ধ করেন।

একেশ্বরবাদ: তিনি হিন্দুধর্মের মূর্তিপূজার বিরোধিতা করে একেশ্বরবাদের প্রচার করেন। ১৮১৫ সালে 'আত্মীয় সভা' এবং ১৮২৮ সালে 'ব্রাহ্মসভা' প্রতিষ্ঠা করেন।

নারী অধিকার: তিনি বিধবা বিবাহ সমর্থন এবং নারীর শিক্ষা ও সম্পত্তির অধিকারের জন্য লড়াই করেন। 

শিক্ষা ও সাংবাদিকতা:

আধুনিক শিক্ষা: ইংরেজি শিক্ষা ও পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের প্রসারে তিনি ছিলেন সোচ্চার। ১৮২২ সালে তিনি 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।

সাংবাদিকতা: বাংলায় 'সংবাদ কৌমুদী' এবং ফারসিতে 'মিরাত-উল-আখবার' পত্রিকা সম্পাদনা করে সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন। 

'রাজা' উপাধি ও মৃত্যু:

মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ তাঁকে 'রাজা' উপাধি প্রদান করেন এবং তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ইংল্যান্ডে পাঠান।

মৃত্যু: ২৭ সেপ্টেম্বর ১৮৩৩, ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে। 

রামমোহন রায় ভারতীয় মননে যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ এবং আধুনিকতার বীজ বপন করেছিলেন। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ