Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

মুড সুইংঃ মনের আজব এক অসুখ......



নারী ও পুরুষে মুড সুইং: একটি তুলনা


বিষয় নারী (মহিলা) পুরুষ

প্রধান কারণ হরমোনের চক্রাকার পরিবর্তন: মাসিক ঋতুচক্র (PMS), গর্ভাবস্থা, প্রসব-পরবর্তী সময়, মেনোপজ । হরমোনের দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন ও জীবনযাত্রা: টেস্টোস্টেরনের মাত্রা হ্রাস (বয়স বাড়ার সাথে বা ইরিটেবল মেল সিনড্রোম-IMS), অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কাজের চাপ, ক্লান্তি ।

অন্যান্য কারণ মানসিক চাপ, পুষ্টিহীনতা (যেমন আয়রনের অভাব), সামাজিক ও পারিবারিক চাপ । মানসিক চাপ, পারিবারিক ও আর্থিক দুশ্চিন্তা, অপর্যাপ্ত ঘুম, অপুষ্টি ।

কীভাবে প্রকাশ পায় আবেগের দ্রুত পরিবর্তন (হঠাৎ কান্না বা রাগ), অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা, বিরক্তি, বিষণ্ণতা, ক্লান্তি । হঠাৎ রেগে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, অস্থিরতা, কাজে অনাগ্রহ, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, বিষণ্ণতা ।

কখন বেশি হয় বয়ঃসন্ধি, মাসিকের পূর্বে ও পরে, গর্ভাবস্থায়, সন্তান জন্মের পর, মেনোপজের সময় । বয়ঃসন্ধিকালে (১২-১৬ বছর), ৩০ বছর বয়সের পর টেস্টোস্টেরন কমতে থাকলে, অতিরিক্ত মানসিক চাপের সময় ।


সংক্ষেপে মূল পার্থক্য


· নারীরা জীবনের বিভিন্ন ধাপে (ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা, মেনোপজ) হরমোনের স্বাভাবিক, চক্রাকার ওঠানামার কারণে মুড সুইংয়ের সম্মুখীন হন । এটিকে একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হয় ।

· পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত টেস্টোস্টেরন হরমোনের ধীরে ধীরে পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, ক্লান্তি বা জীবনযাত্রার কারণে হয়ে থাকে ।


শুধু লিঙ্গভেদে নয়, আরও কিছু কারণ


মনে রাখবেন, মুড সুইং শুধু নারী-পুরুষের লিঙ্গভেদেই নির্ভর করে না। নিচের কারণগুলো সবার ক্ষেত্রেই সাধারণ:


· মানসিক চাপ: কাজ, পরিবার বা আর্থিক দুশ্চিন্তা ।

· জীবনযাত্রা: অনিয়মিত ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ।

· শারীরিক ও মানসিক রোগ: থাইরয়েডের সমস্যা, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, বিষণ্ণতা ।

· পুষ্টির ঘাটতি: ভিটামিন, আয়রনের অভাব ।


উপসংহারে বলা যায়, হরমোনের কারণে নারীদের মধ্যে মুড সুইংয়ের প্রকোপ ও ফ্রিকোয়েন্সি বেশি দেখা গেলেও, পুরুষেরাও বিভিন্ন কারণে এটি অনুভব করেন। এটি কোনো দুর্বলতা নয়, বরং শরীর ও মনের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। যদি এটি দৈনন্দিন জীবনকে অত্যধিক প্রভাবিত করে, তবে নারী-পুরুষ উভয়েরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ