সহকারী অধ্যাপক
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
দাম্পত্যের দৃঢ় শপথ - মোঃ মুজিবুর রহমান
দাম্পত্যের দৃঢ় শপথ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
কেন ঘরে আগুন জ্বলে, কেন মনে ক্ষত?
কেন স্বামী স্ত্রীর বুকে বাড়ে নীরব ব্যথা শত?
কেন ভাষা তীরের মতো বিদ্ধ করে প্রাণ—
ভালোবাসার ঘরটি তবে হয় কেন শ্মশান?
কিছু স্বামী রূঢ় বাক্যে ভাঙে স্ত্রীর মন,
কিছু স্ত্রী তিক্ততায় করে দহন ক্ষণক্ষণ।
অভিমান জমে জমে দেয়াল তোলে মাঝে,
একই ঘরে থেকেও তারা দূরে সরে আজে।
না, এ পথ ধ্বংসের—এ পথ অশান্তির,
এ পথ শুধু কাঁটার বৃষ্টি, নয় কোনো শান্তির।
তাই বদলাতে হবে আগে নিজ নিজ আচরণ,
নরম করতে হবে ভাষা, শোধরাতে মন।
রাগ এলে থামো ক্ষণেক, করো না আঘাত,
কঠিন কথা আগুনসম—জ্বালায় দিনের রাত।
ভদ্র ভাষা হোক নিয়ম, নীরবতা হোক ঢাল,
অন্যের দোষ না খুঁজে দেখো নিজের জাল।
মানবিকতা হোক ভিত্তি, হোক সহমর্মিতা,
শ্রদ্ধা, স্নেহ, মায়া-মমতা—ঘরের সম্পদিতা।
ক্ষমা হবে অলংকার, ধৈর্য হবে ঢাল,
ঝগড়ার বদলে পরামর্শ—সেতু গড়ুক কাল।
ইসলামী মূল্যবোধে গড়ি ঘরের পথ—
সততা, পর্দা, ন্যায়-দয়া, বিশ্বাসের রথ।
হালাল রোজি, হালাল ভালোবাসা,
সুন্নত আচরণে জাগুক ঘরে আশা।
প্রতিদিন কিছু সময় দাও পরস্পরকে,
মন খুলে কথা বলো—শোনো অন্তরকে।
পরের সামনে অপমান নয় কোনোদিন,
সম্মান রেখো গোপনে, রাখো মুখে রঙিন।
রাগের কালে বিরতি নাও—নিয়ম করো স্থির,
অপমানজনক শব্দ হবে চিরনিষিদ্ধ ধীর।
একসাথে সিদ্ধান্ত নাও সংসারের পথে,
দায়িত্ব ভাগ করো হাসিমুখে, হাতে হাতে।
শুকরিয়া শেখো ছোট্ট সুখে,
কৃতজ্ঞতা রাখো বুকের মুখে।
ভুল হলে স্বীকার করো—লজ্জা নয় তা,
ক্ষমা চেয়ে নিলে মুছে যায় শত ব্যথা।
প্রতি সপ্তাহে হোক “সংলাপের দিন”,
ভালো-মন্দ বলো দু’জন, রাখো না কিছু ঋণ।
দাম্পত্য হোক অংশীদারিত্ব, নয় কোনো যুদ্ধক্ষেত্র,
ভালোবাসা হোক পতাকা, ঘর হোক জান্নাতের ক্ষেত্র।
যে ঘরে দয়া, সে ঘরে রহমত নামে,
যে ঘরে ন্যায়, সে ঘরে শান্তি থামে।
স্বামী-স্ত্রী যখন বন্ধু, পরস্পরের সহায়,
সেই ঘরেই সুখের নদী বয়ে যায় অবিরাম ধায়।
তাই আজ শপথ নাও—
অন্যকে কষ্ট নয়, দেব ভালোবাসা দাও।
আচরণে আনব পরিবর্তন, ভাষায় আনব ফুল,
ঘরটাকে করব বেহেশতের মতো কূল।
দাম্পত্য নয় কারাগার, নয় কোনো কবরস্থান,
দাম্পত্য হোক দয়া-প্রেমের উজ্জ্বল উদ্যান।
পরস্পরের হাতে রেখে আস্থার প্রদীপ,
জ্বালাই সুখের আলো—হোক জীবন সুদীপ্ত দীপ।
***
শোনো হে ঘরের মানুষ, শোনো হে প্রাণ,
রাগের আগুন নিভাও, ভাঙো অহংকার-জ্ঞান।
একই ছাদের নিচে কেন যুদ্ধের ঢেউ?
ভালোবাসা শুকিয়ে গেলে শান্তি থাকে কই, বলো ক’হে কেউ?
স্বামী যদি কঠোর বাক্যে বিদ্ধ করে মন,
স্ত্রী যদি তিক্ত ভাষায় বাড়ায় দহন,
তবে সে ঘর ধীরে ধীরে হয় শূন্য শ্মশান—
হাসির বদলে কান্না বাজে প্রতি সন্ধ্যান।
দোষ খোঁজো না আগে, দেখো নিজের প্রাণ,
ভুলের আয়না ধরো—সেটাই প্রথম জ্ঞান।
রাগ এলে বিরতি নাও—এ করো বিধান,
ক্রোধের ক্ষণে উচ্চারিও না কঠোর বাণ।
কঠিন শব্দ অগ্নিশিখা—দগ্ধ করে ঘর,
নরম ভাষা শীতল ছায়া—শান্তির অন্তর।
ভদ্রতা হোক দৈনিক আমল, হোক শপথ,
অপমান হবে চিরনিষিদ্ধ—এ হোক পথ।
প্রথম নীতি—পারস্পরিক সম্মান অটুট,
সবার সামনে অপমান নয়, সম্পর্ক থাকুক যুক্ত।
দ্বিতীয় নীতি—সিদ্ধান্ত হবে পরামর্শে,
একতরফা জোর নয়, নয় অহমের রোষে।
তৃতীয় নীতি—সপ্তাহে সংলাপের দিন,
ভালো-মন্দ বলো খোলামেলা, রাখো না ঋণ।
চতুর্থ নীতি—ভুল হলে স্বীকার করো,
ক্ষমা চেয়ে নিয়ে সম্পর্ক নতুন করে গড়ো।
ছোট সুখেও বলো “আলহামদুলিল্লাহ”—হোক হৃদয় ভরসা।
একজনের কাঁধে সব নয়, থাকুক সহযোগী।
মানবিকতা হোক ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর,
সহমর্মিতা হোক সেতু, মায়া হোক অঙ্কুর।
ধৈর্য হবে ঢাল, ক্ষমা হবে তরবারি নয়—
ক্ষমাই জয়ের মন্ত্র, প্রতিশোধ নয়।
বন্ধুত্ব হোক দাম্পত্যের মূল,
স্বামী-স্ত্রী আগে বন্ধু—এ সত্য অমূল।
হাসিমুখে কথা বলো, চোখে রাখো স্নেহ,
একটি মধুর বাক্য মুছে দিতে পারে সহস্র দেহ-ব্যথা বহে।
(৫) ইসলামী মূল্যবোধের আলো
হালাল রুজি, হালাল প্রেম, হোক জীবনের গান,
সততা, ন্যায়, পর্দা-শালীনতা—পবিত্র হোক প্রাণ।
সুন্নতের আদর্শে গড়ো আচরণ,
দয়া ও ন্যায়ের পথে রাখো দৃঢ় মন।
সকালে দোয়া, রাতে ক্ষমার হাত,
একই সিজদায় চাও শান্তির প্রভাত।
যে ঘরে আল্লাহর স্মরণ ধ্বনি,
সে ঘরে রহমতের নেমে আসে বাণী।
রাগ এলে নীরবতা—এ হোক নিয়ম,
অপমানজনক শব্দ হবে চিরবর্জনীয় ভূমি।
সময় নিয়ে কথা বলো শান্ত বিকালে,
ঝড় থেমে গেলে নদী যেমন ফিরে যায় কূলে।
এক গ্লাস পানি, একটুখানি দূরত্ব,
ক্রোধের মুহূর্তে এ-ই সুরক্ষিত সেতু।
রাতে ঝগড়া নয়—সমঝোতার হাত,
সূর্য ওঠার আগে মুছে দাও সব আঘাত।
দাম্পত্য নয় কারাগার, নয় কবরস্থান,
এটি রহমতের বাগান, সুখের উদ্যান।
যে ঘরে দয়া জাগে, সে ঘরে শান্তি,
যে ঘরে ন্যায় থাকে, সে ঘরে কান্তি।
তাই আজ মিম্বর থেকে করি আহ্বান—
পরিবর্তন শুরু হোক নিজের প্রাণ।
ভাষায় আনো ফুল, আচরণে সুবাস,
ভালোবাসার ছায়ায় কাটুক জীবনবাস।
স্বামী হবে স্ত্রীর ঢাল, স্ত্রী হবে আলো,
একসাথে চললে পথ হয় সহজ ভালো।
হাতে হাত রেখে নাও পবিত্র অঙ্গীকার—
ঘরটিকে করব জান্নাতের দ্বার।
রাগ নয়—ধৈর্য চাই,
অহং নয়—ভালোবাসা চাই।
অপমান নয়—সম্মান চাই,
দ্বন্দ্ব নয়—সংলাপ চাই।
স্বামী-স্ত্রী মিলেই বলি উচ্চারণ—
“আমাদের ঘর হোক শান্তির স্থান।”
আচরণ বদলালে বদলাবে ভুবন,
দাম্পত্যে জাগুক রহমতের জীবন।
***
স্বামী-স্ত্রী একই পথে, করো দৃঢ় অঙ্গীকার,
রাগের আগুন নিভাও আগে, ভাঙো অহংকার।
কঠিন ভাষা তীরের মতো, বিদ্ধ করে প্রাণ,
নরম বচন শীতল ছায়া, আনে শান্তি-ধান।
দোষ খোঁজো না সাথির মাঝে, দেখো নিজের মন,
ভুল স্বীকারে লজ্জা কিসের? তাতেই জয়ের রণ।
রাগ এলে থামো ক্ষণেক, নীরব হও স্থির,
ক্রোধের ক্ষণে উচ্চারিও না কঠোর তীর।
সবার সামনে অপমান আর কভু নয়,
সম্মান হবে ঘরের ভিত্তি, এই হোক জয়।
পরামর্শে সিদ্ধান্ত নাও, একা নও কভু,
সহযোগী হও পরস্পরে, কমুক যত ক্ষভু।
সপ্তাহে এক দিন রাখো, খোলা সংলাপ,
ভালো-মন্দ বলো হাসি, মুছুক যত চাপ।
দায়িত্বগুলো ভাগ করে নাও, হাতে রাখো হাত,
একজনেরই বোঝা হলে বাড়ে ক্ষতের ঘাট।
ছোট সুখেতে কৃতজ্ঞ হও, বলো শুকরিয়া,
অল্প হাসি ঘর ভরায়, মুছে দুঃখ-দিয়া।
ক্ষমা হবে শ্রেষ্ঠ অলংকার, ধৈর্য ঢাল,
প্রতিশোধের পথ ত্যাগ করে বেছে নাও কাল।
হালাল রুজি, হালাল প্রেম, হোক ঘরের শান,
সততা আর ন্যায়-দয়া রাখুক প্রাণে টান।
প্রভুর স্মরণ ঘরে জাগাও, ভোর ও রাত,
একই দোয়া মিলুক মুখে, মুছুক সব আঘাত।
রাতে ঝগড়া রেখে দিও না হৃদয়-তলে,
সূর্য ওঠার আগেই মিলো ভালোবেসে ফলে।
দাম্পত্য কোনো যুদ্ধ নয়, নয় কারাগার,
দয়া-প্রেমে গড়া হোক সুখের উদ্যান-দ্বার।
স্বামী হবে স্ত্রীর ছায়া, স্ত্রী হবে আলো,
একসাথে চললে পথ হয় সহজ ভালো।
আজ নাও শপথ দৃঢ় কণ্ঠে, বদলাব মন,
আচরণে ফুল ফুটিয়ে গড়ব শান্তি-ধন।
***
একই ছাদের নিচে আজি নাও দৃঢ় শপথ,
রাগ-অহম ত্যাগ করো, ধরো ন্যায়ের পথ।
কঠিন বাক্য আগুনসম দগ্ধ করে ঘর,
নরম ভাষা শিশিরধারা শান্তি আনে পর।
দোষ না খুঁজি সাথির মাঝে, দেখি আপন মন,
ভুল স্বীকারে ছোট নই—তাতেই জয়ের ধ্বন।
রাগ এলে থামি ক্ষণেক, নীরব রাখি মুখ,
ক্রোধের বাণ ছুড়ি না আর, বাঁচাই সবার সুখ।
সবার আগে সম্মান হবে ঘরের মূল স্তম্ভ,
অপমানের কাঁটা ছেঁটে গড়ি ভালো গম্ভীর গম্ভ।
পরামর্শে সিদ্ধান্ত নাও, দু’জন মিলি হাত,
একক রোষে ভাঙে শুধু দাম্পত্যের ঘাট।
সপ্তাহে এক দিন রাখি খোলা সংলাপ,
ভালো-মন্দ বলি স্পষ্ট, দূর হোক সব চাপ।
দায়িত্ব ভাগ সমান করে চলি পাশাপাশি,
একজনেরই বোঝা হলে বাড়ে দুঃখরাশি।
কৃতজ্ঞতায় ছোট্ট সুখে বলি শুকরিয়া,
অল্প হাসি ঘর ভরায়, মুছে অশ্রুধারা।
ক্ষমা হোক শ্রেষ্ঠ অলংকার, ধৈর্য হোক ঢাল,
প্রতিশোধের অন্ধ পথে না বাড়াই কাল।
হালাল রুজি, হালাল প্রেম রাখি অন্তরে,
সততা আর ন্যায়-দয়া জাগুক ঘর-দ্বারে।
রাতে ঝগড়া রেখে দিই না অন্তরতল,
সূর্য ওঠার আগেই মিলি ভালোবাসার ফল।
দাম্পত্য নয় কারাগার, নয় কোনো ক্ষয়,
দয়া-প্রেমে গড়া ঘরেই শান্তি পায় জয়।
স্বামী হবে স্ত্রীর ছায়া, স্ত্রী হবে আলো,
হাতে হাত রেখে চললে সহজ হয় ভালো।
আজ নাও শপথ দৃঢ় কণ্ঠে বদলাব মন,
আচরণে ফুল ফুটিয়ে গড়ব শান্তি-ধন।
৪
৬ মন্তব্য