সহকারী শিক্ষক
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৩:২৭ অপরাহ্ণ
ভালোবাসা দিবসের ভালোবাসা
ভালোবাসা দিবসের ভালোবাসা!
রূপম ও রূপন্তী—স্কুল জীবনের বন্ধু। হাতের টিফিন ভাগ করে খাওয়া, পাশাপাশি বসে ক্লাস করা, পরীক্ষার ভয়, ফলাফলের আনন্দ—এভাবেই কেটে গেছে স্কুল জীবন। তারপর কলেজ, তারপর কর্মজীবন। কখন যে বন্ধুত্বের ভেতর নীরবে জন্ম নিয়েছে এক নিবিড় ভালোবাসা, দুজনের কেউই বুঝতে পারেনি।
তবে সেই ভালোবাসা সংসার জীবনে পা রাখেনি। পা রাখতে চাইলেও হয়তো থেমে গেছে বাস্তবতার দরজায়। তবু কি মনের টান কমেছে? না, বরং দূরত্ব তাদের অনুভূতিকে আরও গভীর করেছে। দূরে থেকেও তারা খোঁজ রাখত একে অপরের—জন্মদিনে দেখা করত, কখনো কোনো ছোট রেস্তোরাঁয় বসে গল্প করত।
তাদের ভালোবাসা ছিল অন্যরকম। তারা একে অপরকে দামি উপহার দিত না, বিলাসী খাবার খেত না, আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক কিনত না। বরং সেই টাকাগুলো জমিয়ে রাখত। মাসে মাসে নিজের আয়ের একটি অংশ আলাদা করে রাখত দুজনে। তারপর কোনো বিশেষ দিন বা উপলক্ষে সমাজের গরিব, অসহায়, অভুক্ত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাত—কখনো অল্প, কখনো বেশি। এটাই ছিল তাদের অঘোষিত নিয়ম।
এবারও ভালোবাসা দিবস সেই নিয়ম থেকে বাদ যায়নি। দুজনের জমিয়ে রাখা টাকায় তারা এক বেলা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করল কিশোর বয়সী অসহায় শিশুদের জন্য। তাদের কাছে ভালোবাসা মানে শুধু দুজনের হাত ধরা নয়; ভালোবাসা মানে কারও ক্ষুধা নিবারণ করা, কারও চোখের জল মুছে দেওয়া।
প্রেম মানেই বিয়ে নয়। অনেক ভালোবাসা সংসার পর্যন্ত পৌঁছায় না, তবু তার গভীরতা কমে না। কিছু ভালোবাসা থাকে দূরত্বে, তবু থাকে মানবতার পাশে।
ভালোবাসা দিবস হোক শুধু দুজন মানুষের নয়—হোক অবহেলিত, বস্ত্রহীন, ক্ষুধার্ত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর দিন।
রূপম ও রূপন্তীর এই ভালোবাসা বেঁচে থাকুক—জন্ম জন্মান্তরে। আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ছড়িয়ে পড়ুক নীল পাহাড়ের ঢালে, পথের ধারে, প্রতিটি অবহেলিত শিশুর কপালে।
৪
৪ মন্তব্য