Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৩৬ অপরাহ্ণ

সৎগুণের মহাশপথ গ্রহণের দীপশিখা


সৎগুণের মহাশপথ


মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

  গ্রহণের দীপশিখা

গ্রহণ করি বিনয় আজ, মাথা নত শান্ত ভোরে,

শ্রদ্ধার সুবাস ছড়িয়ে দিই হৃদয়ের প্রতিটি ঘরে।

স্নেহের স্রোত বয়ে যাক প্রাণে নির্মল স্বচ্ছ জলে,

আন্তরিকতার অমল আকাশ থাকুক জীবনের তলে।

সরলতার সাদা পথ ধরি নির্ভীক পদক্ষেপে,

সততার দৃঢ় শিলা গাঁথি চরিত্রের নীরব রূপে।

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জুড়ি হাতে হাত রেখে,

ধৈর্যের দীঘল দিগন্ত পাড়ি দিই ঝড়-বৃষ্টি দেখে।

সহমর্মিতার কোমল ডানা মেলে দিই বিশ্বজুড়ে,

মানবতার মহাগান গাই একতার সুরে সুরে।

পরহেজের প্রতিজ্ঞা

পরহেজ করি অবমাননা—অহংকারের বিষাক্ত ছায়া,

অশ্রদ্ধার কঠোর শব্দে যেন না জাগে কোনো হায়া।

কপটতার মুখোশখানি ছুঁড়ে ফেলি দূর আকাশে,

মিথ্যার কালো পথ এড়িয়ে চলি সত্যের আলো পাশে।

হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ-বীজ রোপণ করি না প্রাণে,

দূরে রাখি সব অসৎগুণ নৈতিকতার মানে।

কারণ অসৎ পথে সাময়িক জয়—শেষে লজ্জা, ক্ষয়;

সৎপথ যদিও কণ্টকময়—তবু তাতেই সত্য জয়।

পরিবার থেকে বিশ্বে

পরিবারে হোক বিনয়-শ্রদ্ধা প্রথম শিক্ষার ধ্বনি,

সমাজে হোক সহমর্মিতা প্রতিটি মানুষের বাণী।

রাষ্ট্রে হোক সততার দীপ প্রশাসনের প্রহর,

বিশ্বে হোক ভ্রাতৃত্বের পতাকা—শান্তির অপরাহ্ন ঘর।

শিশুর হাসি স্নেহে ভরে, বৃদ্ধ পায় সম্মান,

দুর্বলের পাশে দাঁড়াই আমরা—এই হোক পুণ্য জ্ঞান।

ধৈর্যের দীর্ঘ শ্বাসে থামুক ক্রোধের অগ্নি-ঝড়,

সরল সত্য উচ্চারণে ভাঙুক মিথ্যার কুয়াশা-ঘর।

জাগরণের মহাসংগীত

চলো তবে আজ শপথ ধরি দৃঢ় হৃদয়-কণ্ঠে—

সৎগুণ গ্রহণ করব সদা কর্মে, বাক্যে, চেতনায় অন্তে।

অসৎ সব প্রবৃত্তিকে রাখব দূরে সচেতন মনে,

মানবতার মহাকাব্য লিখব জীবনের প্রতিক্ষণে।

গ্রহণে গড়ি চরিত্র-শিখর,

পরহেজে রক্ষা আত্মা;

সৎগুণ হোক আমাদের বল,

অসৎ হোক চির-ব্যর্থ ব্যথা।

সমাপনী প্রার্থনা

হে কল্যাণের আলোকধারা,

আমাদের করো সত্যনিষ্ঠ;

বিনয়ে হোক মহিমা,

সততায় হোক দৃষ্টি স্পষ্ট।

ভ্রাতৃত্বে গড়ি বিশ্ব-পরিবার,

সহমর্মিতায় জাগুক প্রাণ;

সৎগুণ গ্রহণ—অসৎ পরিহার—

এই হোক জীবনের মহাগান।

 ***

   হ্যাঁ-না’র মহাগান

হ্যাঁ বলি আজ বিনয়ে, মাথা নত আকাশতলে,

শ্রদ্ধার ফুল ফুটুক প্রাণে স্নিগ্ধ সকালের দোলে।

স্নেহের দীপ জ্বালো হৃদয়-ঘরে, আন্তরিকতার শিখা,

সরলতার স্বচ্ছ জলে ধুয়ে যাক সব দুঃখ-দাহিকা।

সততার দৃঢ় প্রাচীর গড়ি সত্যের শপথ ধরে,

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গাঁথি হাতে হাত রেখে ঘরে ঘরে।

ধৈর্যের দীর্ঘ পথ চলি ঝড়-বৃষ্টির মাঝখানে,

সহমর্মিতার নরম ডানা ছুঁই মানবতার গানে।

প্রতিজ্ঞা

হ্যাঁ বলি সব সৎগুণে—উদারতার উজ্জ্বল আলো,

ন্যায়ের পথে দৃঢ় পা ফেলি, ত্যাগে হোক জীবনের ভালো।

মায়া-মমতার মহাসমুদ্রে ভাসুক বিশ্বমানবতা,

ক্ষমার বৃষ্টি নামুক নীরব—মুছে যাক কঠোরতা।

না বলি অবমাননায়, তুচ্ছতার বিষ-শ্বাসে,

না বলি অশ্রদ্ধার কাঁটা—যা বিদ্ধ করে সর্বনাশে।

না বলি কপটতার মুখোশ, মিথ্যার কালো ছায়া,

না বলি হিংসা-অহংকারে—যা মানব-বন্ধন ভাঙায়।

যেখানে কটু বাক্য জ্বলে, সেখানে স্নিগ্ধ ভাষা দিই,

যেখানে সন্দেহ ঘনিয়ে আসে, বিশ্বাসের প্রদীপ জ্বালাই।

যেখানে বিভেদ দেয়াল তোলে, ভ্রাতৃত্বের সেতু গড়ি,

যেখানে ক্রোধের আগুন জ্বলে, ধৈর্যের জল ঢালি করি।

সত্য যদি হয় কণ্টকাকীর্ণ, তবু তাতে পা রাখি,

কারণ মিথ্যার মসৃণ পথে অন্তরে জমে আঁধার ঢাকি।

সৎগুণ মানে শক্তির শিখর, চরিত্রের উচ্চ শান,

অসৎগুণ মানে পতনের ঢাল—অবশেষে শূন্য জ্ঞান।

জাগরণ

চলো তবে আজ শপথ করি—

হ্যাঁ বলব আলোয়, না বলব আঁধারে;

হ্যাঁ বলব মানবতায়, না বলব অবহেলায়;

হ্যাঁ বলব ঐক্যে, না বলব বিভাজনে;

হ্যাঁ বলব প্রেমে, না বলব ঘৃণায়।

পরিবার থেকে সমাজে, সমাজ হতে রাষ্ট্রে,

রাষ্ট্র হতে বিশ্বময় জাগুক শুভ রথে।

একটি হৃদয়, একটি সুর—

“সৎগুণে হ্যাঁ, অসৎগুণে না”—এই হোক মহামন্ত্র পুর।

মহাপ্রার্থনা

হে মানব-চেতনার প্রভাত-সূর্য,

আমাদের করো আলোকিত অন্তরে।

যেন বিনয় হয় অলংকার,

শ্রদ্ধা হয় চরিত্রের শিরোমণি।

স্নেহে গড়ি ঘর, সততায় গড়ি জাতি,

ভ্রাতৃত্বে গড়ি বিশ্ব—

আর অসৎ সব অন্ধকার

চিরতরে বলি—“না”।

এই হোক জীবন-জয়গান,

এই হোক মহাকাব্যের বাণী—

সৎগুণে দৃঢ় সম্মতি,

অসৎগুণে চির অস্বীকৃতি।

মন্তব্য করুন