প্রধান শিক্ষক
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৬:৫৮ অপরাহ্ণ
রাত জাগার অভ্যাস ডেকে আনছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে রাত জেগে পড়াশোনা, কাজ করা বা মোবাইল-টিভি ব্যবহারের প্রবণতা সাধারণ হয়ে গেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে রাত জাগা অভ্যাস বেশ প্রচলিত। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস হৃদ্রোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষকরা তিন লাখেরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, যারা দেরিতে ঘুমান ও দেরিতে ওঠেন, তাদের মধ্যে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ১৫–১৬ শতাংশ বেশি। গবেষকরা জানিয়েছেন, এর মূল কারণ হচ্ছে দেহঘড়ির ব্যাঘাত। রাত জেগে থাকা ও দেরিতে ঘুমালে শরীরের প্রাকৃতিক ঘুম–জাগ্রত চক্র বিপর্যস্ত হয়, যা হরমোন নিঃসরণ, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও হৃদ্যন্ত্রের কাজকে প্রভাবিত করে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রাত জাগার সঙ্গে যুক্ত জীবনযাপন অভ্যাস—অনিয়মিত খাবার, কম ব্যায়াম, ধূমপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ—ও হৃৎস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাত জাগা একমাত্র ঝুঁকির কারণ নয়; বরং এর সঙ্গে যুক্ত জীবনযাপন পদ্ধতিই বড় ভূমিকা রাখে। সুতরাং কেউ যদি রাত জাগেন, কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাবার খান, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করেন, তবে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
হৃৎস্বাস্থ্য সচেতন বিশেষজ্ঞরা সাধারণ পরামর্শ দিচ্ছেন—প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ওঠা, ঘুমের মান উন্নত করা, দিনের বেলায় শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান এড়িয়ে চলা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, রাত জাগা শুধু ক্লান্তি নয়; এটি নীরবে হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সুস্থ হৃদ্যন্ত্রের জন্য সময়মতো ঘুমানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তোলা সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তারা।
৪
৪ মন্তব্য