Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

বন্ধুত্ব কি অমূল্য? চলো একটা গল্প পড়ি।

❇️❇️ বন্ধুত্ব কি অমুল্য? 


আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে এর রকম অমূল্য বন্ধুত্বের অনেক নজির পাওয়া যাবে, যারা বন্ধুর জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও কুন্ঠাবোধ করেনি। 

মোঘল সম্রাট হুমায়ুন যখন চৌসার যুদ্ধে শের শাহের অতর্কিত হামলায় পরাজিত হলেন তখন শের শাহের হুমায়ুনের প্রতি যত না রাগ ছিল তার চেয়ে বেশী রাগ ছিল সম্রাট হুমায়ুনের প্রধান সেনাপতি বৈরাম খাঁর প্রতি এবং শের শাহ তার সৈন্যদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বৈরাম খাঁকে যেখানে পাবে তার গর্দান কেটে মুন্ডু নিয়ে আসার জন্য। বৈরাম খাঁ ও তার বিশ্বস্ত সহচর, বন্ধু সেনাপতি কাসেম খাঁকে শের শাহের একদল সৈন্য ঠিকই  পাকড়াও করতে সমর্থ হল কিন্তু বিপত্তি বাধঁল তারা কেউ বৈরাম খাঁকে চিনেনা। এক সৈন্য হুংকার ছাড়ল তোমাদের মধ্য কে বৈরাম খাঁ। তারা দুইজনেই নিজেকে বৈরাম খাঁ বলে দাবী করল। সে সৈন্য বলল, তোমাদের মধ্য কেউ একজন মিথ্যা বলছে। দুইজনই দুইজনের দিকে আঙ্গুল তুলে একে অপরকে দেখাল। হঠাৎ কাসেম খাঁ বলল আমাকে দেখে মনে হয়না আমি বৈরাম খাঁ এ হল আমার অনুচর, ভৃত্য আমাকে বাঁচানোর জন্য এরকম বলছে। আসলে বৈরাম খাঁ প্রধান সেনাপতি হলেও তার চেহারা ছিল বৈশিষ্ট্যহীন, ছোটোখাটো, নিরস প্রকৃতির অন্যদিকে কাসেম খাঁ ছিল সুঠাম দেহের অধিকারী ও সুশ্রী। শের শাহের সৈন্যরা কাসেম খাঁকে বৈরাম খাঁ ভেবে হত্যা করে তার কাটা মুন্ডু নিয়ে চলে গেল। কাসেম খাঁ তার জীবন উৎসর্গ করে শুধু বন্ধুর জীবন বাচাঁয়নি মোঘল সম্রাজ্যের অস্ত যাওয়া সূর্যকে আবার উদিত করতে সাহায্য করেছিল, কারন এই বৈরাম খাঁর হাত ধরেই সম্রাট হুমায়ুন আবার দিল্লির সালতানাত ফিরে পেয়েছিলেন। সম্রাজ্য ফিরে পেয়ে বাদশাহ হুমায়ুন বৈরাম খাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে রাজাদের রাজা উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। ইতিহাস বৈরাম খাঁর বীরত্বকে মনে রেখেছে কিন্তু কাসেম খাঁ অনিবার্য ভাবে ইতিহাসের গর্ভে হারিয়ে গেছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ