Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৪২ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় স্মৃতিসৌধের অপূর্ব স্থাপত্যকর্মটি

রাজধানী ঢাকা থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে সাভারে সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা জাতীয় স্মৃতিসৌধের অপূর্ব স্থাপত্যকর্মটি আমরা সবাই চিনি। তবে কি জানেন, এর পেছনের ইতিহাস কী, কার নকশায় তৈরি হয়েছিল এটি, এবং এই স্তম্ভটির আকারের বিশেষত্ব কী?


জাতীয় স্মৃতিসৌধের নকশা তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন। ১৯৫২ সালের ৫ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার দামপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই স্থপতির বাবা ছিলেন কলেজ শিক্ষক, আর মাতামহ ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক শেষ করেন ১৯৭৬ সালে। ১৯৭৮ সালে, বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত বিভাগ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে একটি জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং নকশার জন্য আহ্বান জানায়। প্রথমবারের মতো কোনো নকশা নির্বাচিত হয়নি, তবে দ্বিতীয় দফায় জমা পড়েছিল ৫৭টি নকশা, যার মধ্যে সৈয়দ মাইনুল হোসেনের নকশাটি নির্বাচিত হয়।


এক সাক্ষাৎকারে, স্মৃতিসৌধের কাঠামো সম্পর্কে স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন ব্যাখ্যা করেছিলেন, ‘চারদিকে প্রচণ্ড চাপ। সেই চাপে কিছু একটা উঠে যাচ্ছে।’ স্মৃতিসৌধের সাতটি খাঁজের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সাতটি বড় আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, এবং এই খাঁজগুলো দিয়ে সে সকল আন্দোলন প্রকাশ করা হয়েছে। সবচেয়ে নিচের খাঁজটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, আর সবচেয়ে ওপরেরটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ।


স্মৃতিসৌধের নকশার সম্মানী বাবদ তাঁর ২ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আয়কর ধরা হয়েছিল ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ এক লাখ টাকা। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে তদবির করে তিনি করের হার কমাতে পেরেছিলেন, শেষ পর্যন্ত কর দিয়েছিলেন ২০ হাজার টাকা।


পরবর্তীতে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়, যেখানে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন অনেক ভিআইপিরা, কিন্তু আমন্ত্রণ পাননি তিনি৷ নিজের তৈরি শিল্পকে উদ্বোধন করছে হাজার হাজার মানুষ, অথচ সেখানে আমন্ত্রিত নন তিনি। আমন্ত্রণ না পেয়েও সেদিন সাভার গিয়েছিলেন তিনি। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রীয় ভিআইপিরা চলে যাওয়ার পর তিনি জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন নিজের করা নকশায় নির্মিত সৌধটি৷ নিজের শিল্পকে দেখেছিলেন একবুক বিস্ময় ভরে৷


মহান এই স্থপতি ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর আমাদের ছেড়ে চলে যান।


মন্তব্য করুন

ব্লগ