সহকারী শিক্ষক
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
মহাবিশ্বের রহস্যময় নীরবতা
হলিউডের সাই-ফাই মুভিগুলোতে আমরা প্রায়ই দেখি, মহাকাশে বিশাল সব যুদ্ধ হচ্ছে, স্পেসশিপ বিস্ফোরিত হচ্ছে আর কান ফাটানো শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠছে। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? বিজ্ঞান বলে 'In space, no one can hear you scream'। অর্থাৎ, মহাকাশে আপনার চিৎকার কেউ শুনতে পাবে না। কিন্তু কেন? আর যদি সত্যিই আমরা মহাবিশ্বের শব্দ শুনতে পেতাম, তবে আমাদের কী অবস্থা হতো?
আসলে শব্দ চলাচলের জন্য একটি মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, যেমন বাতাস, পানি কিংবা কঠিন কোনো পদার্থ। শব্দ মূলত বাতাসের অণুর কম্পন ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু মহাকাশ হলো একটি বিশাল 'ভ্যাকুয়াম' বা শূন্যস্থান। সেখানে অণু-পরমাণু একে অপরের থেকে এতটাই দূরে অবস্থান করে যে, তারা ধাক্কা খেয়ে শব্দতরঙ্গ তৈরি করতে পারে না। তাই সেখানে কোনো আওয়াজ আমাদের কানে পৌঁছায় না।
তার মানে কি মহাবিশ্ব একদম নিস্তব্ধ? একেবারে তা নয়! মহাকাশের সব জায়গা পুরোপুরি শূন্য নয়। যেখানে গ্যাস বা ধূলিকণার বিশাল মেঘ রয়েছে, সেখানে শব্দতরঙ্গ চলতে পারে। কিন্তু সেই শব্দের কম্পন এতটাই কম যে মানুষের কান তা ধরতেই পারে না। নাসা বিভিন্ন মহাজাগতিক রেডিও ওয়েভকে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রবণযোগ্য শব্দে রূপান্তর করে, যাকে বলা হয় 'ডেটা সোনিফিকেশন'।
যদি মহাকাশ শব্দের বাহক হতো, অর্থাৎ মহাকাশে যদি বাতাস থাকত, তবে কী হতো? সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হতো আমাদের সূর্যের কারণে। সূর্য প্রতিনিয়ত হাজার হাজার পারমাণবিক বোমার মতো বিস্ফোরিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, যদি আমরা সেই শব্দ শুনতে পেতাম, তবে পৃথিবী থেকে ৯ কোটি মাইল দূরে থেকেও আমরা সারাদিন প্রায় ১০০ ডেসিবল মাত্রার শব্দ শুনতাম যা একটি পুলিশ সাইরেন বা রক কনসার্টের স্পিকারের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে থাকার সমান! আমরা কখনই শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম না, এবং মানুষ ধীরে ধীরে বধির হয়ে যেত।
মহাকাশ নিস্তব্ধ বলেই পৃথিবী আমাদের জন্য এত সুন্দর ও বাসযোগ্য। সুপারনোভা বিস্ফোরণ বা সূর্যের সেই ভয়ংকর গর্জন থেকে আমাদের কান নিরাপদ। এই নিস্তব্ধতা আসলে প্রকৃতির এক বড় আশীর্বাদ।
মহাবিশ্বের এই রহস্যময় নীরবতা নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্টে জানান।
আমার মতামত:
মহাকাশের এই নিস্তব্ধতা আসলে আমাদের জন্য এক ধরণের "কসমিক মিউজিক," যা অনুভব করতে হলে তথাকথিত শব্দের প্রয়োজন নেই।
১৫
২৫ মন্তব্য