প্রভাষক
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ণ
খিলাফত (Caliphate) হলো মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব
খিলাফত (Caliphate) হলো মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় রাশিদুন খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর সূচনা হয়, যা ইসলামকে বিজয়ী দ্বীন হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করত। এটি খোলাফায়ে রাশেদীন, উমাইয়া, আব্বাসীয় ও অটোমান সাম্রাজ্য—এই বিভিন্ন পর্যায়ে মুসলিম বিশ্বে শাসিত হয়েছে।
খিলাফত লাভের প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত:
সূচনা: মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে হযরত আবু বকর (রা.)-কে প্রথম খলিফা হিসেবে নির্বাচনের মাধ্যমে রাশিদুন খিলাফত শুরু হয়।
উমাইয়া ও পরবর্তী খিলাফত: হযরত উসমান (রা.)-এর সময় উমাইয়া বংশের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মোয়াবিয়া (রা.) সিরিয়ার ভিত্তি স্থাপন করেন, যা পরবর্তী উমাইয়া খিলাফতের জন্ম দেয়। এরপর ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসীয়রা ক্ষমতা লাভ করে বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করে।
স্বীকৃতি: দিল্লির সুলতান (যেমন: ইলতুৎমিশ, তুঘলক) থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম শাসকরা নিজেদের শাসনকে বৈধ করতে আব্বাসীয় বা মিশরের ফাতেমী খলিফাদের থেকে 'সনদপত্র' বা স্বীকৃতি লাভ করতেন।
অটোমান খিলাফত: এটি ছিল দীর্ঘস্থায়ী (ছয় শতাব্দীর বেশি), যা ইসলামের প্রসার ও পবিত্র শহরগুলোর (মক্কা-মদিনা) অভিভাবক হিসেবে কাজ করত।
বিলুপ্তি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২৪ সালে তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি অটোমান খিলাফত বিলুপ্ত করে।
খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপট (১৯১৯-১৯২৪):
ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের (অটোমান সাম্রাজ্য) খেলাফত রক্ষা এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের লক্ষ্যে আলী ভাই (মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলী), আবুল কালাম আজাদ প্রমুখের নেতৃত্বে এই আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল।
খিলাফত লাভের প্রকারভেদ:
সুফিবাদের দৃষ্টিতে খিলাফত বা আধ্যাত্মিক প্রতিনিধিত্বের বিভিন্ন ধরন রয়েছে:
খেলাফতে আম (عام): সাধারণ মানুষকে ইসলামের পথে ডাকার দায়িত্ব।
খেলাফতে খাস (خاص): প্রিয় বা বিশেষ ব্যক্তিদের অর্পিত দায়িত্ব।
যোগ্যতা: খলিফা হওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট ইসলামী জ্ঞান, খোদাভীতি ও উম্মাহর নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা থাকা আবশ্যক।
৪
৪ মন্তব্য