প্রভাষক
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪২ অপরাহ্ণ
পঞ্চম খলিফা হারুন অর রশিদ (৭৮৬-৮০৯ খ্রিস্টাব্দ)
আব্বাসীয় খিলাফতের পঞ্চম খলিফা হারুন অর রশিদ (৭৮৬-৮০৯ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন ইসলামি স্বর্ণযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রভাবশালী শাসক। তাঁর শাসনামলে সাম্রাজ্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও ঐশ্বর্যের শিখরে পৌঁছায়।
খলিফা হারুন অর রশিদের জীবন ও শাসনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন: তিনি ৭৬৩ বা ৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান ইরানের রাই শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন খলিফা আল-মাহদী এবং মাতা ছিলেন ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত খাইজুরান।
ক্ষমতা লাভ: বড় ভাই খলিফা আল-হাদীর মৃত্যুর পর ৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ২০-২১ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন।
বাইতুল হিকমাহ (House of Wisdom) প্রতিষ্ঠা: হারুন অর রশিদ বাগদাদে বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থাগার ও অনুবাদ কেন্দ্র বাইতুল হিকমাহ প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে গ্রিক, ভারতীয় এবং পারস্যের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলো আরবিতে অনুবাদ করা হতো, যা আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপনে ভূমিকা রাখে।
আলিফ লায়লা ও লোকগাথা: বিশ্বখ্যাত গল্প সংকলন 'আলিফ লায়লা' বা 'সহস্র এক আরব্য রজনী'-র অন্যতম প্রধান চরিত্র হিসেবে তিনি অমর হয়ে আছেন। প্রচলিত আছে যে, প্রজাদের প্রকৃত অবস্থা জানতে তিনি রাতের বেলা ছদ্মবেশে বাগদাদের রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন।
কূটনীতি ও সামরিক সাফল্য: তিনি ইউরোপের শাসক শার্লিম্যান-এর সাথে মিত্রতা স্থাপন করেছিলেন এবং উপহার হিসেবে একটি হাতি (আবু আব্বাস) পাঠিয়েছিলেন। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানেও তিনি সফল ছিলেন।
বর্মকী পরিবারের পতন: তাঁর শাসনামলের শুরুর দিকে বর্মকী পরিবার অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল। তবে ৮০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি হঠাৎ করেই জাফর বর্মকীসহ এই পরিবারের ক্ষমতা খর্ব করেন এবং অনেককে কারারুদ্ধ করেন।
মৃত্যু: ৮০৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মার্চ ইরানের তুস শহরে বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১
২ মন্তব্য