Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০১:০৫ অপরাহ্ণ

ইমাম হাসান (রা:) (৬২৪-৬৭০ খ্রি.)

ইমাম হাসান (রা:) (৬২৪-৬৭০ খ্রি.) ছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর দৌহিত্র, হযরত আলী (রা.) ও ফাতিমা (রা.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং হোসাইন (রা.)-এর বড় ভাই। তিনি সুন্নি মতানুযায়ী পঞ্চম রাশিদুন খলিফা এবং শিয়া মতানুযায়ী দ্বিতীয় ইমাম।
তিনি অত্যন্ত দয়ালু, জ্ঞানী ও সাহসী ছিলেন এবং উম্মাহর ঐক্যের স্বার্থে মুয়াবিয়া (রা.)-এর কাছে খিলাফত হস্তান্তর করেন। 
ইমাম হাসান (রা.)-এর  জীবনী:
জন্ম ও শৈশব: তিনি ৩ হিজরির রমজান মাসে (মতান্তরে ১৫ রমজান) মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন। নবীজি (সা.) তাঁর নাম রাখেন হাসান। তিনি নবীজি (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন এবং তাকে 'জান্নাতের যুবকদের সর্দার' বলে অভিহিত করা হতো।
ব্যক্তিত্ব: হাসান (রা.) তাঁর দানশীলতা, দরিদ্র ও দাস-দাসীদের প্রতি করুণা, সহনশীলতা এবং জ্ঞান-গরিমার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।
খিলাফত ও সন্ধি (৬০-৬১ হিজরি): পিতা হযরত আলী (রা.)-এর শাহাদাতের পর কুফাবাসী তাঁকে খলিফা হিসেবে মনোনীত করে। তিনি ৬-৭ মাস শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে রক্তপাত ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে (প্রথম ফিতনা) তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবী সুফিয়ানের (রা.) সাথে একটি সন্ধি চুক্তি করে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এই ঘটনা ইতিহাসে 'আমুল জামায়াত' বা ঐক্যের বছর নামে পরিচিত।
শেষ জীবন ও শাহাদাত: খিলাফত ত্যাগের পর তিনি মদীনায় সাধারণ জীবনযাপন করেন। হিজরি ৫০ সালে (মতান্তরে ৪৫ বছর বয়সে) উমাইয়াদের প্ররোচনায় তাঁর স্ত্রী জাদা বিনতুল আশআস বিষপ্রয়োগে তাঁকে শহীদ করেন।
দাফন: তাঁকে মদীনার জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে দাফন করা হয়। 
তিনি আহল আল-বাইত (নবী পরিবারের সদস্য) এবং আহল আল-কিসার (চাদরবিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ) একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত।

মন্তব্য করুন