সহকারী শিক্ষক
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০২:০১ অপরাহ্ণ
ফোটন এক্সপেরিমেন্টে বিজ্ঞানীদের নেগেটিভ টাইম আবিষ্কার !
সম্প্রতি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক কোয়ান্টাম জগতের এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন, যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মতবাদগুলোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। বিখ্যাত গবেষক এফ্রাইম স্টেইনবার্গের নেতৃত্বে পরিচালিত এই পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ফোটন বা আলোক কণা যখন অতি শীতল পরমাণু মেঘের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে তখন তারা এক প্রকার নেগেটিভ টাইম বা ঋণাত্মক সময়ের অভিজ্ঞতা লাভ করে। অর্থাৎ কণাগুলো পরমাণু মেঘের ভেতর প্রবেশ করে সেখানে সময় অতিবাহিত হওয়ার আগেই যেন সেখান থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলে। বিষয়টি শুনতে সায়েন্স ফিকশন বা সময় ভ্রমণের মতো মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত জটিল এবং সূক্ষ্ম গাণিতিক ব্যাখ্যা।
সাধারণভাবে আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় কোনো ঘটনা ঘটার আগে তার 'কারণ' বিদ্যমান থাকে যাকে আমরা কার্যকারণ নীতি বলি। কিন্তু কোয়ান্টাম স্তরে কণাগুলো কেবল ক্ষুদ্র কণা হিসেবে নয় বরং তরঙ্গ হিসেবেও আচরণ করে। যখন এই আলোক তরঙ্গ বা ফোটন পালস কোনো বিশেষ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যায় তখন তাদের গাণিতিক হিসাব অনুসারে নেগেটিভ ডিলে বা বিলম্বের মান নেগেটিভ আসতে পারে। অর্থাৎ যখন কোনো আলোক তরঙ্গ বা ফোটনের গুচ্ছ কোনো বিশেষ উপকরণের ভেতর দিয়ে যায় তখন গাণিতিক হিসাবে দেখা যায় যে, সেটি ওই জায়গায় যতটুকু সময় কাটানোর কথা ছিল তার চেয়েও কম সময় ব্যয় করেছে। কখনও কখনও হিসাবটি এমন দাঁড়ায় যে, মনে হয় ফোটনটি ভেতরে ঢোকার আগেই বেরিয়ে গেছে যেটিকে বিজ্ঞানীরা ঋণাত্মক বিলম্ব বা নেগেটিভ ডিলে বলেন। এটি আসলে সময়ের পিছু হটা নয় বরং বাধার কারণে আলোর তরঙ্গের আকৃতি এমনভাবে বদলে যায় যে, তার প্রধান অংশটি আমাদের হিসেবের চেয়ে একটু আগেই সামনে চলে আসে। এর মানে এই নয় যে সময় আসলেই পেছনে ফিরে গিয়েছে বরং এটি একটি বিশেষ কোয়ান্টাম ইন্টারফেয়ারেন্স বা তরঙ্গের উপরিপাতন জনিত ফলাফল। গবেষক স্টেইনবার্গের মতে এই প্রক্রিয়ায় তরঙ্গের সামনের অংশটি এমনভাবে বিন্যস্ত হয় যার ফলে তরঙ্গের চূড়া বা পিক অংশটি স্বাভাবিক সময়ের আগেই সীমানা অতিক্রম করে ফেলে যা আমাদের পরিমাপ যন্ত্রে ঋণাত্মক সময় হিসেবে ধরা দেয়।
বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, এই ঘটনার মাধ্যমে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব বা আলোর গতির সীমা লঙ্ঘিত হয়নি। কারণ এই নেগেটিভ টাইম কেবল তরঙ্গের আকৃতি পরিবর্তনের একটি গাণিতিক প্রকাশ মাত্র যেখানে কোনো বাস্তব তথ্য বা সিগন্যাল আলোর চেয়ে দ্রুত ভ্রমণ করতে পারে না। সহজভাবে বললে কোয়ান্টাম জগতের নিয়মগুলো আমাদের চেনা বাস্তব জগতের মতো কাজ করে না। এই পরীক্ষাটি আমাদের দেখিয়ে দেয় যে, অতি ক্ষুদ্র কণিকারা কিভাবে আমাদের চেনা সময়ের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। প্রকৃতির এই রহস্যময় আচরণগুলো সঠিকভাবে বুঝতে পারা এবং পরিমাপ করতে পারা আধুনিক বিজ্ঞানের জন্য একটি বিশাল সাফল্য।
১
১ মন্তব্য