সহকারী অধ্যাপক
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:০৪ অপরাহ্ণ
ভুলবুঝাবুঝি - মোঃ মুজিবুর রহমান
ভুলবুঝাবুঝি
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ভুলবুঝাবুঝির কাঁটাতারে জড়ায় প্রাণের সেতু,
অকারণ কষ্টের জ্বালায় জ্বলে দিবারাত্রি রতু।
চব্বিশ ঘণ্টা মনখানি রয় অশান্ত ব্যথার ঘরে,
অভিমানের ঘন মেঘ নামে নীরব চোখের নীরে।
কথা ছিল স্নেহের নদী, হলো কেনো বিষাদধারা?
অল্প কথায় বড় দূরত্ব—ভাঙে হৃদয়-পাড়া।
যে শব্দ ছিল ফুলের মতো, হলো কেন তীর?
একটুখানি ভুল বোঝাতে জমে শত শত নীর।
তবু এ পথ শেষ নয় মোটে, আছে ফেরার দিশা—
নিজের ভুলও হতে পারে—এই হোক প্রথম দীক্ষা।
দোষ স্বীকারের সাহস রাখো, নত করো অহংকার,
ক্ষমার ভাষা সেতু গড়ে, মুছে দেয় অন্ধকার।
প্রতিপক্ষের মতের মাঝে রাখো শ্রদ্ধার স্থান,
ভিন্ন সুরেও লুকিয়ে থাকে সত্যের মধু গান।
শুনতে শেখো, বুঝতে শেখো, দাও হৃদয়ের মান,
অন্যের চোখে দেখলে তবে জাগে সমাধান।
কঠিন কথা গলুক ধীরে সহমর্মী আলোয়,
মনের ক্ষত সেরে উঠুক ভালোবাসার ছায়ায়।
আলাপ হোক শান্ত স্বরে, হোক না সত্য প্রকাশ,
দুইটি প্রাণে মিলুক আবার আস্থার নতুন আভাস।
ভুল স্বীকারে ক্ষতি নেই, বাড়ে কেবল মান,
নম্রতায়ই টিকে থাকে সম্পর্কের সম্মান।
যে ঘরে আছে বোঝাপড়া, সে ঘর স্বর্গসম,
সত্য-ক্ষমা-সহনশীলতায় থাকে প্রেম অম্লান অনুপম।
এসো তবে অহংকারের দেয়াল করি ভাঙ,
ভালোবেসে ফিরিয়ে আনি সম্পর্কের রাঙা রাঙ।
ভুলবুঝাবুঝি হোক অবসান, জাগুক হৃদয়-সেতু,
সততা আর সম্মানে গড়ি সুখের নব নীতু।
***
ভুলবুঝাবুঝির বিষবাষ্পে ঢাকে সম্পর্ক-আকাশ,
অকারণ যাতনার আগুনে জ্বলে দিন-রজনী নিশ্বাস।
চব্বিশ ঘণ্টা মনপ্রান্তরে কাঁটার মতো ব্যথা,
নিঃশব্দ অশ্রু ঝরে পড়ে, জ্বলে অন্তরগাথা।
কথা ছিল নির্মল নদী—স্বচ্ছ স্রোতের ধারা,
অল্প ভুলে হলো কেন তা প্রলয়ের অন্ধকারা?
শব্দ ছিল শিউলি-ফুল, সুবাসে ভরা প্রাণ,
অহংকারের কঠিন শিলে ভেঙে গেল সেই গান।
অভিমানের ঘন মেঘে ঢাকে আস্থার দীপশিখা,
অল্প সন্দেহে দাউদাউ করে জ্বলে ভুলের দাহিকা।
দূরত্ব বাড়ে অকারণে, জমে বরফ-প্রাচীর,
দুইটি হৃদয় দাঁড়িয়ে থাকে নিঃসঙ্গতার নীর।
তবু হে মন! এ পথের শেষে আছে আলোর দিশা,
অহংকার নয়—নম্রতায়ই জাগে মুক্তি-দীক্ষা।
নিজেরও ভুল হতে পারে—এই জ্ঞান হোক মূল,
দোষ স্বীকারে ভাঙে বন্ধন, মুছে শতেক ভুল।
স্বীকারোক্তির সৎ সাহসে দীপ জ্বালে অন্তর,
ক্ষমার বাণী সেতু গড়ে দু’কূলে একাত্ম ঘর।
নত কণ্ঠে বলা “আমি ভুল”—মহৎ সেই উচ্চারণ,
এই বিনয়ে জাগে আবার সম্পর্কের পুনর্জাগরণ।
প্রতিপক্ষের মতের মাঝে লুকায় সত্য-রাশি,
ভিন্ন ভাবেই ফুটে ওঠে জ্ঞানের নূর-আভাসী।
শ্রবণ শেখো, ধৈর্য ধরো, দাও মর্যাদার স্থান,
অন্যের চোখে বিশ্ব দেখলে বদলায় জীবন-জ্ঞান।
সংলাপ হোক শান্ত স্বরে, হোক যুক্তির আলাপন,
কঠিন হৃদয় নরম হয়ে জাগুক স্নেহ-স্পন্দন।
সহমর্মিতার সুধাধারায় ধুয়ে যাক সব ক্ষত,
আস্থার বৃক্ষে নতুন কুঁড়ি ফুটুক অবিরত।
ভুল স্বীকারে ক্ষয় নয়, বরং বাড়ে মান,
নম্রতায়ই টিকে থাকে ভালোবাসার প্রাণ।
যে ঘরে আছে বোঝাপড়া, সম্মান আর ধৈর্য,
সে ঘরে সুখের দীপ জ্বলে—দূরে সরে সর্বদৈর্য।
এসো তবে ভাঙি আমরা অহংকারের প্রাচীর,
ক্ষমা-সত্য-শ্রদ্ধায় গড়ি প্রেমের দৃঢ় স্থাপত্য স্থির।
ভুলবুঝাবুঝির রাত পেরিয়ে উঠুক প্রভাত-সূর্য,
সম্মান-সহিষ্ণুতার শপথে হোক সম্পর্ক সুদৃঢ়।
দিবারাত্রি যন্ত্রণার সেই অধ্যায় হোক শেষ,
নতুন করে লিখি তবে মিলনের মহাবেশ।
নিজ ভুল স্বীকার, পরের মতের মর্যাদা—
এই দুই ডানায় উড়ুক প্রেম—হোক চির-অবিনাশী সাধা।
৪
৬ মন্তব্য