প্রভাষক
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা - একটি ধারাবাহিক ও সমন্বিত প্রক্রিয়া
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হলো একটি ধারাবাহিক ও সমন্বিত প্রক্রিয়া, যার মূল লক্ষ্য প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং দুর্যোগের সময় ও পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল কাঠামো বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র মূলত চারটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত:
১. দুর্যোগ প্রশমন (Mitigation)
দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি কমানোর জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোই প্রশমন।
কার্যক্রম: মজবুত বাঁধ নির্মাণ, বনায়ন, দুর্যোগ সহনশীল ঘরবাড়ি তৈরি এবং ভূমি ব্যবহারের সঠিক পরিকল্পনা।
লক্ষ্য: দুর্যোগের তীব্রতা বা ক্ষতিকর প্রভাব স্থায়ীভাবে কমানো।
২. দুর্যোগ প্রস্তুতি (Preparedness)
দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই জানমাল রক্ষার জন্য যে পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়।
কার্যক্রম: আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, উদ্ধারকারী দলের প্রশিক্ষণ এবং জরুরি ত্রাণ মজুদ করা।
লক্ষ্য: দ্রুত ও কার্যকরভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করার সক্ষমতা তৈরি করা।
৩. দুর্যোগকালীন সাড়াদান (Response)
দুর্যোগ চলাকালীন বা দুর্যোগের ঠিক পরেই জীবন বাঁচাতে যে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কার্যক্রম: উদ্ধার অভিযান (Search and Rescue), আক্রান্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য সরবরাহ করা।
লক্ষ্য: তাৎক্ষণিক জীবন রক্ষা এবং ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন রাখা।
৪. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার (Recovery)
দুর্যোগের আঘাত কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রক্রিয়া।
কার্যক্রম: ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট মেরামত এবং দীর্ঘমেয়াদী ত্রাণ কর্মসূচি পরিচালনা করা।
লক্ষ্য: আক্রান্ত সম্প্রদায়কে দুর্যোগ-পূর্ববর্তী অবস্থায় বা তার চেয়ে ভালো অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া।
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এই সকল কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে।
১
১ মন্তব্য