Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

আন্দের্স সেলসিয়াস: যার নামে পৃথিবী মাপে গরম–ঠান্ডা!



রসায়ন বা পদার্থবিজ্ঞানের ক্লাসে আমরা প্রতিদিন যে “ডিগ্রি সেলসিয়াস (°C)” ব্যবহার করি, জানেন কি এর পেছনে আছেন এক সুইডিশ বিজ্ঞানী—Anders Celsius? ১৭০১ সালের ২৭ নভেম্বর সুইডেনের উপসালায় জন্ম নেওয়া এই জ্যোতির্বিজ্ঞানী মূলত নক্ষত্র ও পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের আকার নিয়ে গবেষণা করতেন। কিন্তু ইতিহাস তাকে সবচেয়ে বেশি মনে রেখেছে তাপমাত্রা মাপার স্কেল তৈরির জন্য।


সেলসিয়াস ১৭৪২ সালে এমন একটি তাপমাত্রা স্কেল প্রস্তাব করেন, যেখানে পানির স্ফুটনাঙ্ক ও হিমাঙ্ককে ভিত্তি ধরা হয়। মজার বিষয় হলো, প্রথমে তিনি ০° রেখেছিলেন পানির স্ফুটনাঙ্কে এবং ১০০° রেখেছিলেন হিমাঙ্কে! পরে এই স্কেল উল্টে দেওয়া হয়, যাতে ০° হয় হিমাঙ্ক এবং ১০০° হয় স্ফুটনাঙ্ক—যা আজ আমরা ব্যবহার করি “সেলসিয়াস স্কেল” নামে।


তিনি ছিলেন Uppsala University-এর অধ্যাপক এবং উপসালায় একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মানমন্দির স্থাপনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পৃথিবীর আকৃতি মেরু অঞ্চলে চ্যাপ্টা কিনা—এই বিতর্ক মেটাতে তিনি ল্যাপল্যান্ড অভিযানে অংশ নেন এবং পরিমাপের মাধ্যমে প্রমাণে সহায়তা করেন যে পৃথিবী মেরু অঞ্চলে সামান্য চাপা।


মাত্র ৪২ বছর বয়সে ১৭৪৪ সালে তার মৃত্যু হলেও, তার অবদান আজও বেঁচে আছে প্রতিটি থার্মোমিটারে। যখনই আমরা বলি “আজ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস”, তখন অজান্তেই আমরা এই বিজ্ঞানীর নাম উচ্চারণ করি।


একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হয়েও মানবজীবনের প্রতিদিনের প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া—এটাই আন্দের্স সেলসিয়াসের আসল সাফল্য। বিজ্ঞান কখনো শুধু ল্যাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে আমাদের প্রতিটি দিন, প্রতিটি অনুভূতিতে।


মন্তব্য করুন

ব্লগ