Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০১:৫৫ অপরাহ্ণ

বিসিএস ক্যাডার কি এসএসসি পাশ করে হওয়া যায় না?

"বিশেষায়িত ও টেকনিক্যাল ক্যাডার ছাড়া বিসিএসের শিক্ষাগত যোগ্যতা হওয়া উচিত এইচএসসি— এ প্রস্তাব ভেবেচিন্তেই করেছি। সব ক্যাডারের জন্য স্নাতক পাশ প্রয়োজন নেই। 


ধরা যাক কেউ পুলিশে যাবে। সে অনার্স-মাস্টার্সে সাত বছর নষ্ট করবে কেন? বরং ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেই ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিক। যে-সময়টা অপ্রাসঙ্গিক কেতাবি বিদ্যায় ব্যয় করবে, সে-সময়টা পুলিশ একাডেমিতে প্রাসঙ্গিক ডিসিপ্লিনে পড়াশোনা করুক। আইন, পুলিশিং, এথিক্স, ক্রিমিনোলজি, ক্রিমিনাল সাইকোলজি, এসব বিষয়ে পাশ কোর্স, অনার্স, মাস্টার্স, ও ডিপ্লোমা নিক। অসুবিধা কোথায়? যখন পাশ করে বের হবে, তখন যোগ্যতা অনুযায়ী সাব-ইনস্পেক্টর, ইনস্পেক্টর, ও এএসপি পদে নিয়োগ পাবে। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে থানা ও বিভিন্ন ইউনিটে যুক্ত থাকবে। এ প্রক্রিয়ায় মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে। মিলিটারিতে এই প্র্যাক্টিস আছে। ছেলেমেয়েরা এইচএসসি পাশ করে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করছে। প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনার পর অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পাচ্ছে। 


প্রশাসন, ট্যাক্স, পররাষ্ট্র, এমন নন-টেক ক্যাডারগুলোতেও তাই করতে হবে। ছয় বছর রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে একটি ছেলে ট্যাক্স ক্যাডারে কেন যাবে? কী দরকার চিকিৎসাবিজ্ঞান ও অ্যাকাউন্টিংয়ে অর্ধযুগ নষ্ট করে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যাওয়ার? বরং এ সময়টা ক্যাডার-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করুক। এইচএসসি দিয়ে পররাষ্ট্রে ক্যাডেট হিসেবে যাক, গিয়ে তিন-চার বছর ডিপ্লোম্যাসি, আন্তর্জাতিক আইন, ব্যবহারিক ইংরেজি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, এ বিষয়গুলোয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আহরণ করুক। পরীক্ষা দিয়ে ডিগ্রি ও সনদ নেবে, যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়ন হবে।


সিভিল সার্ভিস একাডেমিও প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে, সকল ক্যাডারের জন্য, যেখানে নতুন ক্যাডেটকে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বুয়েটের ছাত্র আর্কিটেকচারে জীবন পুড়িয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যাচ্ছে, এটি সময়নাশকারী, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়। ক্যাডার সার্ভিসগুলো যে অদক্ষ মানুষ দিয়ে ভরা, এর প্রধান কারণ, নিয়োগপ্রাপ্তরা জ্ঞান আহরণ করে এক ডিসিপ্লিনে, কিন্তু কাজ করে অন্য ডিসিপ্লিনে। 


এতে মনস্তাত্ত্বিক সংকট তৈরি হচ্ছে। এডাপ্টিবিলিটির লঙ্ঘন ঘটছে। একজন এমবিবিএস তরুণকে পুলিশিং করতে দিলে সাইকোলজিক্যাল বিপত্তি অনিবার্য। সারাজীবন নিজেকে প্রস্তুত করছি এক ক্যারিয়ারের জন্য, কিন্তু রাষ্ট্র বাধ্য করছে অন্য ক্যারিয়ারে ঢুকতে, এটি ট্র্যাজিক তামাশা। যিনি যে-কাজ ভালো জানেন, যে-বিষয়ে জ্ঞানী, তাকে সে-কাজ ও বিষয়ে ব্যস্ত রাখলে প্রোডাক্টিভিটি ও কর্মসুখ, দুটিই আশানুরূপ থাকে। রাষ্ট্রকে চাকরি সৃষ্টি করতে হবে এমনভাবে, যেন নিয়োগপ্রাপ্তরা চাকরিটি করে মজা পান, এবং আহরিত জ্ঞান কাজে লাগাতে পারেন।


রোমানদের সময় যারা সিভিল সার্ভিসে যেতো, ১৫-১৬ বছর বয়স থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতো। প্রথমে যেতো লিগাল ও মিলিটারি সার্ভিসে। এটি এন্ট্রি-লেভেল। তারপর ধীরে ধীরে, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণে ভর করে, যেতো প্রশাসনিক চাকরিতে। তিরিশ বছরে কোয়েস্তার, উনচল্লিশ বছরে প্রিটার বা ম্যাজিস্ট্রেট। চীনে তাং ও সং ডাইন্যাস্টির সময় ইম্প্যারিয়াল ইগজাম চালু ছিলো। নানা স্তরের চাকরির জন্য নানা স্তরের পরীক্ষা। প্রথম পরীক্ষাটি দেওয়া হতো আঠারো-উনিশ বছর বয়সে, এবং ঢোকা যেতো সিভিল সার্ভিসে। তিরিশ বছর ধরে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে ডিগ্রি নেওয়ার দরকার হতো না।


সুতরাং, বিসিএসে স্নাতক পাশ করে অংশ নেবেন কেবল তারা, যারা বিশেষায়িত টেকনিক্যাল ক্যাডার, যেমন— শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রাণীসম্পদ, প্রকৌশল, এসবে যোগ দেবেন। এতে হতাশা কমবে, বাড়বে কর্মদক্ষতা, বাঁচবে মূল্যবান ঘন্টা। মজবুত হবে সামাজিক নিরাপত্তা। কারণ তরুণ-তরুণীরা অকেজো ডিগ্রির পেছনে ছুটে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে পারছে না। ভুগছে অবসাদ ও অর্থ সংকটে। যাপন করছে মানবেতর জীবন। এটি চলতে দেওয়া যায় না। 

সংগ্রহ 

মন্তব্য করুন

ব্লগ