Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৪১ পূর্বাহ্ণ

ম্যাটার বনাম অ্যান্টিম্যাটার: মহাবিশ্বের প্রথম মহাযুদ্ধের ইতিহাস লিখছে কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম!


মহাবিশ্বের জন্মের ঠিক পরবর্তী মুহূর্তটি ছিল ইতিহাসের সবচাইতে বড় সংঘাতের সময়। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পরপরই সমান পরিমাণে পদার্থ বা ম্যাটার এবং প্রতি-পদার্থ বা অ্যান্টিম্যাটার তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যদি তাই হতো তবে তারা একে অপরকে স্পর্শ করা মাত্রই নিঃশেষ করে দিত একে অপরকে  এবং পুরো মহাবিশ্ব কেবল আলোক রশ্মিতে পরিণত হতো। কোনো গ্রহ নক্ষত্র বা মানুষের অস্তিত্ব থাকত না। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে অ্যান্টিম্যাটার বিলুপ্ত হয়ে গেলেও ম্যাটার টিকে যায় এবং আজকের এই দৃশ্যমান মহাবিশ্ব গঠিত হয়। কেন প্রকৃতির পাল্লা ম্যাটার বা পদার্থের দিকে ঝুঁকে পড়ল সেই রহস্য সমাধানে এবার এক বৈপ্লবিক সমাধান করেছে বিজ্ঞানীরা আর তা হলো কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম।


এই গবেষণার নেপথ্যে রয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিশেষজ্ঞ ডক্টর ক্রিস্টিন মুসচিক এবং তার সহযোগী গবেষক দল যারা ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলু এবং পেরিমিটার ইনস্টিটিউট ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সের গবেষণা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত। তারা এমন এক বিশেষ কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম তৈরি করেছেন, যা মহাবিশ্বের সেই আদিম মুহূর্তের জটিল মিথস্ক্রিয়াগুলো সিমুলেশন করতে সক্ষম।


প্রচলিত বা ক্লাসিক্যাল সুপারকম্পিউটারগুলো যেখানে পারমাণবিক কণার কোটি কোটি সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাইন প্রবলেম নামক গাণিতিক জটিলতায় থমকে যায় সেখানে এই কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম কিউবিটের সুপারপজিশন ক্ষমতা ব্যবহার করে এই বাধা অতিক্রম করতে পারে। গবেষক দল 'ল্যাটিস গেজ থিওরি' নামক এক জটিল গাণিতিক কাঠামোকে কোয়ান্টাম সার্কিটে রূপান্তর করেছেন, যা মূলত বিগ ব্যাং এর এক সেকেন্ডের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ পরের উচ্চ শক্তির পরিবেশে কণাগুলোর আচরণ হুবহু নকল করতে পারে।


এই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে গবেষকরা দেখার চেষ্টা করছেন কেন প্রকৃতিতে সি পি ভায়োলেশন বা চার্জ প্যারিটি প্রতিসাম্য লঙ্ঘিত হয়েছিল। সহজ ভাষায় বলতে গেলে পদার্থ এবং প্রতি-পদার্থের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে খুব সামান্য একটি পার্থক্য ছিল, যা কেবল কোয়ান্টাম স্তরেই ধরা সম্ভব। ডক্টর মুসচিকের এই পদ্ধতিটি ল্যাটিস ফিল্ড সিমুলেশন ব্যবহার করে দেখিয়েছে যে, কিভাবে আদি মহাবিশ্বের প্রবল তাপ ও চাপে পদার্থের পাল্লা সামান্য ভারী হয়ে গিয়েছিল। এই এক বিলিয়ন ভাগের এক ভাগ বাড়তি পদার্থই আজকের কোটি কোটি গ্যালাক্সি তৈরি করেছে।


এটি কেবল একটি তাত্ত্বিক জয় নয় বরং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ডার্ক ম্যাটারের রহস্য উন্মোচনের পথও প্রশস্ত হলো। কোয়ান্টাম প্রযুক্তির এই উৎকর্ষ আমাদের এমন এক অভাবনীয় ইতিহাসের সাক্ষী করছে।


মন্তব্য করুন

ব্লগ